সাদা চাদরে ঢাকা প্রবীরের দেহটা শোওয়ানো ছিল বিছানায়। এই মুহূর্তে ঘর ভর্তি লোক। অতি কৌতূহলী সব মুখের ভিড়। গোমড়ামুখো কর্তব্যপরায়ণ পুলিশের অবিশ্বাসের নিশ্বাস। সন্দেহের কালো ধোঁয়া। 

দম নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল বিপাশার। দরজার পাশে চেয়ারটায় বিধ্বস্তভাবে হেলান দিয়ে বসেছিল। প্রবল ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়া ছিন্নভিন্ন গাছের মতো নিস্তেজ। যেন কিছুতেই আর কোনও কিছুই এসে যায় না। অপ্রত্যাশিত ঘটনার আকস্মিকতায় এতটাই বিহ্বল যে এই মুহূর্তে ও কী করবে, বা ঠিক কী করা উচিত তা নিজেই ঠিক ভেবে পাচ্ছিল না। যে মানুষটাকে গতকাল রাতেও চূড়ান্ত অবমাননার মুহূর্তে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভেবেছিল। সেই ইচ্ছে পূরণটা এমন নির্ঝঞ্ঝাটে চুকে যাবে, তা যেন ঠিক ওর বিশ্বাসই হচ্ছিল না!

সকালের রোদ্দুরটা চোরের মতো জানালা দিয়ে গলে এলিয়ে ছিল লাল সিমেন্টের মেঝেতে। বাইরে শিরশিরে বাতাস। শীতের জড়তা জমছিল জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একা পেয়ারাগাছটার হলুদ হয়ে আসা পাতায়। জানালার গ্রিলে ঘিরে থাকা লোহার লতানে পাতারা শীতল সম্পর্কের সকল উত্তেজনার সাক্ষী হয়ে ঠান্ডা চোখে চেয়েছিল ওরই দিকে!

কাল সন্ধের ঝড়ে জানালার নীচে ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে থাকা চায়ের কাপের টুকরোগুলোর মাঝে খুঁজলে এখনও ব্যথার নীল দাগ চোখে পড়বে। ওর কপালের কোণে ফুলে থাকা নীল অসহায়তাটুকুর মতো। অথচ প্রবীর এ রকম ছিল না। ওদের সম্বন্ধ করে বিয়ে। আর পাঁচটা সাধারণ সংসারের মতোই যেখানে খুচরো ঝগড়াঝাঁটি আর নৈমিত্তিক শরীরী-অশরীরী প্রয়োজনীয়তার প্রলেপ সমানানুপাতে ভাগ করে রাখা ছিল। চালডালতেলনুনের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে ফাঁকা জায়গা ছিল শুধু একটাই। ওদের সন্তানহীনতা। বিয়ের পর সাত-সাতটা বছর পার হয়ে গেলেও দু’জনের মাঝে তৃতীয় কেউ আসেনি! কিন্তু সত্যি তা-ই কি? সম্প্রতি যে পরিবর্তনের রং ধরা পড়ছিল প্রবীরের ব্যবহারে, তার পিছনে তৃতীয় কারও উপস্থিতি কি ছিল না? মাঝে মাঝে তো সেই সন্দেহটাই ডালপালা ছড়াতে শুরু করেছিল বিপাশার মনের গভীরে। আসলে যখন সংসারের সোজা হিসেবে অঙ্ক মেলে না, তখন চঞ্চল মন নিজের মতো করেই হিসেব মেলাতে চায়! অথচ প্রশ্ন করলে প্রবীর আরও খেপে উঠত। আরও মারকুটে হয়ে উঠত। 

এমনিতে প্রবীর একটু রগচটা স্বভাবের ছেলে। বিয়ের পর শাশুড়ি বলতেন, ‘‘রেগে গেলে ওর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না!’’ তবে বিয়ের সাত বছর পরে সম্প্রতি যেন ওকে আবার নতুন করে চিনতে শুরু করেছে বিপাশা। পাড়ায় সম্প্রতি আসা এই দম্পতিটিকে ঘিরে আশেপাশের সকলের কৌতূহল যে ক্রমেই শীতের হেলানো রোদ্দুরের মতো দীর্ঘায়িত হয়ে চলেছে, তা ধীরে ধীরে বেশ বুঝতে পারছিল ও। একটা সময় ছিল, যখন সন্ধেবেলা প্রবীরের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকত বিপাশা, দু’জনের সংসারে বিকেলের টুকরো অবসর সাতরঙা গোধূলির মতোই ভাললাগায় বিভোর হয়ে উঠত। দু’কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে জমতে থাকত যত বলা-না বলা কথারা। বুড়বুড়িয়ে ভেসে ওঠা গল্পেরা মিটিয়ে দিত দাম্পত্য কলহ।  হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল সেই সব কথারা? গল্পেরা? গোধূলির ক্যানভাস?

প্রবীরের চাকরিসূত্রে মাস আটেক হল ওরা এই শহরতলির ভাড়াবাড়িতে এসে উঠেছে। অফিস ফেরত প্রবীরের দুর্বোধ্য আক্রমণাত্মক মেজাজ, চিৎকার-চেঁচামেচি, অকারণ অশান্তি— চার দেওয়ালের বাইরেও ভেজা কাঠের ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। প্রবীরের কাছ থেকেই ও শুনেছিল, ওদের এখানকার অফিসের রিসেপশনিস্ট নাকি বেশ সুন্দর দেখতে। এখানে কাজে জয়েন করার পরে এক দিন গল্পচ্ছলে প্রবীর নিজেই বলেছিল মেয়েটার পিছনে নাকি তিন-চার জন লাইন লাগিয়ে বসে আছে, কিন্তু মেয়েটা যেন প্রবীরের প্রতি একটু বেশিই দুর্বল। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা টিফিন মাঝে মাঝেই সে অফার করে প্রবীরকে। প্রবীরের জ্বর হলে ঘন ঘন ফোন আসে ওর মোবাইলে! অফিস ফাংশনের উচ্ছল মুহূর্তে মিস অনামিকার সঙ্গে স্টেজে পা মিলিয়ে প্রবীরের পাশে এসে বসে পড়ে সেই স্কিন টাইট ব্লু জিনস, রক্তলাল স্লিভলেস টপ, আলুথালু শাড়ির রক্তাভ বিপাশা পাশে বসেও কেঁপে ওঠে ভিতরে ভিতরে! জাতকুঁড়ে মানুষটা এক এক দিন হঠাৎই মর্নিংওয়াকে বেরিয়ে পড়লে জানালার ওপারে দুটি ছায়া অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রশ্ন যে করেনি বিপাশা তা নয়, উত্তরের বদলে জুটবে তীব্র অশান্তি, তা জেনেও! কেমন যেন অসহ্য ঘৃণায় চোখ কুঁচকে তাকিয়েছিল ওর দিকে সে দিন মানুষটা, “এতটা অবিশ্বাস?”

পাঁচ-নয়ের প্রবীরের বয়স চল্লিশ ছুঁই-ছুঁই হলেও তা অবশ্য দেখে বোঝা যায় না। ঋজু চেহারা। শ্যামলা মুখে দৃঢ় চিবুক।  বিয়ের পর শুনেছিল বিপাশা, পাড়ার একটি মেয়ের সঙ্গেও নাকি প্রবীরের ঘনিষ্ঠতা ছিল, কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারটাকে দাঁড় করানোর চিন্তা তখন তার মাথায়। বোনের বিয়ের দায়িত্ব। সে মেয়ে আর অপেক্ষা করতে চায়নি। কোথায় যেন শুনেছিল বিপাশা, সিংহ রাশি নাকি বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের কাছে খুব আকর্ষণীয় হয়। বিপরীত লিঙ্গের মানুষেরা ঘুরেফিরে আসে তার কাছেই! প্রবীরের সিংহ রাশি! বুকের ভিতরটা হঠাৎ হুহু করে উঠেছিল বিপাশার। বিয়ের পরে ওদের সম্পর্কটার মধ্যে অস্বাভাবিক কখনও কিছু দেখেনি। খুব কেয়ারিং না হলেও ওর প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের দিকে প্রবীর খেয়াল রাখেনি, সে অভিযোগ ও কখনওই করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, প্রবীর নিজে একটু পজ়েসিভ। আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা রয়েছে ওর মধ্যে বেশ ভাল রকম।  সে দিক থেকে দেখতে গেলে, বিপাশা বেশ বাধ্য, অনুগত। কিছুটা ভীরু, নির্ভরশীল আর দুর্বলও। প্রবীরের কর্তাগিরি নিয়ে ওর কখনও কোনও ছুৎমার্গ ছিল না, বরঞ্চ একটা শক্ত গাছে হেলান দিয়ে চোখ বুজে জীবনটা কাটিয়ে দেওয়ার মতো সুখ আর কিছুতে নেই, এমনটাই ওর মনে হত। কিন্তু সুখ যে ক্ষণস্থায়ী সে খেয়াল যখন ওর হল, তখন বোধহয় বেশ অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে!

“তোমাকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে গো মেয়ে। আরে বাবা, সম্পর্কের মাঝখানে যদি কোনও শক্ত বাঁধন না থাকে, তো পুরুষমানুষকে ধরে রাখবে কিসের জোরে? পুরুষমানুষ হল গিয়ে পদ্মপাতার উপর জল। একটু অসাবধানেই টুপ করে পিছলে পড়বে!” গায়ে পড়ে উপদেশ দিতে এসে হাজির হয়েছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বাড়িওয়ালি। তার এক কলেজে-পড়া ছেলে রয়েছে, মা-বাবার একান্ত বাধ্য। এমন অভদ্রের মতো ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি তাদের বাড়ি তো দূরে থাক, এ পাড়ায় আর কোনও ঘরে তিনি হতে দেখেননি। ঠারেঠোরে এও বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, এমন অভব্যতা বেশি দিন তার বাড়িতে বরদাস্ত করবেন না তিনি!  

ছোট্ট পাড়ার মুদি দোকানিটা থেকে শুরু করে সব্জিওয়ালা পর্যন্ত আজকাল টেরিয়ে দেখে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা বিপাশাকে। কিংবা স্কুলের পথে খলবলিয়ে উড়তে থাকা লাল ফিতের বেণী দোলানো প্রজাপতির দল! স্কুলে পড়া জীবনানন্দের সেই কবিতার লাইনটির মতো, “সকলেই আড়চোখে সকলকে দেখে...” 

আজকাল রোজ থমথমে দুপুরের শেষে শীতবিকেলেও কালবৈশাখীর আশঙ্কায় থমকে থাকে বিপাশা! অকারণ বাজ পড়তে থাকে ঘরের মধ্যে। চায়ে চিনি কম, কিংবা রান্নায় নুন। এমন অগোছালো কেন বিপাশা? কেন বাড়ি ফিরে তোয়ালেটাও ঠিকঠাক নিজের জায়গায় পাওয়া যায় না? কেন অ্যাশট্রেটা টেবিলের বদলে জানালায় ঠাঁই পায়? সারা দিন বাড়ি বসে থাকলেও কেন সংসারের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখতে পারে না একটা মেয়ে? যে সব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কারণে মাঘের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। সেগুলো যে বিয়ের এতগুলো বছর পরে এমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা স্বপ্নেও কোনও দিন ভাবেনি বিপাশা!

নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, সব কিছু নতুন। কাকে জিজ্ঞেস করবে, কোথায় যাবে, কার কাছে গেলে সঠিক উত্তর পাবে, ভাঙনের পারে দাঁড়িয়ে খরস্রোতা নদীতে বিধ্বংসী ঢেউ উঠতে দেখা ছাড়া ওর আর কিছু করারও ছিল না! জীবনের এক-একটা মুহূর্তে মানুষের চেয়ে অসহায় বোধহয় কেউ নয়। অজানা আশঙ্কায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বিপাশার মনে তবু মাঝে মাঝেই বিপরীতধর্মী ভাবনার ঢেউ আসত।

অশান্তির তীব্রতা সইতে সইতে ক্লান্ত বিপাশার এক-এক সময় মনে হত, সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে চলে যায় কোথাও। কিন্তু কোথায়? বিপাশার জানা ছিল না। জানা ছিল না বলেই যান্ত্রিক রেকারিংয়ের মতোই ঘুরেফিরে অশান্তির সুদের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে ওকে মুখ বুজে! বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান সে। পড়াশোনা বলতে কলেজের ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত। সেই মা’ও ঠিক সময় বুঝে দায়িত্ব হাত থেকে ঝেড়ে ফেলে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছে দিগন্তের ওপারে। আর শাশুড়িমা তো বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেহ রেখেছেন। থাকার মধ্যে আছে এক ননদ, সে নিজের স্বার্থটুকু ছাড়া আর কিছু বোঝে না। দেশের বাড়ির চিলতে জমিটুকুর জন্যেও ওত পেতে বসে রয়েছে!

গতকাল সন্ধেবেলাতেও অফিস থেকে ফিরে সামান্য বিষয় নিয়ে অশান্তি শুরু করেছিল প্রবীর। আর কোনও বিষয়ে তেমন শৌখিনতা না থাকলেও চা নিয়ে ও বেশ খুঁতখুঁতে, ওর পছন্দের দামি চা পাতাটা এখানে পাওয়া যায় না। কলকাতা থেকে মাঝে মাঝে নিয়ে আসে প্রবীর। সেটা ফুরিয়ে গিয়েছিল দিন কয়েক আগে। বিপাশা যে জানায়নি তা নয়। ভুলে যাওয়ার স্বভাবটা ওর ছিল, প্রবীরের নয়। কিন্তু এ বার প্রবীরই ভুল করেছিল, আর সে ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে বিপাশাকে। চায়ের কাপটা সজোরে ছুড়ে মেরেছিল ও বিপাশাকে। বিপাশার কপাল ছুঁয়ে সেটা ছিটকে গিয়েছিল জানালার কাছে। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি। টেবিলের উপর রাখা জলের জগটা ছুড়ে ফেলতেই ভয়ে রান্নাঘরে দৌড়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করেছিল বিপাশা। সে দরজা আর রাতে খোলেনি। কোনও এক সময় রেগেমেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল প্রবীর। ফিরেও এসেছিল মাঝরাতে। 

আজ এত বেলা হয়ে যাওয়াতেও প্রবীরকে উঠতে না দেখে বন্ধ দরজার উপরে হামলে পড়েছিল অস্থির বিপাশা। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বাড়িওয়ালাদের ডেকে নিয়ে এসে দরজাটা ভেঙে...

বিছানায় প্রাণহীন প্রবীরের দেহ দেখে পাড়ার ডাক্তার কোনও রিস্ক নেয়নি। সিম্পল পুলিশ কেস। দম্পতির মধ্যে সদ্ভাব ছিল না, গত রাতেও প্রবল মারামারি, অশান্তি হয়েছে। সমস্ত পাড়ার লোক সাক্ষী! সুতরাং বিপাশা ছাড়া এখন সবার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, ‘এটা কি খুন?’ কেউ কেউ তো আবার কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে এমন ভাবতেও শুরু করেছে, ‘বাব্বা, বৌটার কী সাহস! আর স্বয়ং বিপাশার মনে এক অদ্ভুত দোলাচল। প্রবীর কি তা হলে আত্মহত্যা করল? কেন? কী ভাবে? নাকি অন্য কোনও রহস্য আছে এর মধ্যে? কাল রাতে যখন বেরিয়ে গেল প্রবীর, ও কী তাহলে ওই মেয়েটার কাছে গিয়েছিল? পুলিশের তরফ থেকে এক প্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদ সারা হয়ে গিয়েছে। সেও এক যন্ত্রণা। সকলের সন্দেহের চোখ তার দিকে। এ ব্যাপারে পুলিশও বাদ নেই। কিন্তু একমাত্র বিপাশা জান সে কতটা নিরুপায়।

আপাতত প্রবীরের দেহটা পোস্টমর্টেমে পাঠানোর তোড়জোড় চলছিল। 

প্রবল ঝড়ে উপড়ে পড়া ডালপালা নিয়ে চেয়ারে লুটিয়ে পড়েছিল বিপাশা! মানুষটার গায়ের গন্ধ এখনও যে লেগে আছে কাল রাতের ছেড়ে রাখা অফিসের জামা প্যান্টে। ঘরের বিছানায়। বিসর্জনের মুহূর্তে টুপ করে খসে পড়া চাদরটায়। ওর সত্তার ভিতরে দুলে ওঠে চেনা   ছবিগুলোতে! সর্বত্র! এমনভাবে যে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি বিপাশা! 

প্রবীরের পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা এসে গিয়েছে। মাথায় টিউমার।    মাথার ভিতর রক্তক্ষরণ ঘটে মৃত্যু। সাধারণত টিউমারের হঠাৎ বৃদ্ধির ফলে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তা হলে কি প্রবীরের ওই উত্তেজনা, রেগে যাওয়া, বৌকে অকারণে বকুনি দেওয়া, ছোট বড় এই সব অশান্তির মূলে ছিল ওই টিউমার! এখন মনে পড়ছে, মাঝে মাঝে মানুষটা কিন্তু বিপাশাকে মাথা ধরার কথাও বলত। চোখের সমস্যার জন্য এক বার ডাক্তার দেখানোর কথাও ভেবেছিল প্রবীর। কিন্তু তখনই বদলি হয়ে আসতে হল এখানে। কলকাতায় তার চেনা ডাক্তারের বাইরে সে দেখাতে চাইত না। তাই সে পর্বও আর হয়ে ওঠেনি। 

ডাক্তারের মতে, রোগটা একটু আগে ধরা পড়লে হয়তো মানুষটাকে বাঁচানো যেত!