ঠাম্মি যে কত গল্প বলতেন। গল্প শুনতে শুনতেই পুপুল ঘুমিয়ে পড়ত রোজ। তিনি স্বর্গে চলে গিয়েছেন সেও তিন বছর হয়ে গেল। পুপুল তখন ছোট্ট। তবু এখনও সে সব গল্প একটু একটু মনে পড়ে তার।

“তার পর জানলি তো পুপুল, রাজবাড়িতে খবর এসেছে কুন্তীর ছেলে হয়েছে। তাই না শুনে গান্ধারীর ভারী হিংসে হল। তখন তার পেটের মধ্যে ছেলে রয়েছে বটে কিন্তু জন্মায়নি। তার মানে কুন্তীর ছেলে, যুধিষ্ঠির হয়ে গেল বংশের সবচেয়ে বড় ছেলে। সেকালের নিয়ম মতো সেই রাজা হবে। তা নিজের ছেলে কোনওদিন রাজা হতে পারবে না জেনে গান্ধারী করল কি বল তো?  রাগের চোটে নিজের পেটে দুম দুম করে মারতে লাগল, বলল যে, রাজাই যদি না হয়, তবে অমন ছেলে নিয়ে আমার লাভ কি? মরে যাক গে ও ছেলে...”   

“ছেলেকে মেরে ফেলতে চাইল?” পুপুল চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করত। 

ঠাম্মি কী উত্তর দিতেন এখন আর মনে পড়ে না পুপুলের। পুপুল আজকাল আর গল্প শোনে না। সময় পেলেই ছবি আঁকে। ছবি আঁকতে বড্ড ভালবাসে সে। লক্ষ্মী ছেলে সে। কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিও নেই। তবে তার এই সুবিধের জন্য স্কুলে আজ অবধি কেউ তার প্রশংসা করেনি। পড়াশোনায় সে রিপোর্ট কার্ডের ভাষায় অ্যাভারেজ। পেরেন্ট-টিচার মিটে, ভার্গবম্যাম বিরক্ত মুখে বলেন, “হি ইজ ভেরি কেয়ারলেস। অলওয়েজ ডাজ সিলি মিসটেকস।”  তখন তাঁর ঠোঁটের কোণদুটো বেঁকে এমন ভাবে নীচের দিকে নেমে আসে যে দেখলে শিউরে উঠতে হয়।

এদিকে যে সব বাচ্চারা পুপুলের সঙ্গে পড়ে, তারা প্রত্যেকেই ‘অসাধারণ’। কেউই সাধারণ নয়। তাদের মায়েরা আগে যখন নিজের সন্তানদের সেই অসাধারণত্বের বিষয়ে আলোচনা করত, পুপুলের মা শ্রীতমা বড়ই সংকুচিত হয়ে যেত। কিন্তু গত ডিসেম্বরে একটা ভারী আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল। সেই থেকে অন্য মায়েদের অমন  কথাবার্তা শুনলেই সে মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসত।    

প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ রবিবার পুপুলের পিসিদের পাড়ার একটা ক্লাব, নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ছোটদের আঁকার প্রতিযোগিতাও হয়। সেখানে গত বছর পুপুল সেরা আঁকিয়ের মেডেল পেয়েছিল। শ্রীতমা ওদের বসার ঘরের শোকেসে সাজিয়ে রেখেছে মেডেলটা। কেউ ওদের বাড়িতে এলেই শ্রীতমা ওটা দেখিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গল্প বলে। পুরো কাগজ জুড়ে ধু ধু বালি ছাওয়া সমুদ্রতটের ছবি এঁকেছিল পুপুল। আর তার উপরে পড়ে থাকা রঙিন ঝিনুকের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো এক লাল কাঁকড়া। আসলে তার ঠিক আগেই ওরা দিঘাতে বেড়াতে গিয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে বালি ক্রমশ তেতে উঠছিল, কিন্তু পুপুলকে কিছুতেই নড়ানো যাচ্ছিল না। নীচু হয়ে একদৃষ্টে কী যেন দেখছিল। শ্রীতমা হেসে সকলকে বলে, “আরে তখন কি জানি...’’ তার পর বলে প্রতিযোগিতায় বিচারকের আসনে থাকা নামজাদা শিল্পী অভিষেক ভাদুড়ির কথা। তিনি শ্রীতমাকে আলাদা করে ডেকে বলেছিলেন, “একটা অনুরোধ আছে ম্যাডাম। দেখবেন প্রতীক যেন  ছবি আঁকাটা ছেড়ে না দেয়। হি ইজ ট্যালেন্টেড। দেখার চোখ আছে ওর। ঠিক মতো চর্চা করলে একদিন ও আমাদের দেশের গর্বের কারণ হবে।”  

