চতুর্থ দফায় ৪৯০ কোম্পানি বাহিনী বাংলায়
২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। ১৫ হাজার ২৭৯টি বুথের ৯০ শতাংশে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পরিকল্পনা করেছে কমিশন।
Central Forces

ছবি: সংগৃহীত

পর্ব থেকে পর্বান্তরে ভোট যত এগোবে, সেই অনুযায়ী রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়বে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই চতুর্থ দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ৪৯০ কোম্পানি বাহিনী নামাতে চলেছে তারা। 

২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। ১৫ হাজার ২৭৯টি বুথের ৯০ শতাংশে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। ওই দফার নির্বাচনের জন্য প্রথমে ৩২৩ কোম্পানি আধাসেনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে তার সঙ্গে আরও ৬০ কোম্পানি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। ফলে তা দাঁড়ায় ৩৮৩ কোম্পানিতে। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১০৭ কোম্পানি। সব মিলিয়ে ৪৯০ কোম্পানি। এই বাহিনী বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব পেয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় ভি নায়েকের মতামত। বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা থাকছে তাঁর।

চতুর্থ দফায় বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বর্ধমান-পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বোলপুর এবং বীরভূম কেন্দ্রে ভোট হবে। তৃতীয় দফায় মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুরের নির্বাচন হলেও দক্ষিণবঙ্গের নির্বাচন শুরু হচ্ছে চতুর্থ দফাতেই। যা আদতে শাসক দল তৃণমূলের খাসতালুক বলে অভিমত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সেই জন্য সেখানে অবাধ ভোটে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা বিরোধী শিবিরের। তাই চতুর্থ দফার নির্বাচনে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।

রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘কমিশন প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিদিনই দিল্লি থেকে আরও বাহিনী আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ-পর্যন্ত আটটি কেন্দ্রে ৪৯০ কোম্পানি আসার খবর মিলেছে, শেষ দু’দিনে আরও বাড়তে পারে।’’

কমিশন সূত্রের খবর, তৃতীয় দফায় ৩২৪ কোম্পানি আধাসেনা আসার কথা থাকলেও এক কোম্পানি বাহিনী আসতে পারছে না। পরের দফায় এখান থেকে ৩১৮ কোম্পানি বাহিনী চতুর্থ দফার জন্য চলে যাবে। ছয় কোম্পানি বাহিনী রাখা হচ্ছে ইভিএমের পাহারার জন্য। তৃতীয় দফার সঙ্গে আরও ১৭২ কোম্পানি বাহিনী অন্য রাজ্যের ভোট শেষে বাংলায় চলে আসবে। রাজ্যের হাতে আসা ৪৯০ কোম্পানির মধ্যে কমিশন নয় কোম্পানি বাহিনীকে চতুর্থ-পঞ্চম দফার টহলের কাজে লাগানো হবে। পুরোপুরি ভোটের কাজ করবে ৪৮১ কোম্পানি। যা ব্যবহার করে ৯০ ভাগ বুথেই আধাসেনা দেওয়া সম্ভব হবে বলে কমিশনের দাবি। কমিশন সূত্রের খভর, চতুর্থ দফায় আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটে ৭৭, বীরভূমে ১১১, বহরমপুরে ৬০, নদিয়ায় ১১৪ এবং বর্ধমানে ১২৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে। 

সোমবার আসানসোলে গিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ কমিশনার, পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠক করেন বিশেষ পর্যবেক্ষক নায়েক। তিনি জানান, আসানসোলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সে-ক্ষেত্রে আসানসোল লোকসভার ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কিন্তু কেন আসানসোলে ১০০ শতাংশ বুথে বাহিনী, স্পষ্ট করে তা বলতে চাননি রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) সঞ্জয় বসু। তাঁর মতে, এটা বিশেষ পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন। তা হলে কি সিইও দফতর বিষয়টি জানে না? সঞ্জয়বাবুর জবাব, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত