নজরুল-জীবনী
অরুণকুমার বসু 
৬০০.০০  
আনন্দ পাবলিশার্স 

‘‘বাংলা সাহিত্য হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই সাহিত্য। এতে হিন্দু-দেবদেবীর নাম দেখলে মুসলমানের রাগ করা যেমন অন্যায়, হিন্দুরও তেমনি মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্যে নিত্য প্রচলিত মুসলমানি শব্দ তাদের লিখিত সাহিত্যে দেখে ভুরু কোঁচকানো অন্যায়।’’ (‘সওগাত’, পৌষ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে লিখেছেন নজরুল)। পরের বছর, ১৯২৮-এর ঘটনা: হাসপাতালে এক রোগীকে বাঁচাতে জরুরি রক্ত প্রয়োজন শুনে নজরুল রক্ত দিতে গিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণ রোগী মুসলমানের রক্ত নিতে রাজি হননি। আর ১৯৪১ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্যসমিতির রজতজয়ন্তী উৎসবে নজরুল ‘যদি আর বাঁশী না বাজে’ শীর্ষক অভিভাষণে বলেন, ‘‘আমি যদি [ফিরে] আসি, আসব হিন্দু-মুসলমানের সকল জাতির ঊর্ধ্বে যিনি একমেবাদ্বিতীয়ম্‌ তাঁরই দাস হয়ে।’’ ১৯২৯-এ তাঁর গণসংবর্ধনার বিরুদ্ধে ‘মোহাম্মদী’ গোষ্ঠীর চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছিল, ১৯৪২ থেকে বাক্‌রুদ্ধ এই কবির বিরুদ্ধে মৌলবাদী আক্রমণ কিন্তু স্তব্ধ হয়নি। অভিযোগ ছিল, ‘‘তিনি ছিলেন ‘আগে ভারতবাসী পরে মুসলমান’।’’ এমনকি তাঁর পাকিস্তানিকরণের জন্য প্রস্তাবও দেন গোলাম মোস্তাফা। ১৯৭২ সালে ঢাকায় অবশ্য স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশ তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সম্মান জানিয়েছিল, কিন্তু কবি তখন সব কিছুর ঊর্ধ্বে। বিপুল তথ্যসম্ভারে সমৃদ্ধ এই বইয়ে পূর্ববর্তী গবেষকদের মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত যথাযোগ্য ভাবে আলোচিত, কিছু অতিকথন সংশোধিত। নজরুলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যে জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়, সর্বশেষ তথ্যাদির সংযোজনে এটি তারই সম্পূর্ণ পরিমার্জিত নব রূপ।  

 

 

নজরুলের ‘ধূমকেতু’/ সম্পাদকীয় বিষয়সূচি ও অন্যান্য
ঋত্বিক মল্লিক
১৭০.০০  
পত্রলেখা

‘‘আমার ও হেমন্তের বড়ো সাধ ছিল একত্রে ‘মুড়ো ঝ্যাঁটা’ নাম দিয়ে কাগজ বের করবো। বহুযুগের আবর্জনা-ভরা বাঙলায় তথা ভারতে ঝ্যাঁটার বড়ো দরকার। আশা করি ‘ধূমকেতু’ আগুনের ঝ্যাঁটা হয়ে বঙ্গমাতার দেউলখানি সাফ করে দেবে।’’ কাজি নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার জন্য শুভেচ্ছাবাণীতে লিখেছিলেন বারীন্দ্রকুমার ঘোষ। ১৯২২ সালের ১১ অগস্ট ‘ধূমকেতু’র সূচনা। বছর ঘোরার আগেই ১৯২৩ সালের মার্চে রাজরোষে পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়। কারারুদ্ধ হন নজরুল। কিন্তু সংক্ষিপ্ত জীবৎকালেই ‘ধূমকেতু’ অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নজরুলের আগুন-ঝরানো সম্পাদকীয় ও অন্যান্য সংবাদমূলক রচনার চমকপ্রদ শিরোনাম, সরস টিপ্পনী, ব্যঙ্গবিদ্রূপ মানুষকে সব থেকে আকৃষ্ট করেছিল। চরিত্রে রাজনৈতিক এই পত্রিকার পিছনে কিন্তু কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষণা ছিল না। বর্তমান শতকের সূচনায়  ঢাকার নজরুল ইনস্টিটিউট দুর্লভ এই পত্রিকার প্রাপ্তব্য সংখ্যাগুলি একত্রে প্রকাশ করেছে (সম্পা: সেলিনা বাহার জামান), আর এই বইতে সঙ্কলিত হয়েছে নজরুলের আঠাশটি সম্পাদকীয়, এবং সংখ্যাগুলির সূচি। সঙ্গে আছে পত্রিকা প্রকাশের প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক পরিস্থিতি, পত্রিকার বিভিন্ন নিয়মিত বিভাগ (পুস্তক সমালোচনা বিভাগটির নাম ছিল ‘নিক্তি-নিকষ’, চিঠিপত্র বিভাগ ‘শনির পত্র’, অন্য পত্রিকা থেকে পুনর্মুদ্রণ ‘শানাই-এর পোঁ), ব্রিটিশ বিরোধিতা ও সমকালীন প্রতিক্রিয়া, বিজ্ঞাপনের চরিত্র, বিভিন্ন শুভেচ্ছাবাণী, সাংবাদিক নজরুলের পরিচয় (‘ধূমকেতু’ থেকে ‘লাঙল’) প্রভৃতি প্রসঙ্গ।

