• ঐশানী পাল (দুর্ঘটনাগ্রস্ত পুলকারে থাকা পড়ুয়া)
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘চার দিকে সব কিছু কালো লাগছিল’

oishani
ঐশানী পাল।

আমি টু’এ পড়ি। চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে আমার স্কুল। সকালে যাই। বাড়ি থেকে শামিমকাকুই প্রতিদিন (শামিম আখতার, যাঁর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল) গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যায়। অনেকটা যাওয়ার পরে পবিত্রকাকু (পবিত্র দাস, দুর্ঘটনাগ্রস্ত পুলকারের চালক) অন্য একটা গাড়িতে করে স্কুলে পৌঁছে দেয়। শুক্রবারেও সে ভাবেই যাচ্ছিলাম। আমি সামনে পবিত্রকাকুর পাশের সিটে বসেছিলাম। চুপ
করেই বসেছিলাম। অনেকটা রাস্তা যাওয়ার পরে মনে হল গাড়িটা সামনে কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেল। তার পরেই গাড়িটা আমাদের সবাইকে নিয়ে কাদায় পড়ে গেল।

চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। চার দিকে সব কিছু কালো লাগছিল। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কাঁদছিলাম। বন্ধুরাও কাঁদছিল। আমি ভাবলাম গাড়ির দরজা খুলে বেরোব। কিন্তু দরজার ‘লক’ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। গাড়িটা যে উল্টো হয়ে গিয়েছিল, আমি জানতাম না। তাই দরজার লকটাও নীচে নেমে গিয়েছিল, বুঝতে পারিনি। পবিত্রকাকু আর আন্টি (গাড়িতে থাকা এক পড়ুয়ার মা অমৃতা চট্টোপাধ্যায়) আমাদের বের করার চেষ্টা করছিল। বাইরে থেকেও অনেক কাকু চলে এসেছিল। সবাই মিলে গাড়ির কাচ ভেঙে দিল। তার পরে কোনও ভাবে গাড়ি থেকে আমাদের আস্তে আস্তে বের করল।

আমাদের অনেকের খুব লেগেছিল। আমার দু’টো পা কেটে গিয়েছে। মুখ, হাতেও একটু লেগেছে। তখন জ্বালা করছিল। রাস্তায় তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের শুকনো ডাল জ্বেলে তার কাছে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিল কাকুরা। আমাদের শরীরে অনেক কাদা লেগে গিয়েছিল। সবাই ভিজে গিয়েছিলাম। কাকুরা আমাদের পরিষ্কার করে দিল। তার পরে একটা বাড়িতে নিয়ে গেল। সেখানে আমাদের নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিল। চা, বিস্কুট, দুধ খেতে দিয়েছিল। ওই বাড়িতেই আমাদের বসিয়ে রাখল। সবাই আমাদের বলছিল, কোনও চিন্তা নেই। সবার বাড়িতেই খবর দিয়ে দিয়েছিল ওরা। মা এসে আমাকে নিয়ে যায়। আগে একবার ওই গাড়িতে ফেরার সময়ে দরজায় হাত চেপে গিয়েছিল। অনেক দিন স্কুলে যেতে পারিনি।  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন