×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

ভারতীয় উৎসবে গাঁধী থেকে বচ্চন

সুমিত ঘোষ 
মেলবোর্ন ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৫২
আকর্ষণ: ইয়ারা পার্ক সাজছে অমিতাভ বচ্চনের ছবিতেও। —নিজস্ব চিত্র।

আকর্ষণ: ইয়ারা পার্ক সাজছে অমিতাভ বচ্চনের ছবিতেও। —নিজস্ব চিত্র।

দিওয়ারের সেই ‘অ্যাংগ্রি ইয়ং ম্যান’ অমিতাভ বচ্চন।

মুঘল-এ-আজমের দিলীপকুমার, মধুবালা।

ববির ঝড় তুলে দেওয়া ড্রিমগার্ল ডিম্পল কাপাড়িয়া।

Advertisement

মেলবোর্নে ভারত-অস্ট্রেলিয়া বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে যে উৎসব শুরু হতে চলেছে, তাতে থাকছেন এঁরা সকলে। হয়তো শারীরিক ভাবে কেউ উপস্থিত থাকবেন না, কিন্তু থাকবে তাঁদের বিখ্যাত ফিল্মের চরিত্রগুলো।

মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ এমনিতেই ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে খুব বিখ্যাত ইভেন্ট। এক লাখ দর্শক উপস্থিতি থাকে। মনে করা হচ্ছে, এ বারের ১-১ হয়ে থাকা তীব্র সংঘর্ষপূর্ণ সিরিজের প্রথম দিনেও সেই পরম্পরার কোনও ব্যতিক্রম হবে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রিসমাস আর নিউ ইয়ারের আবহ এসেই পড়েছে। কোহালিদের টিম হোটেলের পাশটা সব চেয়ে কোলাহলময় এবং বিনোদনপূর্ণ বলে মনে হল। হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ইয়ারা নদীর তীর ধরে পর-পর সব পানশালা আর রেস্তরাঁ। সব জায়গাই ভিড়ে ঠাসা। ক্রিসমাসের পাঁচ দিন আগে থাকতেই প্রি-বুকিং ছাড়া সিট পাওয়া কঠিন। মেলবোর্নে এলে ভারতীয় ক্রিকেটারেরাও মাঝেমধ্যে তাঁদের পরিবার নিয়ে ইয়ারার তীর ধরে হাঁটতে বেরোন। অথবা এখানকার কোনও রেস্তরাঁয় লাঞ্চ বা ডিনার সারতে চলে আসেন। এ বারে বড়দিনের ভিড়ে বিরুষ্কাকেও আবিষ্কার করে ফেলা যেতে পারে।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দিকটায় গিয়ে আবার মনে হল, বক্সিং ডে ঐতিহ্যকে ছাপিয়ে নানা রকম সব উৎসবের আমেজ এসে পড়েছে। যেমন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ভিক্টোরিয়ার সরকার মিলে ‘ইন্ডিয়ান সামার ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজন করছে। আগামী রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর তার উদ্বোধন হবে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) লাগোয়া ইয়ারা পার্কে। পরিবার নিয়ে ক্রিকেট ভক্তরা সেখানে আসেন এবং সারা দিন ধরে গান, বাজনা-সহকারে বিনোদনমূলক সব অনুষ্ঠান চলবে। তার মধ্যেই সেরা আকর্ষণ হতে যাচ্ছে, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া— দু’দলের ক্রিকেটারেরা সেখানে এসে ফ্যানদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

আরও পড়ুন: রোহিত ওপেন করবেন কি না, সিদ্ধান্ত হয়তো বড়দিনে

রবিবার ইয়ারা পার্কে এসে কোহালিরা চমকে উঠতে পারেন সাজসজ্জা দেখে। সত্যিই ইন্ডিয়ান সামার এনে ফেলা হচ্ছে। কোহালির দলের সঙ্গে টিম পেনদের মাঠের মধ্যে যতই স্লেজিং সংঘাত চলুক, মাঠের বাইরে অন্য রকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এমসিজি-তে গিয়ে দেখা গেল, অস্ট্রেলীয় এবং ভারতীয় শিল্পীরা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন রবিবারের উৎসবের জন্য। ভারত থেকে শিল্পীদের একটি সংস্থাকে উড়িয়ে আনা হয়েছে। তাঁরা বিশাল সব মুরাল বানাচ্ছেন ইয়ারা পার্ক জুড়ে। গেটের মুখে সচিন তেন্ডুলকর। শুধু তিনি একা নন, থাকছে মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানও। যা সচিনের শহরের বহু খুদে ক্রিকেটারের আঁতুড়ঘর। ভারতীয় শিল্পীরা মাস্টারের পাশাপাশি মুম্বইয়ের ক্রিকেট সংস্কৃতিকেও তুলির টানে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন।

সচিনকে দেখার পরে ডান দিক ধরে এগোলেই পাওয়া যাবে ভারতীয় ফিল্মের কিংবদন্তিদের। অভিনব নামকরণও করা হয়েছে সেই বিভাগের— ‘ইন্ডিউড’। অর্থাৎ, ইন্ডিয়া ও বলিউড মিশিয়ে। সেখানেই চিরস্মরণীয় কতগুলি ভারতীয় ফিল্মের মুখ্য চরিত্রদের তুলে ধরা হয়েছে। দিওয়ারের অমিতাভ, মুঘল-এ-আজমের দিলীপ কুমার ও মধুবালা, ববির ড্রিম গার্ল ডিম্পল।

ফিল্মি বিভাগ ছেড়ে বাঁ দিক ধরে পার্কের মাঝখানে চলে আসুন। সুন্দর একটা মঞ্চ। চারদিকে কর্ডন করা। এই মঞ্চেই রবিবার দেখা যাবে দু’দলের ক্রিকেটারদের। ভাগ্য ভাল থাকলে মঞ্চ থেকে নেমে এসে ভক্তদের সেলফি এবং অটোগ্রাফও দেবেন তাঁরা। তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে কিং কোহালিকে নিয়ে। ইতিমধ্যেই সংগঠকদের কয়েক জনকে এমসিজি-তে দাঁড়িয়ে বলতে শোনা গেল, ‘‘কিং কোহালি এলে আলাদা রকম নিরাপত্তার আয়োজন করতে হবে। প্রচুর ভারতীয় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোহালিকে সামনে পাওয়া মানে তো তাঁদের কাছে হাতে চাঁদ পাওয়া।’’ তিন দিনের ছুটি কাটিয়ে রবিবারই প্র্যাক্টিসে ফিরবে ভারতীয় দল। শোনা যাচ্ছে, ‘ইন্ডিয়ান সামার ফেস্টিভ্যাল’-এর অনুষ্ঠান আগে থেকেই কথা বলে সব ঠিক করা রয়েছে। স্পনসরদের স্বার্থও রয়েছে এর মধ্যে। তারা চায় ভারতীয় তারকারা আসুন ইভেন্টে। তাই ইয়ারা পার্কের ভারতীয় উৎসবে কোহালিরা সকলে আসবেন বলেই ধরা হচ্ছে।

আর কোহালিরা যেখানে উদয় হবেন, সেই মঞ্চের ঠিক ডান দিকে একটু এগোলেই মহাত্মা গাঁধীর বিশাল অঙ্কন। শান্তির বার্তা দিচ্ছেন। ভারতে আধুনিক শিল্পকলায় বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘সেন্ট প্লাস আর্ট ইন্ডিয়া’ এবং মেলবোর্নের স্থানীয় নাইনটি ডিগ্রিসের যৌথ উদ্যোগে পার্ককে সাজানো হচ্ছে। রবিবার উদ্বোধন এবং টেস্টের প্রথম দু’দিন অর্থাৎ ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বরেও উৎসব চলবে। ভারতীয় সঙ্গীত, সংস্কৃতি, খাবার ও ফিল্মি উপাদানে জমজমাট ইন্ডিয়ান সামার!

ভারত থেকে আসা শিল্পী সাজিদ ওয়াজিদকে পাওয়া গেল পার্কেই। মুরালের কাজ চলছে। মুম্বইয়ে বসবাসকারী যুবক বললেন, ‘‘ক্রিকেট, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে মেশানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই কারণেই সচিন তেন্ডুলকর যেমন আছেন, তেমনই আছেন মহাত্মা গাঁধী। তেমনই রয়েছে ইন্ডিউড।’’

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বাইরে ভারতীয় গ্রীষ্মের আবহ তৈরি। বাকিটা এখন কোহালিদের হাতে। যদি এমসিজি-তে বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচে তাঁরা অ্যাডিলেডের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ধরাশায়ী করতে পারেন, তা হলে আর গ্রীষ্ম নয়। ভারতীয় বসন্তই এসে পড়বে!

Advertisement