চমকে যাবেন না। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে চুঁচুড়ায় গেলেই হাতে পেয়ে যাবেন রসগোল্লা। দু’-দু’টি!

কারণ, আজ ১৪ নভেম্বর। দু’বছর আগে এ দিনেই ‘জিআই’ (জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) স্বীকৃতি পায় বাংলার রসগোল্লা। সে জন্যই ‘রসগোল্লা উৎসব’-এ মেতেছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। মূল উৎসব হচ্ছে চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ে। বুধবার থেকেই শুরু হয়ে যায় মঞ্চ বাঁধার কাজ। এ ছাড়াও, জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান থেকে ক্রেতাদের মধ্যেও তা বিলি করা হবে। 

‘স্বতন্ত্র হুগলি জেলা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি’র সম্পাদক শৈবাল মোদক বলেন, ‘‘ঘড়ির মোড়ে দুপুর তিনটে থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে দু’ঘণ্টায় ২৫ হাজার রসগোল্লা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। জেলার নানা প্রান্ত থেকে মিষ্টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আসবেন।’’

কিন্তু ‘জিআই’ স্বীকৃতিপ্রাপ্তির দু’বছর পরে উৎসব কেন?

মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তখন সে ভাবে উদ্‌যাপন হয়নি। রসগোল্লা নিয়ে এ রাজ্যের কয়েকটি দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত জুলাইয়ে ওড়িশার রসগোল্লাও ‘জিআই’ তকমা পায়। দু’রাজ্যের একই মিষ্টির আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য উঠে আসে। ভুবনেশ্বরের এক বাসিন্দা বাংলার পেশ করা দাবির কয়েকটি দিক নিয়ে আপত্তি তোলেন। বিষয়টি চেন্নাইয়ে জিআই দফতর পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি বাংলার রসগোল্লা নিয়ে ওই আপত্তি সেখানে খারিজ হয়ে যায়। রাজ্য মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বৈদ্যনাথ দে জানান, রাজ্য সরকারের মৌখিক নির্দেশে বৃহস্পতিবার ‘রসগোল্লা দিবস’ পালন করা হচ্ছে। সব জেলাতেই মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে এই উৎসব পালন করবেন।

চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরের জিটি রোডের ধারের মিষ্টির দোকানি উত্তম কুণ্ডুর কথায়, ‘‘বাংলার রসগোল্লা খাঁটি গরুর দুধের ছানা দিয়ে তৈরি। কোনও সুগন্ধী ব্যবহার করা হয় না। চিনির রসে অবগাহন করে এর পেলবতাই অন্যরকম। ছেলে-বুড়ো সকলেই রসগোল্লার প্রেমে হাবুডুবু খান। আমরা এই রসগোল্লা নিয়েই ঘড়ির মোড়ে উপস্থিত থাকব। দিনটা আমাদের কাছে গর্বের।’’ শৈবালবাবুরা জানান, আজ অনেক দোকান থেকেও যেমন রসগোল্লা বিলি করা হবে, তেমনই অনাথ আশ্রম এবং বৃদ্ধাশ্রমেও রসগোল্লা দিয়ে আসা হবে। তবে, জেলা জুড়ে এমন আয়োজন হলেও প্রচারের তেমন জোড় নেই। ঘড়ির মোড়ে শুধু দু’-একটি ব্যানার চোখে পড়েছে। কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বিষয়টি এসেছে। সময়াভাবে তাঁরা সে ভাবে প্রচারে জোর দিতে পারেননি বলে মানছেন শৈবালবাবুরা।

জেলার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের দাবি, এক সময় দুধ কেটে গেলে তা ‘অশুভ’ মনে করা হত। ফেলে দেওয়া হত। এক শতকেরও আগে হুগলির ব্যান্ডেলে ছানার জন্ম। ‘ছিন্ন হওয়া দুধ’ বা ছানা থেকে রসগোল্লার উদ্ভব বাংলাতেই। পাড়ার কেউ বিয়েবাড়িতে বালতিভর্তি রসগোল্লা সাবাড় করতে পারেন, এমন কথা এক সময় লোকের মুখে মুখে ফিরত। এখন হয়তো ভোজন-রসিকদের সেই দিন গিয়েছে। কালের বিবর্তনে মিষ্টির বাজারে নতুন নতুন সম্ভার এসেছে। আমদানি হয়েছে ফিউশন-মিষ্টির। কিন্তু ‘আদি-অকৃত্রিম’ রসগোল্লা নতুনের মাঝেও বহাল তবিয়তেই জায়গা দখল করে রেখেছে।