বুধবার ডুরান্ড কাপ সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কলকাতার তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহমেডান থাকলেও কোথাও নেই ডায়মন্ড হারবার এফসি-র নাম। অথচ গত মরসুমে রানার্স হয়েছিল তারা। এ বার ডায়মন্ড হারবারকে বাদ দিয়েই হবে প্রতিযোগিতা।
রাজ্যে সরকার বদলের পর ডায়মন্ড হারবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাবের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এখনও অনুশীলনই শুরু করতে পারেনি। একাধিক ফুটবলার ক্লাব ছেড়েছেন। গত মরসুমের আইএফএল জিতে আইএসএলের যোগ্যতা অর্জন করেছে ডায়মন্ড হারবার। সেখানেও তাদের খেলা নিয়ে জটিলতা রয়েছে।
গত মরসুমের ফাইনালে ওঠা দল পরের মরসুমে খেলছে না, এমনটা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি ডুরান্ড কাপে। ডায়মন্ড হারবারের কর্তা আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, “ডুরান্ডের তরফে আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। কোনও ই-মেলও আসেনি আমন্ত্রণ জানিয়ে। তাই কেন নেওয়া হল না তা বলতে পারব না। এটা সেনাবাহিনীর প্রতিযোগিতা। তাই সিদ্ধান্তটা ওদের। আমাদের এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।”
গত বারের রানার্স হয়েও এ বার ডুরান্ডে না ডাকায় কোনও ক্ষোভ নেই? আকাশের জবাব, “রাগ করে কী হবে। যারা প্রতিযোগিতার আয়োজক তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তো জোর করে খেলতে পারি না। ওদের মনে হয়নি ডাকার কথা, তাই ডাকেনি।”
ডায়মন্ড হারবারকে না ডাকা নিয়ে আয়োজকদের কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তও চলছে। তাই বিতর্ক না বাড়াতে ডায়মন্ড হারবারকে ছাড়াই ডুরান্ড কাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডুরান্ডের তরফে এ নিয়ে কিছু বলার থাকলে তারা প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেবে বলে শোনা গিয়েছে। তবে সে সম্ভাবনা বেশ কম।
উল্লেখ্য, মাস খানেক আগে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছিলেন, ডায়মন্ড হারবার ক্লাবের গঠন এবং কার্যকলাপ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে সরকারের কাছে। নিশীথ বলেছিলেন, “ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সঠিক নিয়ম মেনে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি ক্লাব চালানোর অর্থ কোথা থেকে আসে, কোথায় অর্থ খরচ করা হয় তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ক্লাবের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন নিশীথ। পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে ক্লাবের স্পনসরদেরও তলব করা হতে পারে। নিশীথের কথায়, “আলোচনার জন্য স্পনসরদের ডাকা হতে পারে। কোথা থেকে ক্লাব চালানোর টাকা আসছে, কী ভাবে টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে তা দেখা হবে।”
ডায়মন্ড হারবার যে মাঠে অনুশীলন করে, বিধাননগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সেই মাঠ জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগও জমা পড়েছিল। নিশীথ বলেছিলেন, “দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সব প্রকাশ্যে আনা হবে।”
আরও পড়ুন:
এ বারের ডুরান্ড কাপে আইএসএল, আই লিগ, সামরিক বাহিনীর একাধিক দল ছাড়াও অংশ নেবে কয়েকটি বিদেশি দল। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর ফুটবল দল ডিফেন্ডার্স এফসিও খেলবে। ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান রয়েছে একই গ্রুপে। সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স, সাউথ এফসি ইউনাইটেডের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে কলকাতার দুই প্রধান। কবে দুই প্রধান মুখোমুখি হবে, তা অবশ্য জানা যায়নি। ডুরান্ডের গ্রুপ বিন্যাস সম্পন্ন হলেও সূচি প্রকাশ করেননি আয়োজকেরা।
মনে করা হচ্ছে, কলকাতা ডার্বি নিশ্চিত করতেই ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানকে এ বার এক গ্রুপে রাখা হয়েছে। গত বছর ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল লাল-হলুদ এবং সবুজ-মেরুন শিবির। ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ডার্বি আরজি কর কাণ্ডের জেরে বাতিল হয়ে যায়।