• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আলুচাষির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বিতর্ক জামালপুরে

potato
—ফাইল চিত্র।

এক আলুচাষির অপমৃত্যুতে বিতর্ক তৈরি হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। শুক্রবার রাতে গোলাম আম্বিয়া মল্লিকের (৪২) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, ফসলের দাম না পেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। যদিও প্রশাসন আলু বিক্রিতে ক্ষতির জেরে আত্মহত্যার কথা মানতে চায়নি।

মৃতের পরিবার জানায়, জামালপুরের সরকারডাঙায় তাদের প্রায় ১৯ বিঘা জমি রয়েছে। দোতলা পাকা বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন গোলাম। গত মরসুমে ১৬ বিঘা জমিতে চাষ করে ১,২৮০ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) আলু ফলিয়েছিলেন। তখন প্রায় ৪০০ টাকা দরে ৪০০ বস্তা আলু বিক্রি করেন। বাকিটা রেখেছিলেন হিমঘরে। এখন বস্তাপিছু দাম দাঁড়িয়েছে ৩০-৪০ টাকায়। মৃতের বাবা গোলাম মর্তুজা মল্লিকের দাবি, ‘‘তিন বছর আলু চাষে লোকসান চলছে। ব্যাঙ্ক, কৃষি উন্নয়ন সমিতি ও মহাজন মিলিয়ে চার লক্ষ টাকা ঋণ হয়েছিল ছেলের। দাম না থাকায় হিমঘর থেকে আলু আনেনি।’’ স্ত্রী ওলিয়া বিবির অভিযোগ, ‘‘দেনা শোধের তাগাদা আসছিল। হতাশায় আত্মঘাতী হন উনি।’’

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।’’ তবে প্রশাসনের কর্তারা মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, ওই এলাকায় কৃষিজমির বিঘা প্রতি দাম প্রায় চার লক্ষ টাকা। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করা সম্ভব ছিল। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদারের বক্তব্য, ‘‘ন’মাস হিমঘরে আলু রেখেছেন। ঋণ থাকলেও আলুর দাম বাড়া-কমা, রফতানির পুরো সময় চলে গেলেও কেউ তা বিক্রি করেননি, তার পরেও অর্থাভাবে তাঁর অপমৃত্যুর অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।’’ স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন সমিতির আধিকারিক জাহাঙ্গির আব্বাস ঋণ শোধের জন্য তাগাদার কথা মানেননি। 

পরিবার জানায়, এ বারও ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন গোলাম। এলাকার চাষি সাজাহান মল্লিক, শেখ ইমতিয়াজদের বক্তব্য, ‘‘এখনও মাঠ থেকে আলু ওঠেনি। তাই লাভ-লোকসান বোঝা যাচ্ছে না। এ কথা ঠিক, নতুন আলুর দাম না পেলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো আম্বিয়ার পরিবার কি দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে? প্রদীপবাবু বলেন, ‘‘ওটা এখনও চালু হয়নি। ফেব্রুয়ারি থেকে হওয়ার কথা।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন