কিছু ‘ভুঁইফোড়’ রাজনৈতিক নেতা ইদানীং ‘গুন্ডাসর্দারদের মতো’ কথাবার্তা বলছেন বলে মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ওই সব নেতার জীবনে ‘না আছে কোনও সংগ্রাম, না আছে কোনও আদর্শ।’

কাদের লক্ষ্য করে এ কথা বললেন তৃণমূলনেত্রী? রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে জল্পনা দানা বেঁধেছে। কারণ মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘এরা চালাবে দেশ? এরা হবে দেশের নেতা? ভাবতে অবাক লাগে।’’

তৃণমূলের দলীয় মুখপত্রের শারদ সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ লিখে এই মনোভাব স্পষ্ট করেছেন দলনেত্রী। প্রসঙ্গটি এসেছে প্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বাজপেয়ীর সৌজন্যবোধের সূত্রে। সোমবার মহালয়ার সন্ধ্যায় ওই শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথমেই মমতার প্রবন্ধ, শিরোনাম ‘সৌজন্য’।

বাজপেয়ী সম্পর্কে এর আগেও প্রশংসাসূচক অনেক কথা বলেছেন তৃণমূলনেত্রী। এবার লিখেছেন, অটলবিহারীর নেতৃত্বে দু’দফায় এনডিএ সরকারে তাঁর মন্ত্রিত্ব নিয়ে।নিজের উপলব্ধি থেকে মমতা লিখেছেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলেও তাঁর হাতে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘১৯৯৯-২০০০-২০০১ –এর প্রথম দিকে পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু তখন কখনও সখনও মনে হচ্ছিল যে অটলজির হাতে সবটা হয়তো নেই।’’ তৃণমূলের এনডিএ ছাড়ার কারণও  এই প্রবন্ধে জানিয়েছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কোথাও কোথাও দলের কারও কারও বেশি সক্রিয় ভূমিকা এনডিএ সরকারের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব বাড়িয়েছিল। অটলজির মতো মানুষের সঙ্গে আমরা ঝগড়া চাইনি। তাই ছেড়ে চলে এসেছিলাম।’’

বিজেপির একাধিক শীর্ষনেতা সম্পর্কে মমতার মূল্যায়ন বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। সেখানেই কুৎসা, গুন্ডামি ইত্যাদি অভিযোগ তিনি গোপন করেননি। এবার নাম না করেও লিখিতভাবে সেই কথাগুলি প্রকাশ করে বিষয়টিকে তিনি অন্য রাজনৈতিক মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল তুলনা হিসাবে তিনি তুলে ধরেছেন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে। যেখানে আজকের বিজেপি নেতাদের অনেকের সঙ্গে বাজপেয়ীর কত তফাৎ সেটাই সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।