 

 

বিট্‌লস্‌ উপাখ্যান
শুভোদয় দাশগুপ্ত
২৫০.০০  
অনুষ্টুপ
  

সত্তরের দশক বাংলায় মুক্তির দশক, আর ষাটের দশক বিলেতে গানের মুক্তির দশক। আরও একটু স্পষ্ট করলে, ‘দ্য বিটলস’-এর দশক। বন্দর শহর ও বাণিজ্যনগরী লিভারপুলের চার তরুণ প্রচলিত রক অ্যান্ড রোল ঘরানা ছাপিয়ে যে দশকে তাঁদের সুর আর বাণীর অনায়াস সহজতায় শুধু ব্রিটেন কেন, আমেরিকারও মন জয় করেছিলেন। কী করে সম্ভব হল তা, সেই ইতিহাসই ধরা পড়েছে বিটল-দের নিয়ে লেখা এই বাংলা বইয়ে। ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, বইটি ‘বিট্‌লম্যানিয়ার মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধানের চেষ্টা।’ শুরুর ‘পপ-রকের প্রাক্‌কথন’ অধ্যায়টি বিটলদের উপযুক্ত আগমনি। পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের বাইরেও অন্য গানের যে বিপুল তরঙ্গ, তার মধ্যে ‘দ্য বিটলস’-এর স্থান কোথায়, পশ্চাৎপটটি পড়ে বুঝতে পারবেন পাঠক। আছে বিটলদের ‘লাভ মি ডু’, ‘লেট ইট বি’, ‘প্লিজ় প্লিজ় মি’, ‘ফ্রম মি টু ইউ’, ‘শি লাভস ইউ’, ‘স্ট্রবেরি ফিল্ডস’, ‘পেনি লেন’, ‘ইনার লাইট’-এর মতো গানগুলির প্রসঙ্গ। দেখানো হয়েছে বিটলদের উত্থানে টিভি-সহ গণমাধ্যমের ভূমিকা; জন লেনন, পল ম্যাকার্টনি, জর্জ হ্যারিসন ও রিঙ্গো স্টারের বন্ধুতা, প্রেম, বিতর্ক, মাদকাসক্তি, অধ্যাত্মবাদ— লেখক ছুঁয়েছেন সবই। সাদা-কালো বেশ কিছু ছবির সঙ্গে প্রাপ্তি ‘বিট্‌লস্‌ টাইমলাইন’ ও তাঁদের ডিস্কোগ্রাফি। সূচিপত্রহীন বইটির বিন্যাস আরও ভাল হতে পারত। লেখক কথাপ্রসঙ্গে বিটলদের নিয়ে নানা ইংরেজি বই ও পত্রপত্রিকার উল্লেখ করেছেন, গ্রন্থসূচিটি বই-শেষে গুছিয়ে দিলে পাঠকেরা উপকৃত হতেন আরও।