থার্ড আম্পায়ারের এ সব সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? বিতর্ক থামেনি আজও
থার্ড আম্পায়ারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও থামেনি বিতর্ক। কখনও থার্ড আম্পায়ারের একটা সিদ্ধান্তেই বদলে গিয়েছে ম্যাচের রং। কখনও বা তার ফলে দাঁড়ি পড়েছে দলীয় বা ব্যক্তিগত রেকর্ডে। এমন কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দিকেই এক বার নজর দেওয়া যাক।
থার্ড আম্পায়ারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও থামেনি বিতর্ক। কখনও থার্ড আম্পায়ারের একটা সিদ্ধান্তেই বদলে গিয়েছে ম্যাচের রং। কখনও বা তার ফলে দাঁড়ি পড়েছে দলীয় বা ব্যক্তিগত রেকর্ডে। এমন কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দিকেই এক বার নজর দেওয়া যাক।
২০০৭-’০৮ সালে টিম ইন্ডিয়ার অস্ট্রেলিয়া সফরটা বোধহয় বিতর্কের জন্যই মনে রাখবেন অনেকেই। পারথে প্রথম টেস্টে হারার পর ব্রিজবেনে এক সময় অজিদের ১৩৪ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায়। তবে সপ্তম উইকেটে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস-ব্র্যাড হগের জুটি ক্রিজে জমে যান। দু’দলের মধ্যে টেনশন শুরু হয় সাইমন্ডসের একটি আউটের আবেদন ঘিরে।
সাইমন্ডস তখন ব্যাট করছেন। অনিল কুম্বলের বাউন্সি বল অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে ভিতরের দিকে সামান্য ঘোরে। সাইমন্ডস ক্রিজের বাইরে পা বাড়াতেই এমএস ধোনি তাঁর উইকেট উড়িয়ে দেন। অনেকেরই মনে হয়, স্টাম্পিংয়ের সময় সাইমন্ডের পা শূন্যে উঠেছিল। তবে কুম্বলেদের আবেদনে নাকচ করে দেন থার্ড আম্পায়ার। সে ম্যাচ হেরে যায় ভারত।
সালটা ২০১১। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরেছিল এমএস ধোনির দল। দ্বিতীয় টেস্টে ৬৭ রানের লিড নেয় ভারত। এর পর ৫৭ রানে ইংল্যান্ডের ২ উইকেট ফেলে দেন ভারতীয়রা। তবে সেখান থেকে সেঞ্চুরি করে দলকে টেনে তোলেন ইয়ান বেল। এর পর চা-বিরতির আগে ওভারের শেষ বলে ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।
৬৬তম ওভারের শেষ বলে ইশান্ত শর্মার বল বাউন্ডারির দিকে পাঠান অইন মর্গ্যান। রান নেওয়ার পর চা-বিরতির জন্য প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটতে থাকেন তাঁরা। সে সময় বেলের উইকেট ভেঙে দেন ভারতীয়রা। থার্ড আম্পায়ার আউট দিলেও বিরতির পর বেলকে ডেকে নেন ধোনি। ধোনি প্রশংসিত হলেও তা নিয়ে বিতর্ক কমেনি। যদিও ভারত সে টেস্ট হেরেছিল।
আরও পড়ুন:
২০১৩-র অ্যাশেজ সিরিজ। ইংল্যান্ডের মাটিতে তৃতীয় টেস্ট। প্রথম দুটো টেস্ট হারার পর মরিয়া অজিরা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিজে ছিলেন উসমান খোয়াজা ও ক্রিস রজার্স। গ্রেম সোয়ানের প্রথম পাঁচটা বলই দুর্দান্ত ছিল। তবে ষষ্ঠ বলেই খোয়াজাকে আউটের আবেদনে শুরু হয় বিতর্ক।
উসমান খোয়াজাকে পরাস্ত করে গ্রেম সোয়ানের একটা ঘুরন্ত বল। মাঠের আম্পায়ার তাতে আউট দেন। থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ হন খোয়াজা। হটস্পটে কোনও প্রমাণ মেলেনি। ডিআরএস-এ সে সময় স্নিকোমিটার ব্যবহৃত হত না। দ্বিধায় পড়ে যান থার্ড আম্পায়ার। শেষে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে মতো খোয়াজাকে আউট দেন। ওই ম্যাচ ড্র হলেও বিতর্ক থামেনি।
২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের ওয়ান ডে ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার ৩১০ রান তাড়া করতে গিয়ে শুরুটা ভালই করেছিল ইংল্যান্ড। ১৮তম ওভারেই একশোর গণ্ডি পার করেন অইন মর্গ্যানরা। ক্রিজে তখন বেন স্টোকস। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে বেশ ভালই রান তুলছেন। তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ফিরে যান তিনি।
মাইকেল স্টার্ক তাঁর পঞ্চম ওভারের বল করছেন। চতুর্থ বলটি ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে করেন স্টার্ক। সেটি মেরে স্টার্কের কাছেই পাঠান স্টোকস। ক্রিজের বাইরে চলে এলে উইকেট লক্ষ্য করে বলটি ছোড়েন স্টার্ক। ক্রিজে ফিরতে গিয়ে স্টোকস বলটি বাঁ-হাত দিয়ে আটকাতে যান। ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার অজিদের আবেদনে আউট হন স্টোকস।
আরও পড়ুন:
২০১৫-র নভেম্বর। গোলাপি বলে দিন-রাতের ঐতিহাসিক টেস্ট। নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডিলেডে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২০২ রান তুলতে পেরেছিলেন কিউয়িরা। এর পর ১১৬ রানে অজিদের ৮ উইকেট ফেলে দেন কিউয়ি বোলাররা। নেথান লায়নের আউটের আবেদন ঘিরে হয়েছিল বিতর্ক।
মিচেল স্যান্টনারের বল সুইপ করতে গেলে লায়নের ব্যাটে ও কাঁধে লেগে তা শূন্যে উঠে। ক্যাচ নেন স্লিপ ফিল্ডার। মাঠের আম্পায়ার তা নাকচ করেন। থার্ড আম্পায়ারের কাছে আবেদনের পর হটস্পটে দেখা যায়, ব্যাটে বল লেগেছে। হাঁটাও দেন তিনি। তবে থার্ড আম্পায়ার জানান, উপযুক্ত প্রমাণ নেই। ফলে লায়ন আউট নন।