• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মাকালু জয় করে নামার পথে নিখোঁজ

dipankar
দীপঙ্কর ঘোষ

Advertisement

আবার শৃঙ্গ জয়। আবার হিমালয় থেকে দুঃসংবাদ এল ভোট-বাংলায়।

বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাকালু (৮৪৬৩ মিটার) অভিযানে গিয়ে খোঁজ মিলছে না পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের। বৃহস্পতিবার মাকালু শৃঙ্গে সফল আরোহণ করে ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরের আগেই (অর্থাৎ ৮০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায়) তুষারধসের মুখে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। দীপঙ্কর যে-সংস্থার সঙ্গে এই অভিযানে গিয়েছেন, তাদের কর্ণধার মিংমা শেরপা সংবাদ সংস্থাকে শুক্রবার জানান, যেখান থেকে ওই অভিযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন, সেখানে তল্লাশি চালিয়েও শেরপারা তাঁকে খুঁজে পাননি। কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ অভিযানে গিয়ে গত বুধবারেই মৃত্যু হয়েছে দুই বাঙালি অভিযাত্রীর।

বালির বাড়ি থেকে ৪ এপ্রিল মাকালুর উদ্দেশে রওনা হন দীপঙ্কর। শীর্ষে পৌঁছন বৃহস্পতিবার। আয়োজক সংস্থা সূত্রের খবর, ফেরার পথে গতি অনেকটাই কম ছিল তাঁর। ফলে দেরি হয়ে যায়। আবহাওয়ারও অবনতি হয়। তখনই তুষারধসে পড়েন তিনি। তার পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছে না। তাঁর সঙ্গে থাকা শেরপার দল এ দিন ক্যাম্প ফোরে নেমে এলেও ফিরতে পারেননি দীপঙ্কর। ২২ মে-র আগে দীপঙ্করের জন্য দক্ষ শেরপাদের নিয়ে উদ্ধারকারী দল পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা। একে আট হাজারি উচ্চতা, তায় উদ্ধারকাজে বিলম্ব। এই জোড়া সমস্যায় দীপঙ্করের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্বতারোহী মহলের একাংশ। তবে এ দিনই শৃঙ্গ জয় করে ভারতীয় সেনার ১৫ জনের একটি দল ক্যাম্প টু পর্যন্ত নেমে এলে তাদের কাছে দীপঙ্করের কোনও খবর মিলতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে।

বালির বেলানগর উত্তর জয়পুরবিলের বাসিন্দা দীপঙ্করের ভাইপো সায়ন ঘোষ শুক্রবার বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার সকালে শৃঙ্গজয়ের খবর পাই। এ দিন জানতে পারি, কাকা তুষারঝড়ের মুখে পড়ে দলছুট হয়ে পড়েছেন। তবে শুনছি, কাকার কাছে অতিরিক্ত একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। সেটাই ভরসা। কাকা ঠিক ফিরে আসবেন।’’

বেলানগরের বাড়িতে জেঠতুতো দাদার পরিবারের সঙ্গেই থাকেন অবিবাহিত দীপঙ্কর। বাবা-মা আগেই গত হয়েছেন। ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসায়ী দীপঙ্কর সময় পেলেই ছোটেন পাহাড়ে। ১৯৯২ সালে কুমায়ুন হিমালয় দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর পবর্তারোহণ পর্ব। এভারেস্ট (২০১১ সাল), কাঞ্চনজঙ্ঘা, ধৌলাগিরি, চো-ইউ, মানাসলু, লোৎসে মিলিয়ে ছ’টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর মুকুটে। এ বার ভারত-নেপাল মৈত্রী অভিযানের অংশ হিসেবে মাকালু অভিযানে গিয়েছেন দীপঙ্কর। তার জন্য তাঁকে মোটা টাকা ঋণও করতে হয়েছে বলে জানান আত্মীয়েরা। এ দিন দীপঙ্করের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘‘ওঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের সঙ্গেও কথা বলেছি। আশা করছি, ভাল খবরই আসবে,’’ বলেন মন্ত্রী।

এর আগে, ২০১৩ সালেও মাকালু অভিযানে গিয়েছিলেন দীপঙ্কর। কিন্তু পর্যাপ্ত দড়ি না-থাকায় শৃঙ্গের অল্প আগে থেকেই ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৭ সালে ধৌলাগিরি অভিযানে গিয়ে তুষারক্ষতের জন্য হাত ও পায়ের আঙুল বাদ যায়। তাতে অবশ্য তাঁর পাহাড়প্রেম এক চুলও কমেনি। পরের বছরেই আট হাজারি চো ইউ শৃঙ্গে অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।

সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দীপঙ্করের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। তবে পাহাড়ি পথে ‘মিরাক্‌ল’ বা অত্যাশ্চর্য কিছুর আশাও করছেন অনেকে। ঠিক ফিরবেন দীপঙ্কর, শৃঙ্গজয়ের ছবি দেখিয়ে শোনাবেন অভিযানের গল্প— আশায় বুক বাঁধছেন তাঁর আত্মীয়পরিজন।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন