শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা প্রসঙ্গে সিএজি-র রিপোর্ট নিয়ে তদন্ত করবে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সোমবার বলেন, ‘‘স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) এই বিষয়ে সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে। সিএজি-র সুপারিশ অনুযায়ী তদন্ত হবে। কেউ ছাড় পাবেন না।’’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বাম জমানায় নেওয়া নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরেই তদন্তের সুপারিশ করেছে সিএজি। তৃণমূল জমানার কোনও পরীক্ষা নিয়ে সিএজি কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে এই সময়ের পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। 

সিএজি-র রিপোর্ট নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বিজেপি। এসএফআই-ডিওয়াইএফ এ দিন থেকেই আন্দোলনে নেমেছে। যা শুনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘দিলীপ ঘোষেরা বলছেন, তাঁরা বিচার চান। আমরাও চাই, মামলা হোক। মামলা হলে আমরাও তাতে যোগ দিয়ে আদালতে সব জানাব।’’ বাম ছাত্র-যুবদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে পার্থবাবু বলেন, ‘‘ওঁরা কাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন? যাঁরা অনিয়ম করেছেন, তাঁরাই তো দেখছি রাস্তায় নেমেছেন। আদালতে যান, আমাদের সুবিধাই হবে।’’

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য শুনে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘বাম এবং তৃণমূল দুই জমানার শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই বলা হয়েছে সিএজি রিপোর্টে। ২০১২ এবং ২০১৩ সালের পরীক্ষা নিয়ে কোনও রেকর্ডই পায়নি সিএজি। সব নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেটা অডিট রিপোর্ট থেকেই জানা গিয়েছে। আদালতে কেন সেই রেকর্ড নষ্ট করা হল, তা জানতে চাইবে বিজেপি।’’

সোমবার সল্টলেকে এসএসসি-র সদর দফতর আচার্য সদনে গিয়ে বি‌ক্ষোভ দেখায় এসএফআই ও ডিওয়াইএফ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এই অনিয়মের কথা বলে আসছে। বিক্ষোভের সঙ্গে সঙ্গে এসএসসি-র চেয়ারম্যানের কুশপুতুল পোড়ানো হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধ্বস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। 

এ দিকে, উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেনের প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন ১০ দিনে পড়ল। সংগঠনের নেত্রী পৃথা বিশ্বাসও অনশন করছেন। এ দিন বিকেলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে বিধাননগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সকালে পারমিতা বড়ুয়া নামে অন্য এক অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকেও বিধাননগর স্টেট জেনারেল হাসপাতেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি ফের অনশনে বসেন।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।