রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করল বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দেবশ্রী চৌধুরী, স্বপন দাশগুপ্ত, সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া, অর্জুন সিংহ এবং রাজু বিস্তা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার তাঁরা দেখা করেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। পরে ওই প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, রাজ্যে চলতে থাকা নৈরাজ্যের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে সবিস্তার অবগত করা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেএকের পর এক বিজেপি কর্মী খুনের বিষয়ও।

বিজয়া দশমীর দিন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিন জনকে খুনের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিজেপি অভিযোগ করছিল, রাজ্য জুড়ে গত দু’সপ্তাহে তাদের দলের মোট আট জন কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন। তার পরেই দলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিষয়টি রাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপও দাবি করা হবে। সেই মতো এ দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বিজেপির ওই প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন: জিয়াগঞ্জ কাণ্ডের কিনারা, ২৪ হাজার টাকার জন্য খুন, আততায়ী গ্রেফতার সাগরদিঘি থেকে
আরও পড়ুন:পাঁচ মিনিটে তিনজনকে কি একাই খুন করেছিল উৎপল? এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ

রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘‘বাংলায় নৈরাজ্য চলছে। রাজনৈতিক হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জন মারা গিয়েছেন। অথচ এই খুনগুলির জন্য কাউকে গ্রেফতার করেনি রাজ্যের পুলিশ।’’ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ দিনেরবৈঠক বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজেপির দাবি, নৈরাজ্যের এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নের মুখে বাংলার গণতন্ত্র। মুকুলের কথায়, ‘‘কৈলাস বিজয়বর্গীয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলায় বিজেপি কোমর বেঁধে লড়ছে বিরোধীদের সঙ্গে। লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮টি আসন পেয়েছে দল। অথচ তার পরেও জায়গায় জায়গায় বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, মার খাচ্ছেন জেলা সভাপতি,সাংসদরাও। বিজেপি নেতাদের অহেতুক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’