সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মুম্বই মনতাজ

পুণ্যার্জনে নগ্নপদ তারকারাও

মিলন মুখোপাধ্যায়

হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে ইরলা ছাড়িয়ে এক কলেজের সঙ্গে দেখা! মিঠিবাঈ কলেজ। সুনসান কালো পিচের রাস্তায় মিঠিবাঈয়ের দরজা-জানলা সব বন্ধ। অন্ধকার বিশাল দালান থম মেরে আছে। ছাত্র-ছাত্রী নেই। নেই মাস্টার-প্রফেসাররা। এমনকী গেটের সামনে ‘ওয়াচম্যান’ও টুল-এ বসে ঢুলছে। উল্টো ফুটে খাবারের গাড়িওয়ালাদের একটি ঠেলা-গাড়িই জেগে আছে। মস্ত চাটুতে খুন্তি নাড়ার ঠুং ঠাং শব্দমধ্যরাতের নৈঃশব্দ্য যেন চেপে বসছে।

কলেজের কাছেই ঘুমন্ত পেট্রোল-পাম্পে লাইট জ্বলছে। লাইটের কাছেই আলখেত সেবা-ধর্মে দীক্ষিত মধ্যবয়সি স্বামী-স্ত্রী দু’টি টেবিল বিছিয়ে যাত্রীদের ঠান্ডা জল খেতে দিচ্ছেন গেলাসে করে। কয়েকটি ফ্লাক্সে গরম গরম চা বা কফি। নাম জিজ্ঞেস করলুম দাতাদের। মানুষটি স্মিত হেসে জলের গেলাস এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, “নাম দিয়ে কী হবে? সাধারণ মানুষ। আপনারা পুণ্যি অর্জন করতে চলেছেন আশীর্বাদ করুন, আমরাও যেন তার ছিঁটে-ফোঁটা পাই।”

বললুম, “জয় হোক আপনার!”

জোড়-হাত কপালে ছুঁইয়ে নাম বললেন, “আমি মোহন-ভাই পাণ্ডিয়া।” পাশের মহিলাকে দেখিয়ে বললেন, “আমার স্ত্রী।”

আরও বললেন, প্রায় এক দশক হল এমনই ওঁরা দু’জনে প্রতি সোমবার রাত্রে পুণ্যার্থীদের সেবায় নিযুক্ত হয়ে তৃপ্তিলাভ করেন।

সওয়া বারোটা নাগাদ সান্তাক্রুজ বাস ডিপো ছাড়িয়েছি। ওখানেও একটু জিরিয়ে নেবার জন্যে থেমে ছিলুম। শুধু আমরা নই। বহু দলের লোকজন। গাদা-গাদা বালক-বালিকা, কোলের শিশু, মেয়ে-মহিলারা। দম্পতি, প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়াও অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মস্ত দল। ছ’সাত শো লোক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফুটপাথ বা গাড়ি-ঘোড়াবিহীন রাস্তায় বসে ধূমপান করছেন। জল বা চা খাচ্ছেন আমেজ করে। বোধ করি এর বেশিরভাগ ওপার থেকে এসেছেন।

না, না। এখানে ‘ওপার’ বাংলা বোঝানো হচ্ছে না। মুম্বইতেও রয়েছে এপার-ওপার। শহরটিকে কথায় কথায় দু’ভাগ করেছেন এখানকার নাগরিকরা। কারণ, ‘মুম্বই নগরিয়া’ একে প্রায় মধ্যিখান দিয়ে চিরে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে এর জীবনরেখা —রেললাইন। পশ্চিম দিকে, সমুদ্রের লাগোয়া অংশটিকে বলা হয়—মুম্বই (পশ্চিম) ও পূব দিকের ভাগটিকে বলা হয় মুম্বই (পূর্ব)। তা, আমরা পশ্চিমের বাসিন্দারা সমুদ্র তথা আরব সাগরের গা ঘেঁষে অবস্থানের কারণেই কিনা কে জানে, নিজেদের হয়তো বা একটু উন্নততর বাসিন্দা মনে করি। হয়তো! তাই, ‘ও পার মুম্বই’! তা, ‘ওপারে’র ভাকোলা, পার্লা, সান্তাক্রুজ ইস্ট থেকে এই দলগুলি এসেছে—‘মিলন সাবওয়ের’ তলা দিয়ে। এসে, বিবেকানন্দ রোডের এই বাস-ডিপো-জংশনে মিলিত হয়েছে।

বান্দ্রার পার্সি কলোনি পৌঁছলুম রাত তখন একটা বেজে গিয়েছে। গোড়ায় সেই এক জন-দু’জনের দল বাড়িতে বাড়িতে কুড়ি-তিরিশ জনের হয়েছে প্রথমে। এখন তো বেশ ঘন দলগুলি অনেকটা যেন চওড়া মনুষ্য-নদীর স্রোত এগিয়ে চলেছে। দিন হলে, সার বেঁধে, প্ল্যাকার্ড হাতে নিলে এবং সমস্বরে ‘মাংতা হ্যায়মাংতা হ্যায়’ বললেই, মনে হয়, রাজনৈতিক দলের মিছিল হতে পারত!

ভাগ্যিস, তা হয়নি!!

তবে, মৌন-মিছিলও নয়। নিজেদের পরিবার বা দলের মধ্যে কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা চলছে সামনে। গুজরাতি, মরাঠি, সিন্ধ্রি এমনকী বাংলা ভাষায় সামান্য চাপা কণ্ঠে কথাগুলি একত্রে মিলেমিশে একাকার হয়ে অনেকটা গুঞ্জনের মতো শোনাচ্ছে। শ্রবণে দলবদ্ধ ভ্রমর-গুঞ্জন নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাঁ-দিকে দৃষ্টি পড়ল। এক মুহূর্তের জন্যে হলেও বেশ চমকে উঠলুম। কাচের কুচির মতো যেন এক রাশ নক্ষত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাঁ দিকে। পর মুহূর্তেই খেয়াল হল মনের ভুল! বাঁ দিকে একটি দিঘি বা পুকুর রয়েছে। ‘বান্দ্রা তালাও’। মাথার ওপরে মার্চের পরিষ্কার আকাশের প্রতিবিম্ব, তালাওয়ের স্থির জলে এসে নেমেছে।

চার পাশের গুঞ্জন শুনতে শুনতে, পাশের জলাশয়ের দিকে তাকিয়ে মনে মনে দেখতে পেলুম ধোঁয়া উঠছে। ফিসফিস বৃষ্টি পড়ছে না সেই ফেলে-আসা দিনের মতোন। তবু, শ্রবণে শত মানুষ-মানুষির গুঞ্জন, জলাশয়ের দৃশ্য পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পেলুম চার দশক আগের সেই গৌরীকুণ্ডের আশ্চর্য রাত্রির স্মৃতি এখনও তরতাজা। হয়তো, আজীবন থেকেও যাবে স্বর্গীয় কোনও অমলিন ফুলের মতোন। বৃষ্টির রাত্রের পেঁজা তুলো বা দোঁয়ার মতো হালকা মেঘের পাখনায় ভর দিয়ে আসে স্মৃতি আর মুহূর্তে উড়িয়ে নিয়ে যায় ভবঘুরে মনকে হিমালয়ের বুকে। দেখতে পাই পিচ্ছিল কয়েক ধাপ পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে স্নানার্থীরা উঠছে-নামছে। গৌরীকুণ্ডের উষ্ণ-প্রসবনের প্রায় ফুটন্ত জল থেকে কুয়াশার মতো ধোঁয়া উঠছে আকাশে।

কুণ্ডের কয়েক গজ দূরেই প্রকৃতির এক অবাক করা চমত্‌কার কাণ্ড। ফুটন্ত জলের প্রায় গায়ে গায়েই বরফের পুরু আস্তরণের তলা দিয়ে হিমালয়-কন্যা মন্দাকিনীর খরস্রোত ঊর্ধ্বশ্বাস বয়ে চলেছে। তারই একটানা হালকা শব্দ উঠে আসছে তপ্ত জলের ধোঁয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছলছল ছলছল আমি আছি, আমি আছি...। আমরা যে পথ বেয়ে উঠে এসেছি, সেই পথেই উল্টোমুখো বয়ে চলেছে ওর আপন বোন অলকানন্দার সঙ্গে মিলিত হবে বলে। মিলেমিশে দুই বোন কলকলিয়ে রাজ্যের কথা বলতে বলতে নেমে যাবে রুদ্রপ্রয়াগের দিকে। দেবপ্রয়াগের সঙ্গমে উচ্ছলা, চঞ্চলা বড় বোন ভাগীরথীর সঙ্গে মিলিত হয়ে, সম্মিলিত স্রোত হিসেবে উত্তরণ হবে হৃষিকেশ-হরিদ্বার পেরিয়ে ভারতের সমতলের গ্রামে-গঞ্জে, নগরে নগরে।

