ক্রিকেটের নিয়ম কি ভেঙেছেন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম? বাড়তি সুবিধা নিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ? নেপালের বিরুদ্ধে কঠিন সময়ে দেখা যায় সাজঘরে বসে ওয়াকি-টকিতে কথা বলছেন ম্যাকালাম। সেই সময় নেপাল জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত অবশ্য ৪ রানে হারে তারা। শেষ দিকে ওয়াকি-টকিতে কার সঙ্গে কথা বলছিলেন ম্যাকালাম, তা জানালেন দলের প্রাক্তন অধিনায়ক জস বাটলার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে ম্যাকালামকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাটলারকে। জবাবে তিনি বলেন, “ম্যাকালাম নিজে সফল অধিনায়ক ছিল। ও জানে, কঠিন সময়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সাপোর্ট স্টাফদের কাছে ও বার্তা পাঠাচ্ছিল। সেই বার্তা আমাদের কাছে আসছিল। ওর সঙ্গে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সম্পর্ক বেশ ভাল। ওদের বোঝাপড়া ভাল। তাই ম্যাকালামের বার্তা ব্রুক বুঝতে পারছিল। আমাদের জয়ের নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে কোচের।”
বাটলারের মতে, ম্যাকালাম চাইলে কিছু না-ও বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি খেলার মধ্যে এতটাই ঢুকে থাকেন, যে এক জায়গায় আরাম করে বসে থাকেন না। বাটলার বলেন, “ও কিছু ক্ষণের জন্য ওয়াকি-টকি ব্যবহার করেছিল। আমার মনে হয়, ম্যাকালাম আরাম করে বসে থাকতে পারত। সেটা না করে ও আমাদের বার্তা পাঠিয়েছে। এটা থেকেই বোঝা যায়, ও কতটা খেলার মধ্যে থাকে। দলের জয়ের নেপথ্যে এই রকম কোচের বড় ভূমিকা থাকে।”
আরও পড়ুন:
বাটলারের কথা থেকে স্পষ্ট, ম্যাচ যখন কঠিন পরিস্থিতিতে ছিল, তখন ম্যাকালাম পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনায় বদল করেছেন। কাকে বল দিতে হবে, কোথায় ফিল্ডার থাকবে সেই পরামর্শ সাপোর্ট স্টাফদের মাধ্যমে দলের কাছে পাঠিয়েছে। তাতে শেষপর্যন্ত ৪ রানে তাঁরা জিতেছেন।
ম্যাকালামের ওয়াকি-টকি ব্যবহার নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বিতর্কও শুরু হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের কোনও নিয়ম ভাঙেননি তিনি। কোচেরা চাইলে মাঠে বার্তা পাঠাতেই পারেন। সেটা সাজঘর থেকে ইশারায় তাঁরা করতে পারেন, বা কোনও ক্রিকেটারকে মাঠের ভিতরে পাঠিয়ে। জলপানের বিরতিতে চাইলে কোচ নিজেও মাঠে ঢুকতে পারেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে ভারতের ইনিংস চলাকালীন মাঠে গিয়েছিলেন গম্ভীরও। সুতরাং ম্যাকালাম ক্রিকেটের কোনও নিয়ম ভাঙেননি। সাজগরে বসে বসে প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন তিনি।