প্রতিবার বলতে বলতে গায়ে কাঁটা দেয় শ্রীতমার। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভার্গব ম্যামের মুখখানা। স্কুলের যত অসাধারণ ছেলে-মেয়েদের মায়েদের মুখগুলোও। মানসচক্ষে দেখতে পায় প্রচুর মানুষে ঠাসা প্রকাণ্ড প্রেক্ষাগৃহ। কত বিশিষ্ট মানুষ। শিল্পী প্রতীক ঘোষের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে এসেছেন তাঁরা। তাঁদের চোখে মুগ্ধতা। মিডিয়ার ইন্টারভিউতে প্রতীক বলছে, “আমার মা আমার অনুপ্রেরণা।” তখন থেকেই তো শ্রীতমার দৈনন্দিন জীবনের পরতে পরতে মিশে যাচ্ছিল ওই সব ছবি। সে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল বিরাট একটা কিছু আসছে তাদের মামুলি জীবনে যা মুছে দেবে পুপুলের কম নম্বর পাওয়ার হতাশা। 

বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে একটা নামী দামী আঁকার স্কুলে ভর্তি করেছে সে পুপুলকে। প্রতি রবিবার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া আসাতেই তার সারাদিন কেটে যায়। কিন্তু সেখানকার কিছুই পছন্দ হচ্ছে না পুপুলের।

গোঁজ মুখে বলে, “ধুস্‌ ওরা খালি, দেখে দেখে ঘটি, কুঁজো আঁকতে দেবে রোজ রোজ...ভাল্লাগে না।” শ্রীতমা তখন পুপুলকে হাত পাকানোর উপকারিতা, ধৈর্য ধরার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি ভাল ভাল সব উপদেশ দেয়। অবোধ পুপুল তবু রবিবার সকাল হলেই ড্রইং স্কুল কামাই করার নানা ছুতো করবেই করবে। সে সব অবশ্য ধোপে টেঁকে না। হাঁড়ি মুখ করে পুপুলকে অগত্যা রওনা দিতেই হয়। 

শ্রীতমা ইদানীং খুব সতর্ক হয়ে খেয়াল রাখে পুপুল ঠিক মতো আঁকা প্র্যাকটিস করছে কিনা। দুপুরের ঘুম, কাগজ পড়া এমনকি ফেসবুকের মোহ ত্যাগ করে সে পুপুলের আঁকার সময়ে  পাশে এসে বসে। নিজের স্কুল জীবনের ড্রইং ক্লাসের অভিজ্ঞতাটুকুই তার সম্বল। ছেলের ড্রইং খাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে  থাকতে সে আচমকা আর্তনাদ করে ওঠে, “ওকি লাইনের বাইরে রঙ বেরিয়ে যাচ্ছে যে।” 

পুপুল রেগে যায়। শ্রীতমা তখন খুব আদর করে ছেলেকে বোঝায় ওই রঙ পেন্সিলগুলোই আসলে ওর পৃথিবী জয় করার হাতিয়ার।  

সেই  ডিসেম্বরের পর শ্রীতমা আরও দুটো বড় প্রতিযোগিতায় পুপুলকে বসিয়েছিল। কিন্তু কোনওটাতেই প্রাইজ় আসেনি। কারণ কে না জানে যে সব জায়গাতেই খারাপ আর পয়সাওয়ালা লোকেরা টাকা দিয়ে নিজেদের ছেলে-মেয়ের জন্য সমস্ত সাফল্য কিনে নেয়। ও তখন ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়েছে, “মন খারাপ করিস না। খালি নিয়মিত প্র্যাকটিসটা করে যা। খারাপ মানুষেরা টাকার জোরে নানা ভাবে বাধা দিতে চেষ্টা করবে। কিন্তু সত্যিকারের ট্যালেন্ট যার থাকে তাকে কেউ শেষ অবধি হারাতে পারে না। দেখবি অনেক অনেক টাকা হবে একদিন তোরও। খবরের কাগজে তোর ছবি বেরবে।”

