ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে প্রস্তুতির ঘণ্টা বাজিয়ে দিল স্বাস্থ্য ভবন। সরকারি স্তরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে বৈঠক করে তিন মাসের মধ্যে পরিকাঠামোগত ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে বলা হয়েছে। কলকাতার বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, গত বছর ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা নিম্নমুখী হলেও ২০১৭ সালের তুলনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৮ সালে ডেঙ্গি সংক্রমণের চরিত্রে বদল ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধে ফাঁকফোকর ঠেকাতে বুধবার পুর ও নগরোন্নয়ন, পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যসচিব রাজীব সিংহ। বৃহস্পতিবার বৈঠক করা হয় বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তা ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক দফতরের কর্তারা জানান, গত বছর দেখা গিয়েছিল, অনেক বস্তি এলাকায় শৌচাগারের অভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় নলকূপের চাতাল ভেঙে সেখানে জল জমে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। কোথাও আবার খোলা জায়গায় আবর্জনা জমে থাকার দৃশ্য। আগামী মে মাসের মধ্যে এই ধরনের পরিকাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন করে নিতে বলা হয়েছে জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাদের।

যন্ত্রপাতি, ল্যাব টেকনিশিয়ানদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে ডেঙ্গিরোগীরা যাতে হয়রানির শিকার না-হন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের। পরবর্তী ধাপে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও বৈঠকে ডাকা হবে।

ডেঙ্গির মোকাবিলায় একটি আদর্শ চিকিৎসাবিধির সুপারিশ করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। গত বছর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি হাসপাতাল এবং বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালে কী ভাবে ডেঙ্গিরোগীদের চিকিৎসা করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করেছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল। পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতির পরিমার্জন প্রয়োজন।