Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

চন্দননগরে অকাল হোলি

ঈশানের বাবাকে নিয়ে শোভাযাত্রা

প্রকাশ পাল ও তাপস ঘোষ
চন্দননগর ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:০০
জয়োল্লাস: ঈশানের সাফল্যে বাবা চন্দ্রনাথ পোড়েলকে কাঁধে তুলে শোভাযাত্রা। —নিজস্ব চিত্র।

জয়োল্লাস: ঈশানের সাফল্যে বাবা চন্দ্রনাথ পোড়েলকে কাঁধে তুলে শোভাযাত্রা। —নিজস্ব চিত্র।

সতীর্থদের হাত থেকে তিনি ট্রফিটা নিতেই গর্জে উঠল ভিড়টা— ওই তো ঈশান!

চন্দননগরের রথের সড়কের কাছে সম্বলা শিবতলায় ঈশানের পাড়ার ক্লাবঘরে টিভির সামনেটা তখন যেন মাঠের গ্যালারি! এ ওকে জড়িয়ে ধরছেন। কেউ নাচছেন। কেউ চিৎকার করছেন। কেউ বা ঈশানকে ফোনে ধরার চেষ্টা করছেন!

শনিবার সাতসকালে সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন ঘরের ছেলেটাই। অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন চন্দননগরের ভূমিপুত্র ঈশান পোড়েল। এর পর থেকে আর ম্যাচে ফিরতেই পারেনি অজিরা। টিভির সামনে বসে চন্দননগর দেখেছে, ঈশানের আগুনে স্পেল।

Advertisement

অস্ট্রে‌লিয়াকে হেলায় হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হতেই দুপুরে রাস্তায় নেমে এল গোটা পাড়া। আবির উড়ল, ব্যান্ডপার্টি বাজল, চলল মিষ্টিমুখ। ঈশানের ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে স্ট্র্যান্ডে এগোল শোভাযাত্রা। ছেলে-বুড়ো থেকে মহিলা— কে নেই ভিড়ে!

আনন্দে চোখ থেকে জল গড়াচ্ছিল ঈশানের মা রিতাদেবীর। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন, ‘‘আজ চোখের সামনে রূপকথা বাস্তব হল। ওকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো চন্দননগরের মহারাজ হয়ে উঠুক আমার ঈশান।’’

এই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই গ্রুপ লিগের ম্যাচে বল করতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল চন্দননগরের ডানহাতি পেসারকে। চোট সারিয়ে ফিরে আসেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সেমিফাইনালে ৪ উইকেট নিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের। ফাইনালেও শুরুতেই বিপক্ষকে ঝাঁকিয়ে দিলেন তিনি।

ঈশানের মতোই তাঁর বাড়ির লোকজনও ঈশ্বরভক্ত। খেলার শুরু থেকেই দোতলায় টিভির সামনে বজরঙ্গবলি এবং সাঁইবাবার পুজোর ফুল রেখে দেওয়া হয়েছিল। বাবা-মা, দিদিমা এবং দুই বোন খেলা দেখেছেন সেখানে। আশপাশের বাড়ির লোকজনও দেখেছেন ঈশানের অস্ট্রেলিয়া-বধ। ভারত জয়ের রান তুলে ফেলতেই পড়শিরা ভিড় জমান ঈশানের বাড়িতে। সামনের সরু গলি ছাড়িয়ে স্থানীয় ক্লাবের মাঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় সেই ভিড়। উৎসবের প্রস্তুতি সারাই ছিল। শুরু হয়ে যায় অকাল হোলি। আবির খেলার মাঝেই কেউ ড্রাম বাজাচ্ছেন, কেউ বা আনন্দে থালা পেটাচ্ছেন। দুই তরুণীকে দেখা গেল ঈশানের বিশাল কাট-আউটে চুমু খাচ্ছেন। পথচলতি মানুষকেও মিষ্টিমুখ করানো হয়।

ঈশানের বাবা চন্দ্রনাথবাবু জানান, খেলার পরে ছেলে ফোন করেছিল। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ঘণ্টা দুই হুল্লোড় চলেছে। মেতেছিলেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও। ৬ বা ৭ তারিখে চন্দননগরে ফিরবেন ঈশান। চোট সারিয়ে ফিরে ছেলের সাফল্যে বাবা গর্বিত। আর মায়ের চিন্তা, কয়েক দিন ছেলের ভাল ঘুম হয়নি। বাড়ি ফিরেও কি একটু বিশ্রাম পাবে? ইতিমধ্যে ছেলের জন্য পছন্দের চকলেট জমিয়ে ফেলেছেন তিনি।

চন্দননগর স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বামাপদ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সংস্থার তরফে ওঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’’ আর পাড়ার স্নেহা দাস, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়রা বলছেন, ‘‘ছেলেটা ফিরুক। আমরাও ভরিয়ে দেব।’’

ঈশানের অপেক্ষায় চন্দননগর।

আরও পড়ুন

Advertisement