তিন মাস আগে আবার একটা আঁকার প্রতিযোগিতা ছিল। খুব বড় মাপের। আন্তর্জাতিক স্তরের। এখানে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন নেই। সারা পৃথিবী জুড়ে এই প্রতিযোগিতা হবে। বিভিন্ন দেশের সমস্ত ক্ষুদে শিল্পীদের আঁকা ছবি পাঠানো হবে প্যারিসে। নামজাদা শিল্পীরা যত্ন করে ওসব ছবির মূল্যায়ন করবেন। ফল বেরতে স্বভাবতই অনেক সময় লাগবে। প্রথম একশো জনকে পুরস্কার হিসেবে ওরা নানা লোভনীয় সুযোগ দেবে।

যেখানে প্রতিযোগিতা হবে, সে জায়গাটা ওদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। শ্রীতমা তাই অ্যালার্ম দিয়ে উঠে পড়েছিল রাত থাকতেই। পুপুর ছুটির দিনের আরামের ঘুমকেও প্রশ্রয় দেয়নি। তাড়াহুড়ো করে সব কাজ সেরে বেরিয়েছিল। পুপুলের বাবা ঠোঁট টিপে হেসে বলেছিল ভূতের ব্যাগার। উত্তর দেয়নি শ্রীতমা। ভোরের ফাঁকা বাসের জানলা দিয়ে সদ্য ওঠা সূর্যের দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়েছিল কোনও একদিন পুপুল নিশ্চয় বুঝবে মায়ের এত পরিশ্রম, যত্নের মূল্য। সমস্ত কিছু সুদে আসলে ফেরত পাওয়ার দিন সেটা। সুখ, অভিমানের মেশামেশিতে চোখে জল এসেছিল তার। 

ওখানে পৌঁছে অনেক বাচ্চার ভিড়ে পুপুলের আঁকার স্কুলের, শালিনী ও তার মায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়।

শালিনীর মা হেসে বলে, “প্রতীক তো অসাধারণ আঁকে। আমার মেয়ে বলে। দেখ ও ঠিক প্রাইজ় পাবে। আমাদের কত আনন্দ হবে তখন।” শ্রীতমা একটুও খুশি হয় না। তার মোটেই কোনও কুসংস্কার নেই। কিন্তু তার বুঝতে বাকি থাকে না যে এভাবে বলা মানে আসলে নজর লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা! 

সে ঝাঁঝিয়ে ওঠে, “বাজে বোকো না। এমন কিছু ভাল আঁকে না ও।”

তার পর পুপুলকে একধারে ডেকে উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করে, “ও কেমন আঁকে রে?”

পুপুল মুখ ভেঁটকে দু’ধারে মাথা নাড়াতে তবে নিশ্চিন্ত হয় সে। খুঁটিনাটি উপদেশগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। উদ্যোক্তারা প্রতিযোগীদের অডিটরিয়ামের মধ্যে যাওয়ার জন্য ডাকেন। শ্রীতমা ছেলের পিছু পিছু গিয়ে আর্ত স্বরে চীৎকার করে, “ওষুধের ছিপিটা...ওষুধের ছিপিটা দিয়েছি দেখবে। সূর্য গোল করার জন্যে...” তার গলা ধামাচাপা দিয়ে এক উদ্যোক্তা তার স্বরে ধমকে ওঠেন, “অভিভাবকেরা দয়া করে বাইরে অপেক্ষা করুন। গেটের মুখে ভিড় করবেন না। প্রতিযোগীদের ভিতরে ঢুকতে দিন।”     

নির্দিষ্ট সময়ের পরে বাচ্চারা বেরিয়ে আসে একে একে। শ্রীতমা উদ্বেগে প্রায় মরে যেতে যেতে বলে,- “ওষুধের ছিপিটা ব্যবহার করেছ তো? নাকি শুধু হাতেই ত্যাড়াব্যাঁকা করে আঁকলে?” ওপাশের গাছের মোটা ডালে কাঠবেড়ালি ল্যাজ তুলে কিছু খাচ্ছে। পুপুল মাথা ঘুরিয়ে তাই দেখতে দেখতে, অন্যমনস্ক ভাবে ঘাড় নাড়ে।    

ওরা বলে দিয়েছিল সমস্ত নামী খবরের কাগজেই নির্বাচিত শিল্পীদের নামের তালিকা বেরবে। তাই রোজ সকালে উঠে তন্নতন্ন করে কাগজ হাতড়ায় শ্রীতমা। আজও কোনও উল্লেখ ছিল না। কিন্তু দুপুরে পুপুলকে নিয়ে স্কুল থেকে ফিরতেই তার মোবাইল বেজে ওঠে। অচেনা নম্বর।  

ওধার থেকে সে একটা উচ্ছল গলা শোনে, “এই, আমি শালিনীর মা সুদেষ্ণা বলছি। জানো তো ফেসবুকে খবর বেরিয়ে গিয়েছে। তোমাদের আশীর্বাদে শালিনী র‌্যাঙ্ক করেছে। কাল কাগজে দেবে। ভাবতেই পারছি না, দেশবিদেশের অত বাচ্চাদের মধ্যে...ইন্ডিয়া থেকে একমাত্র ও-ই...’’

 ঝোড়ো বেগে রক্ত আছড়ে পড়ছে শ্রীতমার বুকের মধ্যে। হৃৎপিন্ডটা ফেটে যাবে বুঝি! পুপুল ঘ্যানঘ্যান করে, “খাঁবার দিঁচ্ছ নাঁ কেঁন...খাঁলি বঁসেই আঁছ চুঁপ কঁরে...”

ফেটে পড়ে শ্রীতমা। “পারব না...নিজে নিয়ে খাও। এত খাটুনি, টাকার শ্রাদ্ধ। লাভটা কি হল? আগেই বোঝা উচিত ছিল যে ল্যাদাড়ুদের কোনওদিনই কিছু হয় না।” পুপুল নিমেষে চুর করে যায় মায়ের ধমক শুনে।

পুপুল এখন ঝুঁকে পড়েছে ড্রইং খাতার উপরে। ক্রেয়ন পেন্সিলগুলো টেবিলের চারদিকে ছড়ানো। পুপুল রঙ তুলে নিচ্ছে আর গায়ের জোরে সেগুলো ঘষে চলেছে খাতার পাতায়। চাপের চোটে কাগজ ছিঁড়ে যাচ্ছে। ছবিটা মোটেই ভাল হচ্ছে না। হিজিবিজি। যা ইচ্ছে তাই! কাগজ জুড়ে রঙের গুন্ডামি! তবু বোঝা যাচ্ছে, মাটিতে শুয়ে আছে তিনজন। পুপুল ছাড়া কেউ জানে না যে ওরা আসলে, শালিনী, জিৎ আর টিটো। জিৎ এবার অঙ্কে একশোয় একশো পেয়েছে। টিটোকে অবশ্য বেশি চেনে না পুপুল। ওদের বাড়ির সামনে একটা বড় লন আছে। টিটোর জন্মদিনে ওই লনের চারপাশ ঘিরে আলো জ্বলে, গান বাজে। টেডি বেয়ার, মিকি মাউজ় সেজে কারা যেন ঘোরে পেস্ট্রি, চকলেটের ট্রে হাতে। নিজেদের বারান্দা থেকে দেখে পুপুল। ভারী মজা লাগে। কিন্তু এই মুহূর্তে মাটিতে শুয়ে থাকা টিটোর বুকে ছোরা বেঁধানো। পুরো ছবিটা জুড়ে পুপুল শুধু লাল রঙ ঘষেই চলেছে। ঘষেই চলেছে। ছবির মাটি, আকাশ আর ওরা তিনজন চাপা পড়ে যাচ্ছে লালের নীচে। 

নিজের ঘর থেকে এক সময়ে উপরে আসে শ্রীতমা। টেবিলে উল্টে রাখা প্লেট, চাপা দেওয়া খাবার যেমনকার তেমনিই রয়ে গিয়েছে এখনও। নিঃশব্দে পুপুলের ঘরে ঢোকে সে। ছেলের কাঁধের পাশ দিয়ে উঁকি মারে। ছবিটা দেখতে পায় শ্রীতমা। চমকে উঠে সে। কত হাজার বছর আগে নিজের চোখে, নিজেরই  হাতে বেঁধেছিল যে পুরু আস্তরণটা, আচমকা খসে পড়েছে সেটা! তাই বিষম ত্রাসে সে শুধু দেখে ওই ড্রইং খাতার পাতা উপচে রক্ত ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ঢেউ খেলছে রক্ত-সমুদ্রে। সেই ভয়ঙ্কর অতল থেকে হাঙরের মতো উঠে আসা দুর্যোধনদের মুখগুলোও স্পষ্ট দেখতে পায় সে।  

শ্রীতমা আকুল হয়ে আচমকা জড়িয়ে ধরে ছেলেকে। এখনও সময় আছে। ‘হারজিতের’ বিপজ্জনক গলিটা পেরিয়ে আসতেই হবে ওকে। পুপুলের হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে ওখান থেকে অনেক দূরে। যেখানে সে ছবি আঁকবে স্বাধীন ভাবে। কোনও কিছুর প্রত্যাশা করে নয়। শুধুই সৃষ্টি... তার কল্পনার সৃষ্টি।