রিসর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে চার যুবক। তাঁরা ফোন করে এক জনকে বললেন, ‘ওষুধ নিয়ে আসা হয়েছে। তা যেন এসে নিয়ে যাওয়া হয়।’ কিছু ক্ষণ পরে এক ব্যক্তি বাইরে আসতেই ওই চার যুবক ঘিরে ধরলেন তাঁকে। বেশ খানিক ক্ষণ কথা বলার পরে তাঁকে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে রওনা দিলেন ওই যুবকেরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভোরে বীরভূমের শান্তিনিকেতনের কাছে একটি রিসর্টের বাইরে। ওই যুবকেরা আসলে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ অফিসার। গাড়িতে নিয়ে আসা ওই ব্যক্তি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা ভিবজিওর-এর অন্যতম ডিরেক্টর রবীন্দ্রনাথ দে। তাঁকেই রিসর্টের সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভিবজিওর থেকে ফ্ল্যাট কেনা সংক্রান্ত একটি প্রতারণার মামলায় বারুইপুর ক্রেতা সুরক্ষা আদালত রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসিকে ওই গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধৃতকে বুধবারই কলকাতায় নিয়ে এসে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। সরকারি কৌঁসুলি স্নেহাংশু ঘোষ জানান, ধৃতকে এক দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে ধৃতকে আজ, বৃহস্পতিবার বারুইপুর ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতের বিরুদ্ধে বারুইপুর ক্রেতা সুরক্ষা আদালত ছাড়াও কৃষ্ণনগর ক্রেতা সুরক্ষা আদালতও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ওই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছিল আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসিকে। কারণ রবীন্দ্রনাথের বাড়ি আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার কালীদাস সিংহ লেনে। এর পরেই তদন্তকারীরা দেখেন, দীর্ঘদিন তিনি ওই বাড়িতে থাকেন না। জানা যায়, শান্তিনিকেতনের কাছে একটি রিসর্টে দীর্ঘদিন ধরে থাকছেন। কিন্তু সেখান থেকে বাইরে খুব একটা বার হন না। এক তদন্তকারী অফিসার জানান, এর পরেই সেখানে ঘাঁটি গাড়েন চার জন। বুধবার ভোরে ওষুধ নিয়ে আসার টোপ দিয়ে এক পরিচিতের মাধ্যমে ফোন করা হয় অভিযুক্তকে। বেরিয়ে আসতেই তাঁকে আটক করা হয়।’’

আদালত সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা বা ফ্ল্যাট না দেওয়ায় মাস দুয়েক আগে বারুইপুর ক্রেতা সুরক্ষা আদালত ভিবজিওর সংস্থার ডিরেক্টর রবীন্দ্রনাথ দেকে অভিযুক্ত করে। তাঁকে গ্রেফতার করে ওই আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেয় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসিকে। কিন্তু তিনি সেটি কার্যকর না করায় গত ১৬ মার্চ ওই আদালত ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পুলিশ জানিয়েছিল, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা তারা পায়নি। পরে গত ২ এপ্রিল অবশ্য আদালতে ওই নির্দেশ ফিরিয়ে নিয়ে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসিকে দায়িত্ব