কলকাতার সঙ্গে দূরত্ব কমানোর জন্য দীঘর্দিন ধরে আর্জি জানিয়ে আসছেন বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার যাত্রীরা। এদিন জেনারেল ম্যানেজারকে সামনে পেয়ে সেই দাবিই আবার জানালেন তাঁরা। শুধু দূরত্ব কমানো নয়, পুরুলিয়া থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত নতুন একটি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস চালানোর দাবিও জানিয়েছেন যাত্রীরা।

কিন্তু কী ভাবে কমানো যায় ওই দূরত্ব?

রেল সূত্রের খবর, বাঁকুডা থেকে সোনামুখী হয়ে মশা গ্রাম পর্যন্ত ব্রজগেজ লাইন তৈরি হয়ে গিয়েছে অনেকদিন। এরপরে আর মাত্র ২০০ মিটার লাইন পাতা হলেই বর্ধমান মেন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে ওই লাইন। দক্ষিণ-পূর্বরেলের কর্তার জানিয়েছেন, ওই লাইন তৈরি করার কথা পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের। তাঁদের সঙ্গে দক্ষিণ-পর্ব রেলের আলোচনাও হয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব ওই লাইন তৈরির করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের কর্তারা। মেদিনীপুর, খড়্গপুর হয়ে হাওড়া আসার জন্য এখন যে সময় লাগে, পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া-বর্ধমান হয়ে হাওড়া বা শিয়ালদহ আসতে তার চেয়ে অনেকটাই সময় কম লাগবে বলে রেল সূত্রের খবর।             

দেশ জুড়ে রেল উপভোক্তা পক্ষ শুরু হয়েছে গত ২৬ মে থেকে। সেই সূত্রেই বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় ট্রেন ও স্টেশনগুলি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) রাধেশ্যাম। সকাল ন’টা নাগাদ তিনি আদ্রায় একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের সূচনা করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘুরে দেখেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলি। ওই সময় সান্ত্বনা কুণ্ডু নামে এক যাত্রী তাঁকে সামনে পেয়ে স্টেশন থেকে তাঁর মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন চুরি যাওয়ার অভিযোগ জানান। ঘটনার জেরে দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়ে যান জিএম-এর সঙ্গে থাকা কর্তব্যরত রেলরক্ষী বাহিনীর কর্তারা। ট্রেনেই তাঁদের বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন জিএম। এর পরে তিনি একে একে ঢুকে পড়েন আদ্রা স্টেশনের খাবারের স্টল ও ক্যান্টিনগুলিতে। স্টলগুলিতে খাবারের মূল্য তালিকা নেই দেখে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন রেলের ওই শীর্ষ রেলকর্তা।

ক্যান্টিনে ঢুকে অভিযোগ জানানোর খাতা (কমপ্লেন বুক) দেখতে চেয়েছিলেন জিএম। অনেক খোঁজাখুজি করে কর্মীরা সেই খাতা এনে দেন। দেখা যায় জীর্ণ হয়ে যাওয়া খাতায় দীর্ঘদিন ধরে কোনও অভিযোগ নথিভুক্তই করা হয়নি! পাশে থাকা আদ্রার ডিআরএম অনশুল গুপ্তকে জিএম নির্দেশ দেন, অবিলম্বে অভিযোগ জানানোর নতুন খাতা তৈরি করে সেটি যাতে ঠিকঠাক ভাবে যাত্রীদের নাগালের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে।

এ দিন যাত্রীদের কাছ থেকে একগুচ্ছ অভাব-অভিযোগের কথা শুনতে হয়েছে এই শীর্ষ রেলকর্তাকে। জিএম-কে কাছে পেয়ে ঝাঁটিপাহাড়ির বাসিন্দা পেশায় আদ্রার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী সীতারাম মণ্ডল বলেন, ‘‘ঝাঁটিপাহাড়ি স্টেশনের ওভারব্রিজটি বহু পুরনো ও কার্যত বেহাল হয়ে পড়েছে। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।’’ জিএম বিষয়টি ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারকে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিষেবা সংক্রান্ত অনেকক’টি বিষয়েই যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ শুনতে হয়েছে জিএম-কে। সেগুলির মধ্যে টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা কম থাকা, ট্রেনের শৌচালয়ের বেহাল দশা, ট্রেন অস্বাভাবিক দেরিতে চলার মতো অভিযোগও ছিল। আদ্রা স্টেশনে যে অনেক সমস্যা রয়েছে তা স্বীকার করে জিএম বলেন, ‘‘আমরা ওই সমস্যার বিষয়গুলিই তাঁদের কাছ থেকে জানতে চাইছি। যাতে সেই মতো পরিষেবার মান আরও বাড়ানো যায়।’’

আনাড়া স্টেশনে একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের উদ্বোধন সেরে জিএম গিয়েছিলেন বাগালিয়া স্টেশনে। সেখানে নির্মিত একটি ওভারব্রিজ ঘুরে দেখেন তিনি। পুরুলিয়ায় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এদিন দেখা করেন জিএম।

সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসকে সাঁতরাগাছির বদলে হাওড়া থেকে চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। বিকেলে দিকে আদ্রা হয়ে বাঁকুড়া পৌঁছে একটি যাত্রী নিবাস উদ্বোধন করেন তিনি। বাঁকুড়াতেও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা জেনে নেনে জেনারেল ম্যানেজার।