Advertisement
E-Paper

বৃষ্টিতে মাটি ব্যারেটো-মর্গ্যান দ্বৈরথ

গত কয়েকদিন ধরেই ভারী বর্ষার জেরে জল কাদায় মাঠের পরিস্থিতি বেহাল হয়ে পড়েছে। ঘাস বেড়ে উঠেছে। এক দিনের মধ্যে মাঠের হাল ফেরানো সম্ভব নয়। বৃষ্টির এই পরিস্থিতিতে ধুয়ে গেল হোসে র‌্যামিরেজ ব্যারেটো এবং ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের দ্বৈরথ।

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৬ ০১:১৩
মাঠ পরীক্ষা করে দেখছেন ভাইচুং ভুটিয়া। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

মাঠ পরীক্ষা করে দেখছেন ভাইচুং ভুটিয়া। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

গত কয়েকদিন ধরেই ভারী বর্ষার জেরে জল কাদায় মাঠের পরিস্থিতি বেহাল হয়ে পড়েছে। ঘাস বেড়ে উঠেছে। এক দিনের মধ্যে মাঠের হাল ফেরানো সম্ভব নয়। বৃষ্টির এই পরিস্থিতিতে ধুয়ে গেল হোসে র‌্যামিরেজ ব্যারেটো এবং ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের দ্বৈরথ।

আগামী ২৯ জুলাই বাঘাযতীন অ্যাথলেটিক ক্লাব একাদশের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করলেন আয়োজকদের অন্যতম তথা নর্থবেঙ্গল বোর্ড ফর ডেভেলপমেন্ট অব স্পোর্টস অ্যান্ড গেমসের চেয়ারম্যান ভাইচুং ভুটিয়া। ভাইচুং বলেন, ‘‘শিলিগুড়িতে গত কয়েকদিনে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। যা গত ২০ বছরে হয়নি। সে কারণে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় ফুটবলারদের চোট-আঘাত লাগতে পারে। সেটা আমরা কেউই চাই না। তাই ম্যাচ বাতিল করা হল।’’

বুধবার বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাইচুং, মাঠের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক, প্রাক্তন ফুটবল তারকা ব্যারেটো মাঠ পরিদর্শন করে জানান, এক দিনের মধ্যে মাঠ ঠিক করে ওই প্রদর্শনী ম্যাচ করানো সম্ভব নয়। ২৯ ডিসেম্বরে স্থানীয় একাদশের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তুতি ম্যাচ তাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাইচুংয়ের কথায়, ‘‘ব্যারেটোও জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাবের খেলা মাঠের এই পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভব নয়।’’

এই ম্যাচ ঘিরে শিলিগুড়ির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। কারণ আয়োজক ভাইচুং ভুটিয়ার আহ্বানে এই ম্যাচে মিনিট কুড়ি খেলার জন্য সম্মতি জানিয়েছিলেন কলকাতা ময়দানের সবুজ তোতা হোসে র‌্যামিরেজ ব্যারেটো। চার বছর আগে ২০১২ তে শেষ বার সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শেষ বার ম্যাচে নেমেছিলেন ব্যারেটো। ‘সি’ লাইসেন্স করতে এই মুহূর্তে শিলিগুড়িতেই রয়েছেন একদা ইস্টবেঙ্গলের ত্রাস এই ব্রাজিলিয়ান। শিলিগুড়ির ফুটবল মহলে তাই এই ম্যাচকে বলা হচ্ছিল ‘ব্যারেটো ভার্সাস মর্গ্যান এগেইন’। ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ অনেকেই।

হতাশ ব্যারেটোও। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ম্যাচটা খেলতে পারলে খুব ভালই লাগত।’’ ব্যারেটোর মতোই লাল-হলুদ কোচ মর্গ্যানের প্রতিক্রিয়া, ‘‘কলকাতা লিগ শুরুর আগে এই ম্যাচে কয়েক জন ফুটবলারকে দেখে নিতে পারতাম। তা হল না। একই সঙ্গে ব্যারেটোর মতো বন্ধুর সঙ্গে দেখাও হবে না। লিগ শুরুর আগে কলকাতায় যদি কোনও প্র্যাকটিস ম্যাচ করানো যায় দেখা হচ্ছে।’’

অন্য দিকে বাঘাযতীন একাদশের সঙ্গে কেন ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ করানো হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিবেকানন্দ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিলয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বড় ক্লাবের সঙ্গে ম্যাচ খুব বেশি খেলার সুযোগ এ দিকে হয় না। যখন সুযোগ আসছে তখন বিভিন্ন দলগুলিকে নিয়ে শিবির করে ভাল ফুটবলারদের নিয়ে টিম বানালেই ভাল হত। তাতে উত্তরবঙ্গ একাদশের সঙ্গে খেলা হলে বিভিন্ন জেলার উঠতি ফুটবলার, ফুটবল প্রেমীরাও উৎসাহী হতেন।’’ অনেকের অভিযোগ, বাঘা যতীন ক্লাবের ফুটবল টিমে বাইরের অনেক ফুটবলারও খেলে। ভাইচুং অবশ্য মনে করেন এভাবে বিষযটিকে দেখা ঠিক নয়। বাঘা যতীন অ্যাথলেটিক ক্লাব এ বার ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলবে। পরবর্তীতে অন্য ক্লাবও সুযোগ পাবে। তারা ভাল খেলছে। একবার লিগ চ্যাম্পিয়ানও হয়েছে। অন্য দলগুলিও চেষ্টা করবে ভাল খেলার। তাতে সুস্থ প্রতিয়োগিতা হবে। বাঘা যতীন ক্লাবের সম্পাদক শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ক্লাবের খেলা দেখে ভাইচুংয়ের ভাল লেগেছে। তিনিই এই প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার জন্য আমাদের জানিয়েছেন। আমরা খুবই উৎসাহী।’’

তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত পরিবেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচের আয়োজন করার সঠিক পরিকাঠামো নেই কেন সেই প্রশ্নও উঠেছে।

Football match
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy