এত দিন মাঠে ময়দানে দলের কর্মসূচি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্য সিপিএমে নিজের পদটুকুও ছেড়ে দিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই সিপিএমের নতুন রাজ্য কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালেন শ্যামল চক্রবর্তী, মদন ঘোষ, দীপক সরকার, অসীম দাশগুপ্ত, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, বাসুদেব আচারিয়ার মতো এক ঝাঁক বর্ষীয়ান নেতা। মোট ২০ জন পুরনো নেতা বাদ গিয়ে নতুন মুখ এল ১৭। তা ছাড়াও, উপজাতি মহিলা মুখের জন্য একটি জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে রাজ্য কমিটিতে। এই রদবদলের পরে ‘বৃদ্ধতন্ত্রের পীঠস্থান’ বলে পরিচিত সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্যদের গড় বয়স দাঁড়াল সাড়ে ৫৭!

কলকাতায় দলের ২৫তম রাজ্য সম্মেলন থেকে ফের সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সূর্যকান্ত মিশ্রই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কমিটির গড় বয়স ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। জেলার পরে রাজ্যেও আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়েছি। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণেই কমিটি গড়ার চেষ্টা হয়েছে।’’ নতুন যুগের সঙ্গে তাল রাখতে নেতৃত্বের গড় বয়স যে আরও কমাতে হবে, তা-ও মেনে নিয়েছেন সূর্যবাবু।

আরও পড়ুন: তাণ্ডবের ক্ষতে প্রলেপ, মানিক-দুয়ারে বিপ্লব

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবু বেশ কিছু দিন ধরেই কলকাতার বাইরে দলের কোনও বৈঠকে আর যান না। আগেই দলের পলিটব্যুরো থেকে সরে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি এখন আমন্ত্রিত সদস্য। কিন্তু দলের রাজ্য কমিটি এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে নিয়মিত আলিমুদ্দিনের বৈঠকে যোগ দিতেন। এ বার সম্মেলন-পর্বের আগে তিনি সূর্যববাবুদের লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন, কোনও ভাবেই যেন তাঁকে নতুন রাজ্য কমিটিতে আর বিবেচনা করা না হয়। সূর্যবাবুর কথায়, ‘‘ওঁর ‘না’ মানে ‘না’-ই! এটাকেও আমরা কমিউনিস্ট সুলভ দৃঢ়তা বলে মনে করি। কমিউনিস্ট পার্টিতে কাজ থেকে অবসর হয় না। কিন্তু কমিটি থেকে প্রত্যেককেই এক দিন সরে দাঁড়়াতে হবে।’’

সিপিএমে এ বার সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য কমিটির সদস্য থাকতে গেলে বয়স হতে হবে ৭৫-এর মধ্যে। এই সূত্র মেনেই এ বার শ্যামলবাবু, মদনবাবু, বাসুদেববাবু বা কান্তিবাবুদের সরে যেতে হয়েছে। বুদ্ধবাবু, শ্যামলবাবুদের বিশেষ আমন্ত্রিত হিসাবে রাজ্য কমিটিতে ‘সম্মান’ দেখানো হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক সক্ষমতার কারণেই ৭৭ পেরিয়েও বিমান বসু ‘ব্যতিক্রম’ হিসাবে কমিটিতে থাকছেন। অসুস্থতার জন্য উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক পদ ছেড়ে দিলেও এ বারের ৮০ সদস্যের রাজ্য কমিটিতে নতুন মুখ হিসাবে এসেছেন সাংসদ বদরুদোজ্জা খান, কল্লোল মজুমদার, জামির মোল্লা, অনন্ত রায়, বিলাসীবালা সহিস, কণীনিকা ঘোষেরা। ফাঁকা রাখা একটি জায়গা ধরে কমিটিতে মহিলার সংখ্যা ১২।