ঘাম ঝরিয়ে প্রচার তুঙ্গে
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে এ দিন পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২. ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় ৪২.৮ ডিগ্রি। আপেক্ষিক আদ্রতা ঘোরাফেরা করেছে ৪২ শতাংশের আশপাশে।
Abhishek

পুরুলিয়া শহরে তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে অভিষেক। ছবি: সুজিত মাহাতো

তাপমাত্রা কমেনি। ঘাম ঝরেছে অঝোরে। কড়া রোদে মুখ তামাটে হয়ে গেছে। তবু প্রচারে খামতি ছিল না ভোটপ্রার্থীদের। দলীয় পতাকায় মাথা-মুখমণ্ডল ঢেকে তাপ প্রতিরোধ করেছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। শুক্রবার ভোট প্রচারের শেষ দিনে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় খামতি দেয়নি ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির কর্মীরা। তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করেই চলেছে প্রচার।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে এ দিন পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২. ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় ৪২.৮ ডিগ্রি। আপেক্ষিক আদ্রতা ঘোরাফেরা করেছে ৪২ শতাংশের আশপাশে। আগামী দু’দিন আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা এ দিন দেখাতে পারেনি আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ, বায়ুমণ্ডলে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন না হলে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার ভোটদাতাদের চড়া রোদেই ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। এখানেই শেষ নয়, আগামী দু’দিনও বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে ভোটের দিনেও অস্বস্তি থেকে রেহাই মেলার কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই।

রোদে শরীর পুড়লেও ভোটদাতাদের মনজয়ে এ দিন কাঁধে ঢাক তুলে নিয়েছিলেন বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা। কুম্ভস্থল থেকে জয়পুর পর্যন্ত ঢাক বাজিয়ে প্রচার করেন শ্যামলবাবু। তাঁর সঙ্গে পথ হাঁটেন দলের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। সোনামুখী শহরে বিজেপির ভোট প্রচারে হাজির ছিলেন বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সভা করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ।

বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার এ দিন সাত সকালে গিয়ে হাজির হন বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজ মাঠে। প্রাতঃভ্রমনকারীদের সঙ্গে মেতে ওঠেন ফুটবল খেলায়। চলে ভোট প্রচারও। সুভাষবাবু জানান, রাইপুর, রানিবাঁধ, খাতড়াতে প্রচার করেছেন দলের কর্মীরা। ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় সকালে শালতোড়া এলাকায় রোড শো করেন। দুপুরে তাঁর সমর্থনে বাঁকুড়া শহরে রোড শো করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী অমিয় পাত্র দিনভর চষে বেড়িয়েছেন সিমলাপাল, রাইপুর ও ইঁদপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম। তিনি জানান, সিমলাপাল, রাইপুরের ফুলকুসমা, ইন্দপুরের ব্রাহ্মনডিহা এবং জোড়দাতেও প্রচার চলেছে জোর কদমে।

পুরুলিয়াতেও এ দিন ভোটপ্রচার তুঙ্গে ছিল। মানবাজারের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গিয়েছে, দলের পতাকা মাথায় জড়িয়ে প্রচারে নেমেছেন কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম এবং বিজেপির কর্মীরা। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি পেরলেও মানবাজারের শালপাড়া, শুকাপাতা, গুড়তুপা গ্রামে তৃণমূলের মিছিলে হাজির ছিলেন বহু কর্মী।  

এ দিন দুপুরে বোরো হাটতলা ময়দানে সভা করেছে বিজেপি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গী উপস্থিত থাকবেন বলে প্রচার চালিয়েছিল বিজেপির মানবাজার (২) মণ্ডলের নেতৃত্ব। কিন্তু তিনি সভায় আসতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতির কারণও জানাতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্ব। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মাফুজা খাতুন। এ দিন পুরুলিয়া শহরে পদযাত্রা করেন অভিষেক। ছিলেন পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃমমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতো। পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিংমাহাতোর সমর্থনে রঘুনাথপুর শহরে রোড শো করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।   

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত