Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আবেগে কথা হারিয়ে যাচ্ছিল পৃথ্বীর

সাংবাদিক বৈঠকে এসে মজার মজার কথা বলছেন পৃথ্বী। চটপট প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বজয় করে সাংবাদিকদের সামনে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলেন ভা

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:৪৮
যুগলবন্দি: ভারতীয় দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের দুই তারকা। অধিনায়ক পৃথ্বী শ মাঠে নেমে খেললেন। নেপথ্যে সক্রিয় গুরু দ্রাবিড়। ছবি: পিটিআই

যুগলবন্দি: ভারতীয় দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের দুই তারকা। অধিনায়ক পৃথ্বী শ মাঠে নেমে খেললেন। নেপথ্যে সক্রিয় গুরু দ্রাবিড়। ছবি: পিটিআই

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চতুর্থ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিনে আনন্দের দু’রকম অভিব্যক্তি ভারতীয় কোচ এবং অধিনায়কের।

কোচ রাহুল দ্রাবিড় বললেন, ‘‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই সুখস্মৃতি যেন ছেলেদের জীবনের একমাত্র সাফল্য না হয়ে দাঁড়ায়। আগামী দিনে আরও বড় ও ভাল সাফল্য ওদের জীবনে আসবে। তার জন্য ওদের এগিয়ে যেতে হবে।’’

আর ভারত অধিনায়ক পৃথ্বী শ বলছেন, ‘‘প্রচুর সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরব। এই আনন্দ, আবেগের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দারুণ লাগছে।’’

Advertisement

এর আগে দেখা গিয়েছিল, সাংবাদিক বৈঠকে এসে মজার মজার কথা বলছেন পৃথ্বী। চটপট প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বজয় করে সাংবাদিকদের সামনে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলেন ভারত অধিনায়ক। কথায় কথায় বলছিলেন, ‘‘দারুণ ভাল লাগছে।’’ তার মধ্যেই কোনও মতে বলতে থাকেন, ‘‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমাদের অনেকের এটাই শেষ ম্যাচ। আজ অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসছে। কিন্তু আপনারা যদি কোনও একটা ঘটনাকে আলাদা করে বেছে নিতে বলেন, আমি পারব না। কারণ আমি কিছুই ভেবে উঠতে পারছি না। আমি নিজেকে বোঝাতে পারছি না।’’

আবেগাপ্লুত পৃথ্বী ধন্যবাদ দিচ্ছেন ভারতীয় সমর্থকদের। ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পরেও তাঁকে দেখা গিয়েছে ছবি তুলতে, সুভ্যেনির সই করতে। ফাইনাল নিয়ে পৃথ্বী বলছিলেন, ‘‘আমরা জানতাম, ২১৭ রানের লক্ষ্য এমন কিছু বড় নয়। তবে আমি ছেলেদের সতর্ক করে দিই, কোনও ভাবেই যেন হাল্কা ভাবে ব্যাপারটা দেখা না হয়। টিমকে মনে করিয়ে দিই, আমরা কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছি। সবাইকে বলি, মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, পার্টনারশিপ গড়তে হবে।’’

একই কথা ক্রিকেটারদের বলেন কোচ দ্রাবিড়ও। ম্যাচের সেরা মনজ্যোৎ কালরা বলছিলেন, ‘‘রাহুল স্যার আমাদের বলেছিলেন, ২০১৬ সালে একটা বাজে আউট আমাদের হারিয়ে দিয়েছিল। তাই এ বার আমরা খুব সতর্ক ছিলাম।’’

আনন্দের দিনেও কোচ দ্রাবিড় একা কৃতিত্ব নিতে নারাজ। বলছেন, ‘‘ছেলেদের সঙ্গে আমার সহকারীদের নিয়েও আমি সমান গর্বিত। গত চোদ্দো মাস ধরে সবাইকে নিয়ে যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা সফল হয়েছে বলা যায়।’’ একই সঙ্গে রাহুল এ দিন প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ অভয় শর্মা এবং বোলিং কোচ পরশ মামরে-কে। বলছেন, ‘‘গত চোদ্দো মাস ধরে এই দলটার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছে ওরা। ওদের অবদানও অনস্বীকার্য। ওদের জন্যও সমান গর্বিত। ছেলেদের সমস্ত সুবিধা, অসুবিধা খুঁটিয়ে নজর রেখেছে ওরা।’’

কোচের সঙ্গে তাঁর সহকারীদের তাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ধন্যবাদ দিচ্ছেন পৃথ্বীও। বলছেন, ‘‘রাহুল স্যার তো কিংবদন্তি চরিত্র। উনি আমাদের এই দলটার ‘দ্য ওয়াল’। একই সঙ্গে বলতে হবে সহকারী কোচদের কথাও। গত দু’বছর ধরে আমাদের সেরা পারফরম্যান্স বার করে আনার জন্য ওঁরাও দিন-রাত খেটেছেন টিমের সঙ্গে।’’ মুম্বইয়ের ওপেনার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন, ‘‘রাহুল দ্রাবিড় এবং পরশ মামরে—দু’জনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চুটিয়ে খেলেছেন। ফলে দলের সঙ্গে এই দু’জন থাকার উপকার পেয়েছি আমরা।’’ একই সঙ্গে তাঁর সতীর্থদেরও প্রশংসা করেছেন পৃথ্বী। ফাইনালের শতরানকারী ব্যাটসম্যান মনজ্যোৎ কালরা-র প্রশংসা করতে গিয়ে ভারত অধিনায়ক বলছেন, ‘‘দুর্দান্ত শতরান করল মনজ্যোৎ। আমাদের বোলারদের মধ্যে কমলেশ নাগরকোটি, শিবম মাভি এবং ঈশানও দুরন্ত পারফর্ম করল।’’

তবে দলের সকলেই সাফল্যের দিনে ভোলেননি তাঁদের ‘রাহুল স্যার’-কে। ঈশান থেকে শুভমান গিল সকলেই বলছেন, ‘‘আমরা ভাগ্যবান যে ‘রাহুল স্যার’-কে কোচ হিসেবে পেয়েছি। উনিই মাঠে বার করে এনেছেন আমাদের সেরাটা।’’

আরও পড়ুন

Advertisement