কুণ্ডটি ঘিরে চার পাশের পাথুরে দেওয়ালে জমে গেছে সবুজ শ্যাওলা। তারই স্যঁাতস্যঁাতে, ভেজা গন্ধ, ধোঁয়ার গন্ধ মিলেমিশে একাকার। সেই সঙ্গে সমবেত পুণ্যার্থীদের চাপা গুঞ্জন, অল্প দূরে প্রবাহিনী মন্দাকিনীর বরফ-শীতল স্রোত বয়ে যাবার একটানা শব্দের মিশ্রিত পরিবেশের মধ্যে থেকে কার যেন গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসছে শ্রবণে। নানান মন্ত্রোচ্চারণ ও শীতের কাঁপুনির শব্দাবলি ছাপিয়ে সেই অজানা, অচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে শুনতে সর্বাঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠছে

“মন্দাকিনী সলিল চন্দন চর্চিতায়

নান্দীশ্বর মহেশ্বর প্রমথনাথ

বিশ্বেশ্বরায়—”

পর্বতের অতল-অন্তর গহ্বর থেকে, নাভি থেকেই বুঝিবা, উঠে আসছে সেই গম্ভীর, অমোঘ নাদ।

সেই রাতে, অমন হাড়কাঁপানি প্রচণ্ড শীত-বৃষ্টির মধ্যেও স্তম্ভিত হয়ে কাঁপতে কাঁপতে দেখেছিলুম কুণ্ডের মস্ত পাথুরে চৌবাচ্চার জলে নেমে স্নান করছে কয়েক জন পুণ্যার্থী। দোনোমনো করতে করতে অসীম সাহসে ভর করেই একে একে, সইয়ে সইয়ে কোট-সোয়েটারের পাতলুম খুলে ফেলেছিলুম আমরা দু’জনে। স্নানও করে ফেলেছিলুম (অনেকটা কাক-স্নানও  বলা যায়) ফুটন্ত জলে। অবশ্যই অন্যদের দেখাদেখি আগে অনেকটা ‘শান্তি-জল’ ছিটোনোর কায়দায় টগবগে ফুটন্ত জল একটু একটু করে গায়ে-মাথায় ছিটিয়ে, সইয়ে নিয়ে, তার পর। বীর-বিপ্লবী বা শহিদের মতো ভেবে রেখেছিলুম—ঠান্ডা লেগে জ্বর হলে, তখন দেখা যাবে—জয় বাবা কেদারনাথ মহারাজজি। না। বিপরীত ফল কিছু হয়নি। বরং পায়ের-গায়ের ব্যথা-বেদনা সেরে গিয়ে পর দিন সকালে এক্কেবারে তরতাজা হয়ে ডবল উত্‌সাহে রওনা দিতে পেরেছিলুম কেদারনাথের দিকে।

ছোট্ট একটি বিশেষ বোধ তথা প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছিল মনে, সেই কৈশোর-যৌবনের সন্ধিক্ষণেই। মানুষের সুবিধে-অসুবিধে-প্রয়োজন ইত্যাদি বুঝে-শুনে, হিসেব করেই কি প্রকৃতি-ঈশ্বরী তাবত্‌ ব্যবস্থা আগেভাগে করে রেখে দেন? নইলে, হা-ক্লান্ত হয়ে হেঁটে হেঁটে গা-গতর-হাঁটুর কল-কব্জা-খিল যখন অসম্ভব যন্ত্রণা ব্যথায় খুলে পড়বার দাখিল হয়, ঠিক তখন, সেখানেই, অনেকটা যেন মন্ত্র-বলে তার নিরাময়ের ব্যবস্থা হিসেবে একটি উষ্ণপ্রস্রবণ বানিয়ে রাখবেন কেন?!...

তাই বোধহয় জিরিয়ে, বসে, চা-জল খেতে খেতে, নৈশ আরামের বাতাসে সমতল-ভূমির পিচের মসৃণ রাস্তায় আমরা, যারা বেশ কয়েক ঘণ্টা হেঁটে মন্দির দর্শন করতে চলেছি—আমাদের জন্যে এখানে কোনও উষ্ণ-প্রস্রবণের বদলে সাধারণ দৃশ্যাবলির মতো শান্ত ‘বান্দ্রা তালাও” বা দিঘি রয়েছে।

দুটো নাগাদ মহিমকজওয়ে তথা জংশন ছাড়িয়ে এগোচ্ছি। দেখি, মানুষ-মানুষী দলে দলে হেঁটে আসছে, হাইওয়ে দিয়ে ‘ওপার’ মুম্বইয়ের বাসিন্দারা। ভিড়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কয়েকটি ছোট্ট দল উড়াল পুলের ওপরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের খোলা বাতাসের আমেজ নিচ্ছে। মহিম গির্জা ও ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল পেরোচ্ছি, দেখি, এক কিশোর হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছে। মানত-টানত করেছিল হয়তো। এর পর আরও দু’চার জনকে দেখলুম সরীসৃপের মতো এগোচ্ছে, অনেকটা বঙ্গে দেখা সেই তারকেশ্বর মন্দিরের দিকে পুণ্যার্থীদের গণ্ডি কাটতে কাটতে যাওয়া, মনে পড়ে গেল “বাবা তারকেশ্বরের (নাকি, ‘তারকনাথের’) চরণের সেবা লাগে -এ-এ-এ—

যুবকটি কলেজের ছাত্র। নাম অলঙ্কার রাওয়ত। আরও একজনের সঙ্গে দেখা হল শশীকান্ত মৌরিয়া। এঁরা দু’জনেই হামাগুড়ি দিয়ে এসেছেন কোনও মানত-রক্ষার জন্যে। কল সেন্টারের ড্রাইভার সবুজ প্যাটেল গত ১৫ বছর ধরে সোমবার রাতে বেরিয়ে পড়েন গোরেগাঁওয়ের বাসা থেকে। রাত দশটা নাগাদ, যাতে পুণ্যতিথি মঙ্গলবার ভোরবেলায় প্রথম ‘দর্শন’ করতে পারেন সিদ্ধিদাতার।

শিবাজি পার্ক এবং ‘শিবসেনা ভবন’ ছাড়িয়েছি তখন শেষ রাত সওয়া তিনটে। কাতারে কাতারে সার বেঁধে মানুষের লাইন ফুটপাথে ঘুমোচ্ছে। বাঁ দিকে মুম্বইয়ের চির-আরাধ্য সিদ্ধি বিনায়কের মন্দির। আলোয় আলোকময় হয়ে আছে। মঙ্গলবার ভোররাতে হেঁটে, দৌড়ে, হামাগুড়ি দিয়ে আসা জনতার ভিড় উপচে পড়ছে আলোকমেলায়। এমনিতে গুঞ্জন ছাড়া অন্য কোনও গোলমালের চিহ্ন নেই। অথচ, কে বলবে এখানে সকালের সূর্য চোখ মেলে তাকাবেন অন্তত ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা পরো। প্রথম ‘দর্শন’ হবে, প্রথম ‘প্রার্থনা’, প্রথম ‘আরতি’।

এহেন, কুড়ি-পঁচিশ হাজারের সামগ্রিক আমজনতার মধ্যে বিশেষ বিশেষ মানুষের চেহারা খঁুজে বের করা। তবু, এরই মধ্যে গত সপ্তাহের বা বর্তমান অথবা পরবর্তী সপ্তাহের ভিড়ে খঁুজলে খ্যাতনামা মানুষদের পেতে বিশেষ বেগ না-ও হতে পারে। যথা, অসুস্থ হওয়ার আগে, তথা, নাতনির জন্মের আগে অবরে-সবরে, জুহুর ‘জলসা’ থেকে বেরিয়ে সপরিবার হাঁটতে দেখা গেছে অমিতাভ বচ্চনকে পুত্র ও পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে জিনস ও ফুলহাতা টি-শার্ট পরে একেবারে নগ্ন পায়ে পেছন পেছন বড়বাবুর ‘ভ্যানিটি’ ভ্যান ধীরে ধীরে সারা পথ চলে এসেছে।

একতা কপূরকে তার নতুন কোনও ছবি বা সিরিয়াল রিলিজ করবার আগে হেঁটে আসেন প্রতি মঙ্গলবার শেষরাতে। খালি পায়ে। বিপাশা বাসু বা অজয় দেবগনকে দেখা গেছে স্ত্রী কাজলের সঙ্গে। গত দু’বছর ধরে যে কোনও সপ্তাহে তাঁর ছবি রিলিজ থাকলে আগের সোমবার রাতভোর হাঁটতে দেখা গেছে।

মাঠের মহাপ্রভু সচিন তেন্ডুলকর বা সম্প্রতি রিটায়ার করা ‘দেওয়াল’ও আলাদা আলাদা দর্শন করে গেছেন গণপতিকে মঙ্গলবার ভোররাতে। কোকিলকণ্ঠি লতাজিও গত জন্মদিনে প্রার্থনা ও প্রণাম জানাতে এসেছিলেন ‘বাপ্পা’কে। প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও কাংগনা রানাওয়াতকে দেখা গেছে প্রযোজক-পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকরের সঙ্গে ওঁদের “ফ্যাশান” ছবি মুক্তির ঠিক আগে।

ভয়ে বা ভক্তিকে, বিশ্বাস বা অভ্যাসে ঈশ্বরের এই প্রতিভূর ‘থানে’ জনতাকে আসতে দেখা গেছে। এই শহরের সিংহভাগ হিন্দু নাগরিককে। যে কোনও কারণেই হোক, বড়-ছোট-মাঝারি বৃদ্ধবৃদ্ধা-যুবক কিশোরের দলও আজকাল রাত-জেগে হেঁটে পুণ্যার্জনের আশায় মেতে উঠেছে দশকের পর দশক ধরে।

তিনটি উপায়ে দেবাদিদেবের এই তথাকথিত, জাগ্রত সন্তানের দর্শন করতে পারা যায়ঃ

১) দাঁড়িয়ে পড়ুন অশেষ দীর্ঘ লাইনের পেছনে অথবা কয়েকটি টাকা দক্ষিণা দিয়ে কিঞ্চিত কম লাইনে দাঁড়িয়ে ‘দ্রুত’ দর্শনের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন।

২) পয়সায় চকিত দর্শনলাভের সৌভাগ্য অর্জন করার জন্যে এক ঘণ্টা থেকে ৫/৬ ঘণ্টাও লাগতে পারে।

৩) শ’দুয়েক টাকা দিয়ে বাসি ফুল-বেল পাতা সমেত দ্রুত দর্শন অথবা চল্লিশ/পঞ্চাশ টাকা স্রেফ ফুলের জন্যে দিয়ে ‘চকিত’ দর্শন।

মুম্বই শহরে মঙ্গলবারটি বাছাই করা স্রেফ গণেশবাবাজির জন্যে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলিও বাদ যায়নি ভক্তিরসে আপ্লুত হবার জন্যে।

সোমবার।। শিবের আরাধনা। গ্র্যান্ট রোডের ‘বাবুলনাথ’ মন্দির।

মঙ্গলবার।। সিদ্ধিদাতা গণেশ।

বুধবার।। যীশুখ্রিস্ট। মহিমের সেন্ট মাইকেল গির্জায়।

বৃহস্পতিবার।। মহালক্ষ্মী,

মহালক্ষ্মীর মন্দির।

শুক্রবার।। হাজি আলি দরগা বা মসজিদ, মুম্বই সেন্ট্রাল।

শনিবার।। হনুমান ও শনিদেবের বার সারা শহরের বিশেষ বিশেষ মন্দির উদযাপিত হয়।...

একটা ব্যাপার ঠিক বোধগম্য হল না! রবিবার কোনও ঠাকুর দেবতার নামে কি বরাদ্দ নেই? কেন?

রবিবারে কি সকল দেবদেবীর আপিস ছুটি থাকে?

 

(শেষ)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন