মাসখানেক আগে মেদিনীপুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট-রাজ’-এর অভিযোগ করেছিলেন। শনিবার মেয়ো রোডের সভায় সেই ‘সিন্ডিকেট’ তিরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। এক ধাপ এগিয়ে টেনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তৃণমূল এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে।

সমাবেশে শাহ বলেন, ‘‘ক্ষমতায় এসে মমতাদিদি নারদ, সারদা, সিন্ডিকেট, ভাইপোর দুর্নীতি এবং দুর্নীতির সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন।’’ জবাবে তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রের পাল্টা দাবি, ‘‘দুর্নীতির যে অভিযোগ শাহ করেছেন, এক দিনের মধ্যে তাঁকে তার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’’ তৃণমূল আরও বলে, ‘‘শাহের মুখে দুর্নীতি মানায় না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কিছু বলার আগে নিজের অতীতের দিকে তাকান।’’

কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা-ও শাহ-পুত্রের সংস্থার ফুলেফেঁপে ওঠা নিয়ে সরব হন। বলেন, ‘‘নিজের ছেলের এমন দুর্নীতি থাকতে, শাহ কী ভাবে অন্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন।’’

সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বাংলায় দুর্নীতি, সিন্ডিকেট সীমাহীন, এ কথা ঠিক। কিন্তু যাদের ‘শাহজাদা’ আছে, তাদের ভাইপো নিয়ে কথা বলা মানায় না।’’ সিপিএম নেতা অবশ্য সারদা ও নারদ মামলায় সিবিআইয়ের ‘ঢিলেমি’র দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।

আরও পড়ুন: বঙ্গপ্রেমী অমিত, কটাক্ষ তৃণমূলের

মেদিনীপুরের সভায় মোদী বলেছিলেন, উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র যে টাকা পাঠাচ্ছে, তৃণমূল তা সিন্ডিকেটে ব্যয় করছে। শাহ এ দিন পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, ‘‘ইউপিএ সরকার ত্রয়োদশ অর্থ কমিশনে পশ্চিমবঙ্গকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল। এনডিএ আমলে চতুর্দশ অর্থ কমিশন ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু সেই টাকার কোনও হদিশ নেই।’’ এর পরেই সভায় হাজির জনগণকে তাঁর প্রশ্ন— ‘‘আপনাদের গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে?’’ সভা চেঁচিয়ে ওঠে— ‘‘না।’’ শাহের পাল্টা কটাক্ষ— ‘‘কোথায় খরচ হল টাকা? সিন্ডিকেট আর ভাইপোর দুর্নীতিতে?’’

ভুয়ো অর্থ লগ্নি সংস্থা সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে এসেছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কিংবা সাংসদ পুনম মহাজনের বক্তৃতাতেও। সাম্প্রতিক কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত ‘দুর্নীতি’র প্রসঙ্গে পুনমের অভিযোগ, ‘‘৫ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।’’

শাহের আরও অভিযোগ, এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে জিডিপি ছিল ২৫%। কংগ্রেস, বাম আমলে তা কমেছে। এখন ৩%। তাঁর হুঙ্কার, ‘‘বাংলায় কোনও শিল্প নেই। গ্রামে গ্রামে অস্ত্র কারখানা। সারা দেশে অস্ত্র আর জঙ্গি রফতানি করছেন মমতাদিদি। আগে এখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যেত, এখন শুধুই বোমার শব্দ।’’