রথযাত্রা শুরুর আগের দিনই বড়সড় হামলার মুখে রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কোচবিহার জেলার সিতাইতে সশস্ত্র হামলা হল তাঁর কনভয়ে। বাঁশ এবং লাঠির আঘাতে কনভয়ের সাতটি গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। আক্রান্ত হয়ে তৃণমূলের তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তৃণমূল অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার কোচবিহার শহর থেকে শুরু হওয়ার কথা বিজেপি-র রথযাত্রা। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের আসার কথা কোচবিহারে। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কোচবিহার। বৃহস্পতিবার রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও পৌঁছে গিয়েছেন জেলায়। কোচবিহার শহর থেকে এ দিন তিনি যাচ্ছিলেন মাথাভাঙায় ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মভিটে দর্শনে। পথ সিতাই মোড়ে আক্রান্ত হয় দিলীপের কনভয়।

দিলীপ ঘোষের মাথাভাঙা যাওয়ার পথে গোলমাল যে হতে পারে, তার আভাস প্রশাসনের কাছে ছিল। রাস্তায় পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার পরে দিলীপ জানিয়েছেন, সিতাই মোড়েই পুলিশ কম ছিল এবং সেখানেই হামলাটা হয়েছে। পরিকল্পনা মাফিকই সিতাই মোড়ে পুলিশের সংখ্যা কম ছিল বলে দিলীপবাবুর অভিযোগ।

 

 

আরও পড়ুন: বিজেপির রথযাত্রার আবেদন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট

হামলাকারীদের কারও কারও হাতে ছিল তৃণমূলের পতাকা। কারও হাতে ছিল কালো পতাকা এবং বাঁশ-লাঠি। দিলীপ ঘোষের কনভয় সিতাই মোড়ে পৌঁছতেই বাঁশ-লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। ভাঙচুর চালানো হয় একের পর এক গাড়িতে। বাইকে চড়ে যে বিজেপি কর্মীরা কনভয়ের সঙ্গে যাচ্ছিলেন, তাঁদেরও রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়।

হামলাকারীদের কারও কারও হাতে ছিল তৃণমূলের পতাকা। কারও হাতে ছিল কালো পতাকা এবং বাঁশ-লাঠি।

দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘সিতাই, শীতলখুচি, মাথাভাঙায় একটা মুক্তাঞ্চল তৈরি করেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটেও তাণ্ডব চালিয়েছে, কোনও বিরোধী দলকে মনোনয়ন জমা দিতে হয়নি। এ বার আমার গাড়িতে হামলা হল।’’ এই হামলার সময়ে পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও দিলীপের দাবি।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম ভুলিনি, মনে করালেন মমতা

তৃণমূল নেতা তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তাঁর দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ। তাঁর দাবি, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলা হয়েছে। উদয়ন গুহর কথায়, ‘‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন যে, বিজেপির এই সব কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনও গোলমালে না জড়াতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই নির্দেশ তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। কর্মীরা নেত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। সুতরাং দিলীপ ঘোষের কনভয়ে তৃণমূলের কেউ হামলা করেনি। ওঁদের নিজেদের কোন্দলেই এই ঘটনা ঘটেছে।’’

দিলীপ ঘোষের কনভয়ে হামলার জেরে কোচবিহার স্বাভাবিক তেতে উঠেছে। তবে হামলার আঁচ পৌঁছে গিয়েছে কলকাতাতেও। রাজ্য সভাপতির উপরে হামলার খবর পেয়েই কলকাতায় এ দিন বিক্ষোভে পথে নেমে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অবরোধের জেরে থমকে যায় মহানগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির যান চলাচল।

(রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রাইম - দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)