Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

ধোনির ঠান্ডা মাথাটা নিক কোহলি

নতুন কোচ হোক ভারতের কেউ, বললে আমিও রাজি

প্রিয়দর্শিনী রক্ষিত
কলকাতা ৩০ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৪৮
প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে দেখা দেবের সঙ্গে। সল্টলেকের মাঠে দিলীপ বেঙ্গসরকর। বুধবার। ছবি: কৌশিক সরকার।

প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে দেখা দেবের সঙ্গে। সল্টলেকের মাঠে দিলীপ বেঙ্গসরকর। বুধবার। ছবি: কৌশিক সরকার।

প্রশ্ন: কলকাতা আপনার অন্যতম প্রিয় শহর বলছিলেন।

বেঙ্গসরকর: একদম। এই শহরটার সঙ্গে আমার দারুণ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আর ইডেন! ওখানেই আমার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। অধিনায়ক হিসেবেও ইডেনে আমার সেঞ্চুরি আছে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে ইডেন সব সময় আমার কাছে পয়া মাঠ।

কলকাতা শহরটাকেও ভীষণ ভাল লাগে কারণ বাংলা আর মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি অনেকটা এক রকম। আমরা সবাই মাছ খেতে খুব ভালবাসি! তাই এখানে এলে মনে হয় বাড়িতেই আছি। আর বাঙালি খাবার তো দারুণ লাগে। সব রকমের মাছ তো আছেই, তার পর চিংড়ি, কষা মাংস, লুচি। কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা বলি।

Advertisement

প্র: আপনি তো বেশ ঝরঝরে বাংলাও বলেন। টান নেই একদম।

বেঙ্গসরকর: না, না। অত ভাল জানি না। কয়েকটা শব্দ বলতে পারি শুধু।

প্র: আপনার এক সময়কার সতীর্থ কীর্তি আজাদ আনন্দবাজারের বিশেষ কলামে লিখেছেন, আইপিএল হল ‘নচ্ছার’ একটা টুর্নামেন্ট। আপনারও কি তাই মত?

বেঙ্গসরকর: একদম না। আমার তো মনে হয় আইপিএল খুব ভাল ফর্ম্যাট। খুব এক্সাইটিং ফর্ম্যাট। আর আইপিএল থেকে ভারতীয় বোর্ড যা উপার্জন করছে, তাতে দেশেরই লাভ। রাজ্য সংস্থাগুলো সাহায্য পাচ্ছে। কত ক্রিকেটারের রুটি-রোজগারের ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রাক্তন বয়স্ক ক্রিকেটাররা পেনশন পাচ্ছেন। আগেকার দিনে তো ক্রিকেটে টাকা ছিল না। কত লোকে সারা জীবন খেলেও সে রকম রোজগার করতে পারেননি। তার পর আগেকার দিনে ছোট ছোট রাজ্যের ক্রিকেটাররা সে ভাবে স্বীকৃতিই পেত না। কিন্তু এখন কত ছোট শহর আর রাজ্য থেকে ক্রিকেটার তুলে আনছে আইপিএল।

ক্রিকেটেরও সার্বিক ভাবে সাহায্য করছে আইপিএল। ফিল্ডিংয়ের মান অসম্ভব বাড়িয়ে দিয়েছে। রান তাড়া করার ব্যাখ্যাটা পাল্টে দিয়েছে। তার পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সুযোগ কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে ভাবুন। আগে ওরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলা দূরে থাক, দেখাও করতে পারত না। সেখানে এখন প্রত্যেকটা টিমে বড় বড় বিদেশি নাম। ভারতীয়রা যখন চাইছে ওদের সঙ্গে কথা বলছে, টিপস নিতে পারছে, এক ড্রেসিংরুমে থাকছে। আমি তো বলব হালফিলে বিদেশে ভারতের এই যে ভাল পারফরম্যান্স, তার অন্যতম কারণ আইপিএল। এখান থেকে প্লেয়াররা অভিজ্ঞতা পেয়েছে, নানা পরিস্থিতিতে খেলার সাহস পেয়েছে।

প্র: আইপিএলে আপনার প্রিয় টিম কোনটা?

