অভিযোগ, বিধানসভায় তাদের বলার জন্য প্রাপ্য সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে বিরোধীদের মোট সময়ের অর্ধেকই বরাদ্দ করার আশ্বাস দিলেন স্পিকার। 

বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৬ অগস্ট, সোমবার। তার আগে বুধবার বিধানসভায় সর্বদল ও কার্য উপদেষ্টা (বিএ) কমিটির বৈঠকে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিরোধী বিধায়কেরা। বিএ কমিটির বৈঠকে তাঁরা সওয়াল করেন, প্রথামাফিক বিধানসভায় আলোচনার অর্ধেক সময়ই তাঁদের প্রাপ্য। কিন্তু অনেক দিন ধরেই তা হচ্ছে না। সূত্রের খবর, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, অধিবেশনের ৫০% সময় বিরোধীদের দেওয়া হবে। পরে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘বিরোধীদের মর্যাদা, বলার সুযোগ সবই তো দেওয়া হয়। ওঁরাই অনেক সময় তার সদ্ব্যবহার করেন না।’’

সর্বদল এবং বিএ কমিটির বৈঠকের পরে বিধানসভার মিডিয়া সেন্টারে এ দিন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সংখ্যা যেমনই হোক, বিরোধীদের প্রাপ্য সময় অতীতে কখনও কমেনি। এমনকি, তৃণমূল যখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি, তখনও সময় কমানো হয়নি। অথচ বিরোধীদের সময় কমতে কমতে প্রায় ৩০%-এ নেমেছিল!’’ বিএ কমিটিতে সরকার পক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে, বিদ্যাসাগরের জন্মের শতবর্ষ এবং জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনার শতবর্ষের উপরে বিধানসভায় প্রস্তাব এনে আলোচনা হবে। তাতে রাজি বিরোধীরাও। জালিয়ানওয়ালাবাগ নিয়ে আলোচনা হবে ২৭ তারিখ। সে দিনই আসবে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল লিফ্‌টস, এলিভেটর্স অ্যান্ড ট্রাভেলেটর্স বিল, ২০১৯’। 

মান্নান, সুজনবাবুরা এই অধিবেশনে রাজ্যে ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়া, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গণতান্ত্রিক যে কোনও আন্দোলনে পুলিশের ‘আক্রমণে’র ঘটনা নিয়ে সরব হতে চান। বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের কাছে কর আদায়ের নোটিসের বিষয়ে বিধানসভায় আলোচনা চেয়ে তাঁরা বেসরকারি প্রস্তাব আনবেন।