গেরুয়া-সবুজ-লাল, দোলের রঙে রং মিশেছে ভোটের প্রচারে
সকলেই চাইছেন দোলে সাধারণ মানুষের একেবারে কাছে চলে যেতে। যাতে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। আর একটি উদ্দেশ্য হল, দোলে জলের প্রতীকের রঙের ব্যবহার। বিজেপি চাইছে গেরুয়া রঙে ভরিয়ে দিতে, তৃণমূল সবুজ আর বামেরা লাল।
Mausam

রঙিন: প্রচারে যেতেই রঙে ভরিয়ে দেওয়া হল প্রার্থী মৌসম নুরকে। ছবি: তথাগত সেনশর্মা

মালদহে দোল উৎসব দু’দিন। বৃহস্পতিবার দেবদোল ও শুক্রবার হোলি। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রংয়ের এই উৎসবকে জনসংযোগের কাজে লাগাতে চাইছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী থেকে শুরু করে জেলার নেতৃত্বরা। কে কোথায় কিভাবে রঙের উৎসবে মাতবে তা নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। একই অবস্থা রায়গঞ্জ ও বালুরঘাট কেন্দ্রেও।

সকলেই চাইছেন দোলে সাধারণ মানুষের একেবারে কাছে চলে যেতে। যাতে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। আর একটি উদ্দেশ্য হল, দোলে জলের প্রতীকের রঙের ব্যবহার। বিজেপি চাইছে গেরুয়া রঙে ভরিয়ে দিতে, তৃণমূল সবুজ আর বামেরা লাল।

দেবদোলের দিন সকাল থেকেই উত্তর মালদহের  তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুর রঙের উৎসবে মেতে উঠতে চাইছেন। মৌসম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরাতন মালদহ শহরের একাধিক বসন্ত উৎসবে যোগ দেবেন তিনি। এ ছাড়া হবিবপুর বামনগোলা ও চাঁচলেও বসন্ত উৎসবে যাবেন। খেলবেন রংও। পরের দিনেও একাধিক বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯  

বাদ যাবেন না উত্তর মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরীও। তিনি জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনই পুরাতন মালদহ, হবিবপুর, চাঁচল, রতুয়া, হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় বসন্ত উৎসব রয়েছে। সে সব উৎসবে গিয়ে রং খেলার মাতবেন তিনি। 

দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার ইংরেজবাজার শহর সহ বেশ কিছু এলাকায় বসন্ত উৎসব রয়েছে। সেই সব উৎসবে আমি যোগ দেব।’’ দক্ষিণ মালদহ লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনও দোল উৎসবকে জনসংযোগের কাজে লাগাতে চান। তিনি বলেন, ‘‘ইংরেজবাজার শহর, ব্লক, বৈষ্ণবনগর প্রভৃতি একাধিক এলাকায় একাধিক বসন্ত উৎসব রয়েছে। সেখানে যোগ দিতে চাই।’’

প্রতি বছরের মতো এ বারও রঙের উৎসবে মাততে চান প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেলা পরিষদের মেন্টর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তাঁর বৃহস্পতিবার সকালে ইংরেজবাজার শহরের শুভঙ্কর শিশু উদ্যানে বসন্ত উৎসবে যোগ দেওয়ার কথা। বাড়িতেও ছেলে-মেয়ে ও অনুগামীদের নিয়ে রং খেলায় মাতবেন। আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র বলেন, ‘‘বাড়িতেই রং খেলব দু’দিন।’’ এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বসন্ত উৎসবেও যোগ দেবেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা বলেন, ‘‘দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে দুদিনই আবির খেলায় মাততে চাই।’’

দোলের দিন রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের চাকুলিয়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় কর্মিসভা ও বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানোর কর্মসূচি রয়েছে। তার মধ্যেই দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে আবির খেলার কথা।

রায়গঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমু্ন্সি জানিয়েছেন, দোলের দিন তিনি জেলায় থাকবেন কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। থাকলে আবির খেলবেন তিনি। রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়া আগরওয়াল ও জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য জানিয়েছেন, এ বছর রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, ইসলামপুর সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক বসন্ত উৎসবে যোগদানের জন্য তাঁরা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। যতটা সম্ভব জায়গায় যাবেন। বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দাম ওই দিন রায়গঞ্জে দলের জেলা কার্যালয়ে থেকে দলীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে আবির খেলে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বালুরঘাট শহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নৃত্য সংস্থা আয়োজিত দোলের কার্নিভালে সামিল হচ্ছেন প্রার্থীরা। তার মধ্যে ওই সমস্ত দোলের অনুষ্ঠানে গিয়ে ভোট প্রচারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। আগামী বৃহস্পতিবার সকালে বালুরঘাট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত হৃদকমল ড্যান্স অ্যাকাদেমি আয়োজিত রাঙিয়ে দিয়ে যাও দোল উৎসবে সামিল হবেন অর্পিতা। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিস মাঠে অর্পণ কলাকেন্দ্রের বসন্ত উৎসবেও যোগ দেবেন তিনি।

দোলের দু’দিন জনসংযোগে জোর দিচ্ছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুস সাদেক সরকারও। গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়িতে কর্মীদের নিয়ে দোল উৎসবে মাতবেন তিনি। সেখান থেকে বালুরঘাটে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে জনসংযোগ রক্ষায় দোলযাত্রায় নামবেন। রঙে রঙে রাঙা হল বার্তা দিয়ে বালুরঘাট শহরে স্পন্দন কলাকেন্দ্র, নৃত্যাঞ্জলি এবং শ্রুতি কথার যৌথ উদ্যোগে উৎসবে প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।  

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত