তাঁকে ট্রাভেলপিডিয়া বললে ভুল বলা হয় না! ঋতাভরী চক্রবর্তীর পায়ের তলায় সর্ষে। বেড়াতে যেতে তিনি সব সময়ে তৈরি। সঙ্গীর জন্যেও পরোয়া নেই, একা ঘুরতে দিব্যি ভালবাসেন ঋতাভরী। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বিদেশে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে একা গিয়েছেন। ‘‘রাশিয়াতে আমার মামা থাকেন। ইউএসএ-তে মামা, মাসিরা রয়েছেন। আমি এখান থেকে একা চলে যেতাম। এ ভাবেই শুরু...’’ বলছিলেন অভিনেত্রী।

গত বছর তিনেক ধরে সোলো ট্রাভেল করছেন ঋতাভরী। কিছু দিন আগেই গিয়েছিলেন ফ্রান্সের কোলমারে। প্যারিস থেকে আড়াই ঘণ্টার জার্নি। ‘‘জনপ্রিয় নয়, ছোটখাটো জায়গা এক্সপ্লোর করতেও আমার ভাল লাগে। কাজের জন্য কোথাও গেলে, আমি সময় করে আশপাশ ঘুরে দেখব।’’ কোলমারের আগে ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে একা ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। প্যারিস যেহেতু তাঁর সবচেয়ে পছন্দের শহর, তাই সেখানে যাওয়ার জন্য একটা অজুহাত পেলেই হল... 

একা ঘুরতে ভয় করে না? বা একঘেয়ে লাগে না? ঋতাভরীর কথায়, ‘‘সিকিয়োরিটির বিষয়টা আমি সব সময়ে মাথায় রাখি। একা গেলে প্রাইম লোকেশনে থাকা উচিত। বেশি টাকা লাগলেও। ক্যাবে ট্রাভেল করি। ইউরোপ বা আমেরিকায় সাধারণত সমস্যা হয় না। রাতে ফাঁকা জায়গায় যাই না। কিছু নিয়ম মেনে চললে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়,’’ একা কোথাও যাওয়ার আগে রিসার্চের উপর জোর দিলেন অভিনেত্রী। সোলো ট্রিপে নিজেকে সবচেয়ে বেশি এক্সপ্লোর করা যায়। যে কারণে ঋতাভরীর একেবারেই বোর লাগে না। ‘‘অন্য কারও মর্জিতে চলতে হয় না। ইচ্ছেমতো খেতে, ঘুরতে পারি। এটাই তো সোলো ট্রাভেলের সুবিধে,’’ ঋতাভরীর গলায় মজার ছোঁয়া। তবে একা যাওয়া মানে সব দায়দায়িত্ব নিজের। ভারী ব্যাগও বইতে হতে পারে। নায়িকার বয়ানে, অসুবিধে বলতে ওইটুকুই। কিন্তু মি-টাইম কাটানোর জন্য ওই খুচরো সমস্যাগুলোকে আমল দিলে চলে না। তবে ঋতাভরীর সোলো ট্রিপে একজন কিন্তু থাকবেই... নায়িকার টেডি হাগজ়ি!

মেয়ে সোলো ট্রিপে যাবে শুনে ভয় পাননি সন্দীপ্তা সেনের বাবা-মা। তবে তাঁর এক তুতো বোন প্ল্যান শুনে তটস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রশ্ন তাঁর থামছিলই না। সন্দীপ্তার অবশ্য ভয়-ডর নেই। যদিও সোলো ট্রিপে যাওয়ার কোনও লক্ষ্য ছিল না তাঁর। কাজের মাঝে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিলেন সন্দীপ্তা। তখন মা-বাবা, বন্ধুবান্ধব অনেকের সঙ্গেই প্ল্যান করে ঘুরেছেন তিনি। তবু আশ মেটেনি। ‘‘এর মধ্যেই এক দিন ‘হাইওয়ে’ ছবিটা দেখছিলাম। ওটা দেখে হিমাচল প্রদেশের ওই জায়গাগুলোয় যেতে খুব ইচ্ছে হল। আমার সঙ্গে যাওয়ার জন্য তখন কেউ ফাঁকা ছিল না। কিন্তু আমি প্রায়রিটি বেছে নিলাম। একাই ঘুরতে যাব...’’ 

কয়েক বছর আগে হিমাচল প্রদেশের স্পিতি একা ঘুরে এসেছেন অভিনেত্রী। আর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে গিয়েছিলেন কচ্ছের রণ উৎসবে। ‘‘সাধারণত কোনও ফেস্টিভ্যাল মাথায় রেখে ভেকেশন প্ল্যান করি। কচ্ছের এই ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার ইচ্ছে গত দু’বছর ধরে ছিল,’’ বলছিলেন সন্দীপ্তা।

সোলো ট্রিপে যাওয়ার জন্য নিজের দায়িত্বে পড়াশোনা ও রিসার্চ করে নেন অভিনেত্রী। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে কোন টেলিকম কোম্পানির সার্ভিস ভাল, যানবাহনের সুবিধে-অসুবিধে... সমস্ত খুঁটিনাটি নিজে জানেন ও বাড়িতেও জানিয়ে যান। ‘‘আমার থাকা-খাওয়ার সব ডিটেল বাড়ির লোকেদের কাছে থাকে। তাঁরা যেন যে কোনও পরিস্থিতিতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেটার বন্দোবস্ত করে যাই।’’ 

আর তাঁর সফরসঙ্গী থাকেন গাড়ির চালক, যিনি তাঁকে সর্বক্ষণ সার্ভিস দেন। গাড়ি চালানোয় পাকা হলেই শুধু হবে না, চালককে ছবি তোলাতেও সিদ্ধহস্ত হতে হবে। সে দিকটাও ভাল করে বুঝে নেন সন্দীপ্তা!

সারা বছরই ট্রাভেলিংয়ের নানা পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি। আলাদা করে কোনও ইন্সপিরেশন না থাকলেও, ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ ছবিটার মতোই সাজানো তাঁর উইশলিস্ট।

  সোলো ট্রিপ মানেই নিজের মর্জিতে কোনও আগল নেই। বাইক নিয়ে ঋষি কৌশিকের প্যাশন কারও অজানা নয়। কিন্তু একা ঘুরতেও ভালবাসেন ছোট পর্দার এই অভিনেতা। বাইকে করে কলকাতা থেকে অসম গিয়েছিলেন ঋষি। ফিরেওছিলেন একই ভাবে। বলছিলেন, ‘‘এই জার্নি আমার সারা জীবন মনে থাকবে। অসম থেকে ফেরার সময়ে চালসায় দু’রাত কাটিয়েছিলাম। মজার ঘটনা হল, চা বাগানের যে রিসর্টে ছিলাম, সেখানে আমিই একমাত্র অতিথি। সুনসান পরিবেশে নিজের সঙ্গে দুটো দিন কাটাতে কী যে ভাল লেগেছিল...’’ সামসিং, ঝালং-সহ বেশ কয়েকটা জায়গায় ঘুরেছিলেন ঋষি। এই সফরের আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা বললেন তিনি, ‘‘একটি জায়গার নাম ‘লাল ঝামেলা বস্তি’। সেখান থেকে ইন্দো-ভুটান সীমান্ত দেখেছিলাম। সব মিলিয়ে একা সফরে নিজের সঙ্গে সবচেয়ে বন্ধুত্ব জমে গিয়েছিল!’’ 

একা সফরে ওটাই পাওনা। নিজেকে খুঁজে পাওয়া। রোজকার ভিড়ে ওই অভিজ্ঞতাই শাশ্বত...