বেঙ্গসরকর: সে ভাবে কোনও টিম নেই। আইপিএলে সব টিমই এক মানের। নিজের দিনে যে কোনও টিম যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে।

প্র: মুম্বই এখন লিগ টেবলে নীচের দিকে। দেখলে খারাপ লাগে না?

বেঙ্গসরকর: নাহ। ওটা তো আমাদের রাজ্যের টিম নয়। টিমের নামেই যা মুম্বই শব্দটা আছে!

প্র: আইপিএলে কার খেলা টাকা দিয়ে দেখবেন?

বেঙ্গসরকর: ক্রিস গেইল দুর্দান্ত। আমাদের বিরাট কোহলি আছে, ধোনি আছে। এবি ডে’ভিলিয়ার্সও দারুণ। কিন্তু একটাই ব্যাপার, টি-টোয়েন্টির নিয়ম খুব বেশি ব্যাটসম্যান ঘেঁষা। বোলাররা শুধু আসে, বল করে, মার খায় আর ফিরে যায়। এটা নিয়ে কিছু না করলে ভবিষ্যতে কেউ বোলারই হবে না।

প্র: ডানকান ফ্লেচারের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতের জাতীয় কোচ কার হওয়া উচিত?

বেঙ্গসরকর: অতি অবশ্যই ভারতীয় কেউ। যারা ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না তাদের সঙ্গে যে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারবে। ভারতীয় মনন বুঝতে পারবে। অনূর্ধ্ব উনিশ, ইন্ডিয়া ‘এ’ প্লেয়ারদের চিনবে। বিদেশি কোচেরা তো পনেরো জনের স্কোয়াডটাকে ট্রেনিং দিয়ে ফিরে যায়। তাতে দেশের ক্রিকেটের উন্নতিটা হয় কোথায়? ওরা তো জানতেই পারে না ওদের হাতে কী কী বিকল্প আছে।

প্র: সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে এই যে কমিটি হল, সেটা নিয়ে কী মনে করেন? ক্রিকেট প্রশাসনে কি আরও বেশি প্রাক্তন ক্রিকেটার রাখা দরকার?

বেঙ্গসরকর: নিঃসন্দেহে দরকার। এটা নিয়ে কোনও প্রশ্নই থাকতে পারে না। জগমোহন ডালমিয়া দক্ষ প্রশাসক। আমাদের দেশের অন্যতম সেরা। উনি সব সময় ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভেবেছেন। আমি নিশ্চিত এখনও সেরা পথটাই বেছে নেবেন।

প্র: আসন্ন বাংলাদেশ সিরিজ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কোহলির প্রথম সিরিজ। ওঁকে কী পরামর্শ দেবেন?

বেঙ্গসরকর: কোহলি খুব ভাল ক্যাপ্টেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। আমি চাইব ও সফল হোক। কিন্তু ওকে রাগটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

প্র: ধোনির কোনও একটা জিনিস যদি কোহলিকে নিতে হয়, সেটা কী হওয়া উচিত?

বেঙ্গসরকর: ঠান্ডা মাথা। যেটা মিস্টার কুল ওকে ভাল ভাবেই শেখাতে পারবে!

প্র: ভারতীয় কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলে নেবেন?

বেঙ্গসরকর: হ্যাঁ, কাজটা আমার খুব পছন্দের। আমি চাই যে কোনও ভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে। সেটা কোচ হিসেবে হতে পারে, আবার নির্বাচক হয়েও হতে পারে।

প্র: শ্রীনিবাসন এখন কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেটের মূলস্রোতে ফেরার কথা ভাবছেন?

বেঙ্গসরকর: ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য আমি সব সময় নিজেকে ফাঁকা রেখেছি।

প্র: বোর্ডে এই যে ঝামেলা চলছে, এটা কি ক্রিকেটের পক্ষে ক্ষতিকারক?

বেঙ্গসরকর: এই ব্যাপারে কিছু বলা আমার উচিত হবে না। এ সব নিয়ে অত খবরও আমি রাখি না।

আরও পড়ুন

Advertisement