ভারতীয় টেস্ট প্র্যাকটিসে এত দিন রং বলতে ছিল জার্সির নীল আর বলের লাল। সোমবারের পর সেখানে যোগ হয়ে গেল আরও অনেক বর্ণ।
কখনও হলুদ, কখনও সবুজ, কখনও আবার কমলা।
এবং বিরাট কোহালিদের নেটে এই রামধনু আমদানির পিছনে রয়েছেন ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার। আরও ভাল করে বললে, তাঁর অভিনব থিওরি।
নাম: কালার কোডেড ড্রিল। লক্ষ্য: নানা পরিস্থিতিতে, নানা ডেলিভারির সামনে ব্যাটসম্যানের পরীক্ষা নেওয়া। এবং তাঁদের উপস্থিত বুদ্ধিও ঝালিয়ে নেওয়া।
মুম্বইয়ের নেটে বাঙ্গার এ দিন যেটা করছিলেন সেটা হল, কখনও বিরাট তো কখনও অজিঙ্ক রাহানের দিকে নানা রঙের বল ছুড়ে দেওয়া। ক্রিকেট বল নয়, রবারের রঙিন সব বল। মোট পাঁচটা রঙের। যে বলগুলোর প্রত্যেকটায় এক-এক রকম কাজ ‘অ্যাসাইন’ করে রেখেছেন বাঙ্গার।
লাল মানে, ফুল লেংথ ডেলিভারি আসবে। যেটার কাছে এসে শট খেলা প্র্যাকটিস করতে হবে।
নীল মানে, ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে মিড অফের দিকে খেলতে হবে। শুধু তাই নয়, এই বলটা এলে বিরাট কোহালিদের বিশেষ নজর দিতে হবে ফুটওয়ার্কের দিকে।
হলুদ বল মানে, এ বার অন ড্রাইভ মারো।
কমলা বল এলে সুইপ শট। এবং খেয়াল রাখা, পিছনের হাঁটুটা যেন মাটি ছুঁয়ে থাকে।
সব শেষে সবুজ বল, এবং বিরাট কোহালিদের মাঠ পার করে দেওয়ার হাতছানি।
‘‘এ রকম প্র্যাকটিস করানোর পিছনে প্রধান লক্ষ্য ছিল বাউন্সের মোকাবিলা করা। রবারের বল বেশি বাউন্স করে, তাই এগুলো ব্যবহার করছি,’’ প্র্যাকটিস চলাকালীন বোর্ড ওয়েবসাইটকে বলেছেন বাঙ্গার। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ফাস্ট বোলিং হল সাহসের খেলা। কিন্তু স্পিন খেলতে গেলে প্রতিভা দরকার। সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তো আছেই। সঙ্গে হালকা হাতে ডিফেন্স করানোর প্র্যাকটিসও করাচ্ছি।’’
বাঙ্গার নিজেই ব্যাটসম্যানদের এক এক রঙের বল ছুড়ে দিচ্ছিলেন এ দিন। ‘‘প্রতি বার আলাদা আলাদা রঙের বল ছুড়ছি। এক-একটা বলে এক-এক রকম কাজ অ্যাসাইন করা আছে। যেগুলো ব্যাটসম্যানদের সব রকম পরীক্ষা নেবে। কমলা বলটা যেমন ডিফেন্ড করা কঠিন,’’ বলছেন বাঙ্গার।
দিনকয়েকের ছুটি কাটিয়ে এ দিনই প্র্যাকটিসে ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া। এবং তারা যেখানে সিরিজে ২-০ এগিয়ে, সেখানে এই অভিনবত্বের বিলাসিতা তাদেরই মানায়।