শেষ ছবি ‘জ়িরো’র ভরাডুবির পরে শাহরুখ খান কোন পথে যাবেন, তা বোধহয় তিনি নিজেও জানেন না। তাঁর অসংখ্য অনুরাগীও অন্ধকারে। রাকেশ শর্মার বায়োপিক থেকে আগেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী ছবি নিয়ে এখনও অবধি কোনও ঘোষণা নেই। 

শোনা গিয়েছে, অনেক পরিচালকের কাছেই স্ক্রিপ্ট শুনছেন বাদশা। তবে তির কি লাগছে নিশানায়? শাহরুখের শেষ কয়েকটি ছবির স্কোর কার্ড দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট, বিখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেও শাহরুখের ছবি চলেনি। রোম্যান্সের জাদুকর ইমতিয়াজ় আলির সঙ্গে তাঁর প্রথম ছবি ‘জব হ্যারি মেট সেজল’ খারাপ ছবির তালিকায় শীর্ষে। বক্স অফিস সফল পরিচালক আনন্দ এল রাইয়ের ‘জ়িরো’ শূন্যতেই আটকে রইল। তা হলে ছবির ব্যর্থতার দায় কি অভিনেতা শাহরুখের? শোনা যায়, চিত্রনাট্যের উপরে তাঁর টিমের দখলদারি এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন কাঁচি চালানোর ফলেই ছবিগুলির এই হাল! এই তথ্যের সত্যতা যা-ই হোক, গদিচ্যুত হওয়ার ভয় যে কিং খানকে ক্রমাগত তাড়া করছে, তা নিয়ে কোনও মহলে দ্বিমত নেই।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট। গত বছরের অন্যতম সফল দুই পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন (অন্ধাধুন) ও অমিত শর্মা (বধাই হো) অভিনেতাকে স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকদ্বয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাহরুখকে কাস্ট করার মতো স্ক্রিপ্ট এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে নেই। ‘অন্ধাধুন’ দেখে শ্রীরামকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন খোদ শাহরুখ। শ্রীরাম বলেছেন, ‘‘আমাদের কথা হয়েছে। এখন ওর ফোন নম্বর আমার কাছে আছে। তবে আমার ঘরানার সিনেমায় ওকে দেখানোর জন্য উপযুক্ত স্ক্রিপ্ট প্রয়োজন।’’ 

অভিজ্ঞতার নিরিখে শ্রীরাম ইন্ডাস্ট্রিতে সিনিয়র। অমিত শর্মার প্রথম ছবি ‘তেবর’ বক্স অফিসে ব্যর্থ। ‘বধাই হো’র সুবাদে তাঁর যত নাম-যশ। মনে করা হচ্ছে, অপেক্ষাকৃত নতুন সেই পরিচালকের মুখাপেক্ষী হতেও সঙ্কোচ করছেন না শাহরুখ। তাঁর ‘জবরা ফ্যান’দের এখন একটাই প্রার্থনা, যাঁর সঙ্গে যেমন ছবিই করুন, সেই ছবি যেন তাঁর লেগাসিতে নতুন পালক যোগ করে, আরও একটা শূন্য নয়!