যে গুলিতে রামুয়ার মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গিয়েছিল, সেটির খোল খুঁজে পেতে এ বার মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্য নিতে হল পুলিশকে। সোদপুরের যে আবাসনে রামুয়া থাকত, বুধবার দুপুরে তার পিছনের জঙ্গলে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরে মিলল সেই ধাতব খোল। পাশাপাশি, রামুয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে গুলিটিও।

তদন্তকারীদের দাবি, হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী রামমূর্তি দেওয়ারকে খুনের তদন্তে এই দু’টি জিনিসের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এ দিন গুলি ও তার খোল হাতে পাওয়ার পরে তদন্তের সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হল বলেই জানাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, ময়না-তদন্তে রামুয়ার মাথায় গুলি মেলেনি। ফরেন্সিক তদন্তেও বালিশ, বিছানা থেকে তা পাওয়া যায়নি। সোমবার ঘটনার পুনর্নির্মাণে রামুয়ার ছেলে সমীর যে তথ্য দিয়েছিল, সেই মতো আবাসনের পিছনের জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়েও মেলেনি খোল। 

এর পরেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, আগাছার জঙ্গলে ফেলা ধাতব খোল পেতে হলে মেটাল ডিটেক্টরের প্রয়োজন। সেই মতো এ দিন ব্যারাকপুরের এসিপি (বেলঘরিয়া) অভিষেক গুপ্ত এবং খড়দহ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি দল মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে জঙ্গলে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে খুঁজে পায় খোলটি। যা একটি ৭.৬২ পিস্তলের।

বিশালকে জেরার পরে তদন্তকারীরা জানেন, গুলিটি সে চালিয়েছিল রামুয়ার কানের এক-দুই আঙুল দূর থেকে। তা থেকেই তাঁরা নিশ্চিত হন, গুলিটি ঘরেই রয়েছে। এ দিন ফের রামুয়ার ফ্ল্যাটের খাট সরিয়ে তার নীচে থাকা সমস্ত মালপত্র বার করা হলে একটি বাক্সের পাশে পাওয়া যায় রক্ত, কানের হাড় ও মাংস লেগে থাকা গুলিটি। যা তদন্তে বিশেষ সাহায্য করবে বলেই দাবি পুলিশের।

রামুয়া যে প্রকৃতির দুষ্কৃতী ছিল, তাতে তার ঘরে ধারালো অস্ত্র থাকাটা খুব স্বাভাবিক। কারণ, যে কোনও খুনেই রক্ত না দেখলে রামুয়া শান্ত হত না। ছুরি-চাকু চালিয়ে খুন করাই ছিল তার পছন্দের। কিন্তু ফ্ল্যাট থেকে তেমন কিছু মেলেনি। পুলিশের অনুমান, সোদপুরের ফ্ল্যাটে এসে রামুয়া মনে করেছিল, সেটাই সব থেকে নিরাপদ আশ্রয়। তাই আত্মরক্ষার বিশেষ কোনও ব্যবস্থা ছিল না তার। শুধু একটি পিস্তল কিনে স্ত্রীকে রাখতে দিয়েছিল।