অভিনয়-প্রযোজনা-চিত্রনাট্য লেখা-পরিচালনা-অভিনয়... পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের টাইমলাইন এই আবর্তেই বাঁধা। মাঝের দু’-তিনটি বছর টলিউডের ভরকেন্দ্র থেকে যেন ছিটকে গিয়েছিলেন। পার্টি, আড্ডা থেকে দূরে। এমনকি, ছবিও খুব বেশি করেননি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ধারণা করা হয়েছিল, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সাইডলাইনে। আদৌ কি তাই?

‘‘একটা ইনিংস খেলার আগে জমি প্রস্তুত করতে হয়। আর সেটা করতে গেলে টলিউডের ওই ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, পার্টি... এগুলো করা সম্ভব হয় না। এত দিন আমি কী করছিলাম, এ বার ধীরে ধীরে লোকজন সেটা বুঝতে পারবে,’’ বললেন পরমব্রত।

দিন কয়েক আগেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসেছে ‘শরতে আজ’। এই থ্রিলার-ড্রামার প্রযোজক পরমব্রতর সংস্থা। তার আগে তিনি ‘কালী’ করেছেন ওই প্ল্যাটফর্মের জন্য। সেটি জনপ্রিয় হওয়ায় ‘কালী’র দ্বিতীয় সিজ়নও আসবে। জানালেন, জ়ি ফাইভ ছাড়া অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্যও কনটেন্ট তৈরি করতে চলেছেন। তার মাঝেই নিজের পরবর্তী ছবি পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

শোনা যাচ্ছে, পরমব্রত তাঁর পরের ছবি সুরিন্দর ফিল্মসের ঘর থেকে করতে চলেছেন। পরিচালনার পাশাপাশি তিনি অভিনয়ও করবেন। কোয়েল মল্লিকও থাকছেন ছবিতে। কিন্তু আগামী ছবি নিয়ে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলতে চাইলেন না পরমব্রত। শুধু গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে বললেন, ‘‘বাবা-মা, সন্তানকে কেন্দ্র করে গল্প। আগামী পৃথিবী নিয়ে বর্তমানে যা যা পরিকল্পনা চলছে, সেটা সম্পর্কে আগেভাগেই একটা আন্দাজ করা... সাই-ফাই ড্রামা বলা যায়।’’ তাঁর পরিচালনায় ‘খেলেছি আজগুবি’ রিলিজ় করবে এই বছরেই। 

প্রযোজনা এবং পরিচালনার ফাঁকে অভিনেতা পরমব্রত কি একটু কম সুযোগ পাচ্ছেন? ‘‘কোথায়! এই তো ‘পিণ্ডদান’ করে ফিরলাম। অসাধারণ অভিজ্ঞতা! কঙ্কনা সেন শর্মা, বিনয় পাঠক, নাসিরুদ্দিন শাহের মতো অভিনেতা আছেন সেখানে। অরিন্দম ভট্টাচার্যর একটি ছবি করছি। তার পর বাংলাদেশের একটি ছবি করব। খুব ইন্টারেস্টিং গল্প। এক রকস্টার, যে ধীরে ধীরে মাটির মিউজ়িকে ফিরে আসে। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘পাসওয়ার্ড’-এ আছি। এই সব করতে করতে আমার ছবির শুটিংয়ের দিন চলে আসবে,’’ এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন অভিনেতা। ভুললে চলবে না, এর মাঝে অনুষ্কা শর্মার প্রযোজনায় নেটফ্লিক্স ফিল্ম ‘বুলবুল’-এও অভিনয় করছেন।

এটা বোঝা যাচ্ছে, পরমব্রত শুধু টলিউডের গণ্ডিতে আটকে নেই। মুম্বই থেকে বাংলাদেশ— নিজের পরিধি বাড়িয়ে নিয়েছেন। কথাটা বলতেই মজা করে বললেন, ‘‘যাক বোঝাতে পেরেছি, আমি এমনি বসে নেই। এখানে যে গণ্ডির মধ্যে আমরা থাকি বা মেলামেশা করি, সেটা আমার কাছে খুব ক্লান্তিকর হয়ে যাচ্ছিল। সকলের সঙ্গে দেখা হলে ভাল লাগে ঠিকই। কিন্তু নিয়ম করে আড্ডা দিতে হলে মুশকিল। তার জন্য আমাকে আওয়াজও শুনতে হয়। কিন্তু বসে গল্পগাছা করার মতো সময় আমার সত্যিই এখন নেই।’’

এত কিছু সামলাচ্ছেন কী করে? ‘‘হিমশিম খাচ্ছি। আবার করেও নিচ্ছি। প্রোডাকশনের ক্রিয়েটিভ দিকটা সুপারভাইজ় করে দিই। বাকিটা আমাদের টিম করে নিতে পারে। সঙ্গে লেখালিখি, অভিনয় আছে। ব্যস্ততা উপভোগই করছি।’’ 

কিন্তু তাঁর এই ব্যস্ততার জন্য কি আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত বা অনির্বাণ ভট্টাচার্যরা বাড়তি জমি পেয়ে গেলেন? যাদের সঙ্গে কাজ করতে অনেকে মুখিয়ে থাকে, সেই ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গেও খুব বেশি কাজ করতে দেখা যায় না পরমব্রতকে। উল্টে পরবর্তী ছবি করছেন ভেঙ্কটেশের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ সুরিন্দরের সঙ্গে। ‘‘এর সরল জবাব হল, সদ্য ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ করেছি এসভিএফ-এর সঙ্গে। হইচই-এ কনটেন্ট প্রোডিউস করি। আর আমি যে কাজগুলো করতে চেয়েছিলাম, সেটাই করছি। তাতে অন্য কারও কী সুবিধে হল না-হল, তা নিয়ে ভাবি না।’’

নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া আখেরে কাজে দিয়েছে আপনার? ‘‘আমাকে কেউ বলেনি। বললেও করতাম না,’’ এ বারেও সরল জবাব পরমব্রতর।