প্রায় নিখুঁত একটা পারফরম্যান্স দেখতে পেলাম ভারতীয় দলের কাছ থেকে। পাকিস্তানের ওপর এ রকম আধিপত্য দেখিয়ে জয় পাওয়াটা অবশ্য প্রত্যাশিত ছিল। ব্যাটসম্যানদের পেশিশক্তি প্রদর্শনীর পরে বোলাররা ওদের প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম আসল খেলায় তুলে আনল। ভারতের আধিপত্য এতটাই বেশি ছিল যে, বৃষ্টির জন্য মাঝে মাঝে খেলা বন্ধ হলেও ছন্দ নষ্ট হয়নি। এ রকম একটা বিশাল জয়ের পরে কিন্তু বিরাট কোহালিদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের প্রথম চার জনই রান পেল। প্রত্যেকেই খুব ভাল খেলেছে। কিন্তু যুবরাজ সিংহ যে ভাবে ব্যাট করল, সেটা আমার দারুণ লেগেছে। ও খুব ভাল টাচে ছিল। প্রায় তিন সপ্তাহ বাদে ও ব্যাট হাতে নামল, কিন্তু একটুও অস্বস্তিতে ছিল না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শটগুলো খেলছিল। আগেও দেখেছি, এই আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোয় যুবরাজ ওর সেরাটা বার করে নিয়ে আসে। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ওর স্ট্রোক প্লে দেখে আমি অন্তত অবাক হইনি।
যুবি যখন রবিবার ব্যাট করতে নেমেছিল, ভারত মোটামুটি ভাল জায়গাতেই ছিল। কিন্তু মোটামুটি ভাল স্কোর থেকে ম্যাচ জেতানো একটা স্কোরে তখনও দলকে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারটা ছিল। যুবরাজ নেমেই সেই কাজটা শুরু করে দিল। বোলারদের যে ভাবে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে মারছিল, দেখে সেই পুরনো যুবরাজকে মনে পড়ে যাচ্ছিল। এমনকী প্রথম দিকে বিরাট কোহালির ওপর থেকেও চাপটা ও সরিয়ে নেয়। শুরুতে বিরাটের টাইমিং নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। সেই সময় যুবরাজের ইনিংস বিরাটকে ক্রিজে সেট হওয়ার সময় দেয়। যুবরাজের ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল, ও অনেক দিন লম্বা নেট সেশন করার পরে যেন ব্যাট করতে নেমেছে। এতটাই আধিপত্য নিয়ে খেলছিল।
আরও পড়ুন: এই হার কষ্টের, বলছেন ইমরান খান
নিজের স্বাভাবিক স্ট্রোকগুলো যখন যুবরাজ মারতে থাকে, তখনই বোঝা যায় ও সেরা ফর্মে আছে। কোনও রকম জড়তা দেখা যায়নি যুবরাজের ইনিংসে। আরও একবার বোঝা গেল, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার কতটা প্রয়োজন আছে। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে থাকার সময় দেখেছিলাম, যুবরাজ কতটা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামছে। সে রকম স্বাধীনতা নিয়েই ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নামল। এটা কিন্তু ভারতের পক্ষে একটা খুব ভাল খবর। যুবরাজ হল সেই এক্স ফ্যাক্টর, যাকে প্রত্যেকটা দল চায়। অতীতে দেখা গিয়েছে, যত বার কোনও টুর্নামেন্টে যুবরাজ শুরুটা ভাল করেছে, পুরো টুর্নামেন্ট ধরেই দারুণ খেলেছে।
আরও একটা ব্যাপার আমার ভাল লেগেছে। ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের নমনীয়তা। বিশেষ করে যে ভাবে হার্দিক পাণ্ড্যকে ডেথ ওভারে ধোনির ওপরে তুলে আনা হল। মাস্টার স্ট্রোক ছিল ওটা। হার্দিক একেবারে প্রথম বল থেকেই বিগ শট খেলতে পারে। পাকিস্তান ম্যাচেও সেটা দেখিয়ে দিল।