অর্পিতার পাশে মমতা
বিরোধীরা বলছেন, অর্পিতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং আদিবাসী ভোট হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তৃণমূল নেত্রী পাল্টা আক্রমণের পথ নিয়েছেন।
arpita

মঞ্চে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্পিতা ঘোষ। পাশে দাঁড়িয়ে বিপ্লব মিত্র। বুনিয়াদপুরে। ছবি: অমিত মোহান্ত।

গত লোকসভা ভোটে বালুরঘাট থেকে অর্পিতা ঘোষ জেতার পর থেকে তৃণমূলের ভাগ্যে খরা চলছে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মাত্র দু’টি আসন জেতে তারা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিপ্লব মিত্র অবধি হেরে যান। এর পরে অর্পিতার অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মঙ্গলবার বালুরঘাট লোকসভা আসনের দুই শহরে সভা করে দ্বিমুখী কৌশল নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক দিকে তিনি ২০১৬ সালে জয়ীদের গরহাজিরা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। অন্য দিকে অর্পিতা কেন দীর্ঘদিন বালুরঘাট আসেননি, তার ব্যাখ্যাও দিলেন। সব শেষে তাঁর একটাই বার্তা, কাজের মানুষ পেতে ভোট দিন তৃণমূলকে।

বিরোধীরা বলছেন, অর্পিতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং আদিবাসী ভোট হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তৃণমূল নেত্রী পাল্টা আক্রমণের পথ নিয়েছেন। কিন্তু এই সব কারণেই ভোটাররা ২০১৬ সালে মুখ ফিরিয়েছিলেন। সেই জায়গা মেরামত করতে পরের তিন বছর তৃণমূল কী করেছে, প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। 

বস্তুত, এর জবাবই যেন রয়েছে মমতার এ দিনের বক্তৃতায়। তিনি জানান, আসন হাতছাড়া হওয়ার পরেও জেলার উন্নয়নে কার্পণ্য করেনি তাঁর সরকার। তবে তার আগে তিনি মেনে নেন, এর আগে তাঁদের কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের নিশ্চয়ই কিছু ভুল-ভ্রান্তি ছিল। সেবার আমরা মাত্র দু’টি আসন পেয়েছি। আপনারা আমাদের ভোট দেননি।’’ কৌশলী মমতা তার পরেই উপস্থিত জনতার প্রতি বলেন, ‘‘ঠিক আছে, সে বার আমাদের ভোট দেননি। কিন্তু যাঁদের ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা কি কোনও কাজ করতে পেরেছেন?’’ উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কী করেছেন, এর পরে তিনি তার তালিকা দিতে থাকেন।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

একই সঙ্গে অর্পিতার অনুপস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন অর্পিতাকে আমরা জিতিয়েছিলাম। কী করেছে?’’ এর পর নিজেই জবাব দেন, ‘‘মাঝে অর্পিতার বড় দুর্ঘটনা হয়েছিল। হিলিতে হয়েছিল। বাঁচার কথা ছিল না। অনেকে জানেন না। বিধানসভা ভোটের সময়। ও প্রায় বছর খানেক হাসপাতালে ছিল। অনেক কষ্ট করে লাঠির উপর ভর দিয়ে আস্তে আস্তে আবার কাজে নামে।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অর্পিতা খুব লড়াকু মেয়ে। আমি যা বলি তাই শোনে। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সংসদে সরব হয়। বালুরঘাটের জন্য আমার সঙ্গে প্রায় রোজ ঝগড়া করে।   ইটাহারের জন্য, তপনের জন্য, গঙ্গারামপুরের জন্য, বুনিয়াদপুরের জন্য আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি করে। তর্ক করুক কিন্তু জনগণের কাজ যাতে হয় সে দিকে নজর রাখুক।’’ 

ইটাহারে বন্যার সময় সাংসদ এলাকায় আসেননি— এমন অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘২০১৭ সালে বন্যার কথা মনে আছে। আমি নিজে মালদহ এসে ছিলাম। ইটাহারের সীমা পর্যন্ত ঘুরে গিয়েছি। বন্যাত্রাণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সাহায্য করা হয়েছে। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে।’’

জেলায় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যাঁরা বিধানসভায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁদের বলব, এটা দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ভোট। এই লোকসভায় ভোটটা আমাদের দেবেন।’’ এ কথা শুনে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলের সাংসদের উপর ক্ষোভ ধামা চাপা দিতে চাইছেন। মানুষ সবই বুঝতে পারছেন।’’  

বালুরঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা বিধায়করা কাজের দাবি করতে পারি। কিন্তু কাজ করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার কাজ না করে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘‘মমতা আরএসএসের জুজু দেখিয়ে মেরুকরণ চাইছেন। আমরা দেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে নির্বাচনে নেমেছি।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত