শিমলা
ছবি আঁকা এক শৈলশহর। আদ্যোপান্ত ব্রিটিশদের হাতে গড়া। পাইন আর ধুপির ছায়ার মোড়া। কালকা থেকে চলে আসুন খেলনা রেলে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রেলপথ।
যা দেখবেন: প্রায় ৭০০০ ফুট উচ্চতায় এক শৈলশহর। কালকা হয়ে গোটা যাত্রাপথে আপনার সঙ্গী শুধুই মুগ্ধতা। ৯৭০টি সেতু, ৯৯টি টানেল আর ৯২০টি বাঁকের শেষে শৈলশহর শিমলা। অজস্র দোকানপাট, রেস্তোরাঁ আর পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। শিমলার মূল আকর্ষণ ম্যাল। শেষ প্রান্তে আংলেশিয়ান ক্রাইস্ট চার্চ। হলদেরঙা এই গির্জাটি ১৮৪৪ থেকে ’৫৭ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছিল নিয়ো-গথিকশৈলীতে। প্রতি সন্ধ্যেয় অপরূপ আলোকমালায় সেজে ওঠে গির্জা। চলে আসুন শিমলা কালীবাড়ীতে। ডান দিকে মঙ্গলচণ্ডী আর বামে শ্যামলাদেবী। পাখির চোখে শিমলাকে দেখতে হলে আসুন জাখু হিলসে। ম্যাল থেকে ২ কিমি চড়াই ভেঙে অথবা ঘোড়ার পিঠে চেপে চলে আসুন। আর দেখে নিন হিমেল হাওয়া জড়ানো পাহাড়ঘেরা অনবদ্য শিমলা, যেন পিকচার পোস্টকার্ড! দূরে ১৫০ ফুট হনুমান মূর্তিটি চমৎকার। শিমলা থেকে ৪ কিমি দূরে অবজারভেটরি হিলস।
১৮৮৮ সালের লর্ড ডাফরিনের বাংলোটি বর্তমান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্স স্টাডিজ ক্যাম্পাস। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ৫ কিমি দূরের সামার হিলসের চুড়োয় চলে আসুন। তবে এর জন্য হাতে একদিন সময় বেশি রাখতে হয়। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়, চ্যাডউইক ঝর্না, তারাদেবী মন্দির, সঙ্কটমোচন মন্দির আর আনানডেল রেসকোর্স দেখতে দেখতে সারা দিন কোথা দিয়ে কেটে যাবে টেরই পাবেন না।
মিথ বলছে: শ্যামলাদেবীর নাম থেকেই শিমলার নামকরণ হয়েছে। এই পাহাড়ি শৈলশহরের ইতিহাস জানতে হলে, অবশ্যই দেখে নিন শিমলা মিউজিয়াম। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
কী ভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে কালকা। কালকা থেকে টয় ট্রেনে চলে আসতে পারেন শিমলা। তবে চণ্ডীগড় থেকে সিমলার দূরত্ব ৯০ কিমি। যাঁরা বিমানে আসবেন তাঁরা দিল্লি এসে ট্রেনে অথবা গাড়িতে চলে আসতে পারেন শিমলা।
কেনাকাটা: শপিং প্যারাডাইস বললে কম বলা হবে। ম্যালে ছড়ানো ছিটানো নানান দোকানপাট। শীতবস্ত্রের অঢেল সম্ভার। কেনাকাটা সেরে নিতে পারেন। তবে দরদাম করে নিন। কাঠের নানান সামগ্রী কিনতে চলে আসুন লক্কড় বাজার এলাকায়।
যা করবেন না: হিমাচলের সর্বত্র প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা করা হয়।
কোথায় থাকবেন: শিমলায় থাকার জন্য রয়েছে হিমাচল পর্যটন দফতরের হোটেল দি হলিডে হোম (০১৭৭-২৮১২৮৯০/৯৫) email: hhh@hptdc.in ভাড়া ১৮০০-৬০০০ টাকা। দি পিটারহফ (০১৭৭-২৮১২২৩৬/২৬৫২৫৩৮) email: peterhof@hptdc.in ভাড়া ২,৫০০- ৬,০০০ টাকা।

প্রাইভেট হোটেলের মধ্য রয়েছে হোটেল আর্কল্যান্ড (০৮৬২৮৮৬১০১৯) ভাড়া ১,৬০০- ২,০০০। হোটেল পাইনভিউ ( ০৮৫৮৪৮৫২৭০৫) ভাড়া ১,৬০০- ২,০০০ টাকা। হোটেল গুলমার্গ রিজেন্সি (০১৭৭-২৬৫৩১৬৮) সভাড়া ১,৬০০-২,৫২০ টাকা, হোটেল সান এন স্নো (০৮৬৯৭৭৪৭৬৩১) ভাড়া ১,৬০০-২,০০০ টাকা। হোটেল শিমলা ভিউ (০৮৬৯৭৭৪৭৬৩২), ভাড়া ১,৬০০-২,০০০ টাকা। হোটেল ডিপ্লোম্যাট (২৬৫২০০১) ভাড়া ১,৫০০-২,৬০০ টাকা। হোটেল শিবালিক (২৮১১১২২) ভাড়া ৮৫০-১,৮৫০ টাকা। হোটেল পঙ্কজ (০৯১২৯১২২৪২৬) ভাড়া ১,৭০০-৩,০০০টাকা।
তবে সিজিন অনুযায়ী প্রতিটি হোটেলের ভাড়া বাড়ে কমে।
শিমলা কালীবাড়িতে থাকার জন্য আবেদন করতে হবে শিমলা কালীবাড়ি, সেক্রেটারি, শিমলা-১৭১০০১। ই-মেল করতে পারেন simlakalibari1823@gmail.com. ফোন ০১৭৭-২৬৫২৯৬৪।

আরও পড়ুন, দেশের এই জলপ্রপাতগুলি না দেখলে মিস করবেন


চেইল
‘লিটিল মাউন্টেন অব হেভেন।’ বিদেশিরা আদর করে এই নামেই ডেকে থাকেন। উদার, উদাস প্রকৃতির বুকে আরও এক অসাধারণ শৈলশহর। পাইন, দেওদারের ছায়ামাখা পথকে সঙ্গী করে শিমলা থেকে মাত্র ৪৯ কিমি দূরত্বে হিমাচলের এক মৌনী গ্রাম, চেইল।
কী দেখবেন: উপচে পড়া সৌন্দর্যের মাঝে হিমেল বাতাসের অবাধ আনাগোনা। চিরসবুজ বৃক্ষরাজদের আকাশছোঁয়ার চেষ্টা, নীল আকাশের ব্যাকড্রপে ছবি আঁকা হিমালয়ের পরিপাটি সংসারের ফ্যামিলি অ্যালবাম, জাস্ট অসাধারণ। মখমলি সবুজের ঘাসজমিনে নরম রোদ্দুরের কারুকাজ। সামার প্যালেস আজকের চেইল প্যালেস হেরিটেজ হোটেল। দূরে পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে শতদ্রু নদী। চেইলের পাহাড়ের চুড়োয় রয়েছে ক্রিকেট খেলার মাঠ। এক পাহাড়ের মাথায় সামার প্যালেস। আর এক পাহাড়ের মাথায় ক্রিকেট খেলার মাঠ। অন্য পাহাড়ে ‘সিধ বাবা কা মন্দির’, শিখ গুরুদ্বার। দেখে নিতে পারেন ‘চেইল অভয়ারণ্য’। এক সময় পাতিয়ালা মহারাজাদের মৃগয়াক্ষেত্র। ১১০ কিমির এই অভয়ারণ্য অনুমতি নিয়ে, গাইডের সঙ্গে ঘুরে নিতে পারেন। রংবেরঙের পাখি, ভালুক, হরিণ, লেপার্ড সমেত আরও নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতে পারে।
প্রেমের কাহিনি: অপরূপ নিসর্গে মোড়া তিন পাহাড়ের কোলে বসানো পাহাড় গ্রাম চেইল-এর সৃষ্টির পেছনে এক প্রেমকাহিনি লুকিয়ে আছে। ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইংরেজ কম্যান্ডার ইন চিফ কিচেন-এর সুন্দরী কন্যার প্রেমে পড়েন পাতিয়ালার মহারাজা ভূপিন্দ্র সিংহ। সেই খবর জানাজানি হতেই মহারাজার শিমলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। মহারাজা ভূপিন্দ্র সিংহ তখন শিমলার অদূরে চেইলে অপরুপ এক কাঠের প্রাসাদ বানিয়ে ফেলেন। এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮৯১ সালে প্রাসাদটি পুড়ে যায়। ১৯৫১ সালে তা আবার নতুন করে গড়ে ওঠে।


ছিটকুলের পথে।


কী ভাবে যাবেন: শিমলা থেকে সড়কপথে চেইলের দূরত্ব ৪৯ কিমি। চণ্ডীগড় থেকে ১২৩ কিমি। দিল্লি থেকে ৩৩৭ কিমি।
কোথায় থাকবেন: চেইলে থাকার জন্য রয়েছে হিমাচল পর্যটন দফতরের হোটেল দ্য প্যালেস (০১৭৯২-২৪৮১৪১/২৪৮১৪২/২৪৮১৪৩) ভাড়া ২,০০০-১৮,৫০০ টাকা। email: palace@hptdc.in।
পর্যটক মরশুমে রাজ্য পর্যটন দফতরের আয়োজনে সরকারি বাসে শিমলা ও তার আশপাশ ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
১) শিমলা-কুফরি-নলদেওরা-ফাগু সিটপিছু ভাড়া ৩০০ টাকা।
২) শিমলা-নারকান্ডা-ফাগু। ৩৫০ টাকা জনপ্রতি।
৩> শিমলা- কুফরি-চেইল। ৩৪০ টাকা। জনপ্রতি।
বেসরকারি হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল চেইল ইন (০১৭-৯২২৪-৮৫৫৮) ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা। হোটেল মোনাল (০১৭-৯২২৪-৮৫৫৯) ভাড়া ২,০০০-২,৫০০ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে নানান অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প।

আরও পড়ুন, এক মিঠে সর্বনাশ হয়ে ধরা দিচ্ছিল বৃন্দাবন

হঠাৎ দেখা: শিমলা থেকে নারকান্ডা হয়ে সোজা এলেই আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। মাঝে মাঝে উঁকি মারবে কুলফির মতো জমা বরফ। পাখিদের গান শুনতে শুনতে চলে আসুন। মেরেকেটে ১২ কিমির সঙ্কীর্ণ পথের শেষে মনোরম পরিবেশে হাতু মাতার মন্দির। শিমলা থেকে প্রায় ৭২ কিমি। নতুন ভাবে মন্দিরকে সাজানো হয়েছে। মন্দিরে কাঠের কারুকাজ অসাধারণ। হাতুমাতা আসলে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ। তবে শীতে এই রাস্তা সম্পূর্ণ বরফে মুড়ে থাকে।
সারাহান: শিমলা থেকে নারকান্ডা হয়ে রাস্তা ভাগ হয়ে গিয়েছে। সোজা রাস্তাটা চলে গিয়েছে হাতু পিকের দিকে। জমজমাট রামপুরের বুশাহার রাজাদের প্যালেস দেখে আরও ৪০ কিমি।
যা দেখবেন: জিয়োরির মোড় ঘুরে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের শেষে হিমাচলের এক দেবলোক, সারাহান। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ছোট ছোট গ্রাম। আর বাক্সবাড়ি। প্রতিটি বাড়ির বাগানে আপেল, অ্যাপ্রিকটের বাহার চোখে পড়বে। শীতে সারাহান মুড়ে থাকে বরফের চাদরে। আর অন্য সময় নীল আকাশের নীচে পাইনের মায়াবী পথ। আর শ্রীখণ্ড পাহাড়ের ঘেরাটোপে তুষারধবল শৃঙ্গরাজদের হাসিমুখ। তারই ব্যাকড্রপে ভিমাকালী মন্দির। হিমাচলের নিজস্ব কাঠকোণা শিল্পে মিশেছে বৌদ্ধ শৈলীর অনবদ্য ছোঁয়া। কাঠের উপর সূক্ষ্ম কারুকাজ নিঃসন্দেহে নজর কাড়বে। মন্দিরে খালি পায়ে প্রবেশ করাই রেওয়াজ। ক্যামেরা, চামড়াজাত কোনও প্রকার জিনিস নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। গর্ভগৃহে দেবী ভীমাকালীর মূর্তি। দেখে নিন ভিমাকালী মন্দিরের সন্ধ্যারতি। আর পাহাড়ের মাথায় ট্রাগোপ্যান পাখিদের প্রজননকেন্দ্রটি দেখতে ভুলবেন না।
মিথ বলছে: সতীর ডান কান পড়েছিল সারাহানে। পবিত্র মন্দিরে। মন্দির চত্বরে রয়েছে আরও বেশ কিছু দেবদেবীর মূর্তি। মন্দির চত্বরে সুন্দর কেয়ারি করা বাগান। তার অল্প দূরে, বুশাহার রাজাদের কাঠের তৈরি শান্তিকুঞ্জ রাজপ্রাসাদ মনে করিয়ে দেয়, অতীতের শোণিতপুরের ইতিহাস। শীতে বরফে মুড়ে থাকে সারাহান। তবে আপেল দেখতে অগস্ট-সেপ্টেম্বরে আসতে হয়।
কী ভাবে যাবেন: শিমলা থেকে রামপুর, জিয়োরি হয়ে সারাহানের দূরত্ব ১৮০ কিমি। গাড়িতে চলে আসতে পারেন। সিজন অনুযায়ী ভাড়া বাড়ে-কমে।


সাংলা।


কোথায় থাকবেন: সারাহানে থাকার জন্য রয়েছে হিমাচল পর্যটন দফতরের হোটেল দ্য শ্রীখণ্ড (০১৭২৮২-২৭৪২৩৪) ভাড়া ১,৬০০-৯,০০০ টাকা। sarahan@hptdc.in
প্রাইভেট হোটেলের মধ্য রয়েছে ট্রাগোপ্যান (০৯৮৭৪৩৭৩৩৮০), ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকা।
বুশাহার গেস্টহাউস (২৭৪২৪৮) ভাড়া ৬০০-৭০০ টাকা। হোটেল স্নোভিউ (০৮৬৯৭৭৪৭৬৩১), ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকা। সিজন অনুযায়ী, প্রতিটি হোটেলের ভাড়া বাড়ে কমে।
সারাহানের এসটিডি কোড ০১৭৮২।
সাংলা: হিমাচলের সবচেয়ে নিস্বরগ মোড়া পাহাড় ঘেরা উপত্যকা। কিন্নর জেলার এই উপত্যকাকে অনেকে বাসপা বলেন। কিন্তু, পর্যটকদের কাছে সাংলা নামেই পরিচিত। রুক্ষ পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা পাথর আর তারই বুক চিরেছে ভয়ঙ্কর সুন্দর রাস্তা চলে গিয়েছে। ডানদিকের খাদে বয়ে চলেছে,বাসপা নদীর বহতা। এই পথের শেষে নীল আকাশের নীচে তুষারশুভ্র পাহাড়ের কোলে বসানো সাংলা উপত্যকার বিস্তার। সারাদিন বরফমোড়া শৃঙ্গে অবিরাম রঙবদলের খেলা চলে। ৮,৭০০ ফুট উচ্চতায় সাংলা শীতে বরফের চাদরে মুড়ে থাকে। আবার জুলাই-অগস্টে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির বাগানে লাল আপেল আর গোল্ডেন আপেলের বাহার। সাংলার প্রায় এক কিমি উপরেই বুশাহার রাজাদের প্রাচীন দুর্গ কামরু। মাঝে পড়বে কামরু মনাস্ট্রি। এর পর কামরু দুর্গ। তবে দুর্গের অন্দরমহলে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। এখানে দেবী কামাখ্যার মন্দির দেখে নিন। মন্দিরে চামড়ার জিনিস, প্রবেশ নিষেধ। এখান থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি আর সাংলা উপত্যকাকে দেখতে অসাধারণ লাগে। বসপা নদীর ধারে রেনবো ও ব্রাউন ট্রাউট ফিশিং-এর খ্যাতি আছে।

আরও পড়ুন, নীল আকাশের নীচে এই স্বর্গের নাম দিউ

কেনাকাটা: সাংলা থেকে ৩ কিমি দূরের আজাদ কাশ্মীর গ্রাম থেকে বসপার জলে পুষ্ট, তাজা রেনবো ট্রাউট কিনে নিতে পারেন।
হঠাৎ দেখা: পাথরের খাঁজ কেটে তৈরি হয়েছে রাস্তা। রোমাঞ্চ মেশা পথের বাঁকে করছাম। আর এখানেই শতদ্রু আর বসপা নদীর মিলনক্ষেত্র। খরস্রোতা নদীর সঙ্গম-ঝঙ্কারে কান পাতা দায়।এখান থেকেই রাস্তা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ডান দিকে ব্রিজ পেরিয়ে, মাত্র ১৮ কিমি গেলেই সাংলা। আর বাঁ দিকের রাস্তা চলে গিয়েছে কল্পার দিকে।
কী ভাবে যাবেন: সারাহান থেকে জিওরি, করছাম হয়ে সাংলার দূরত্ব ৯৫ কিমি। শিমলা থেকে ২৩৫ কিমি। বাস আসছে। গাড়িভাড়া করেও চলে আসা যায়।
কোথায় থাকবেন: সাংলায় থাকার কোনও সরকারি হোটেল নেই। বেসরকারি হোটেলের মধ্যে দেবভূমি রিজেন্সি (০৯৪৩৩১২০৯৯৭), ভাড়া ১৫০০-২৫০০ টাকা। হোটেল সূর্যবংশী (০৯৮৭৪৩৭৩৩৮০) ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকা। লেকভিউ রিসর্ট (৯৮৩১৬৪২৪৫৬), ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকা। বসপা গেস্টহাউস (০১৭৮৬-২৪২২০৬) ভাড়া ১,০০০-১,৪০০ টাকা। মাউন্ট কৈলাস (২৪২৫২৭), ভাড়া ১৩০০-১৮০০ টাকা। সাংলা রিসর্ট (২৪২৪০১), ভাড়া ১৫০০-১৯০০ টাকা। হোটেল মেহেক (০৯০০৭৮৮৪৪২৫) ভাড়া ১৫০০-২৪০০ টাকা। সিজন অনুযায়ী প্রতিটি হোটেলের ভাড়া বাড়ে কমে।
সাংলার এস টি ডি কোড: ০১৭৮৬। 
ছিটকুল: কাছেই তিব্বত সীমান্ত। বসপা নদী বয়ে গিয়েছে তার আপন খেয়ালে। শীতে বরফের চাদরে ঢেকে থাকে। ঠিক যেন বরফের বাগান।


সারাহানে ভীমকালী মন্দির।


যা দেখবেন: পাহাড়ের ঢালে পাইন, ওক আর দেওদারের আসবুজ বন্ধন। সাংলা থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন। আঁকাবাঁকা পথ। প্রতিটি পথের বাঁকে প্রকৃতির দৃশ্যপটের বদল। পথের সঙ্গী বসপা নদী। প্রায় ১৭ কিমি আসার পর এক মনোরম গ্রামের দেখা মিলবে। গ্রামের নাম, রকছাম। শীতে এই গ্রাম বরফে মুড়ে থাকে। এখান থেকে ডান দিকের রাস্তা ধরে নেমে গেলেই সেতু পেরিয়ে বরফের মুকুট পড়া পর্বতমালার স্তর, বসপা নদী আর উপত্যকার উচ্ছ্বাস। ৩১৫০ মিটার উচ্চতায় এক অনাঘ্রাত সৌন্দর্য। রকছাম থেকে আরও এগিয়ে গেলেই রূপকথার রাজ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। ভারতের শেষ গ্রাম। ৩৪৫০ মিটার উচ্চতার এই গ্রামের নাম ছিটকুল। সামনেই খরস্রোতা বসপা নদী ধারে বেশ কিছু গ্রাম। শীতে পুরু বরফের আস্তরণে ঢেকে যায় এই ছোট্ট গ্রাম। অন্য সময় হিমেল আবহে মুড়ে থাকা এক আপাত নির্জন অনাবিল সৌন্দর্যের সেরা ঠিকানা। গ্রামের চিত্রলেখামাতা মন্দির, শিবমন্দির ও ৫০০ বছরে প্রাচীন দুর্গটি দেখতে ভুলবেন না। ছিটকুল থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে চিন অধিকৃত তিব্বত সীমান্ত।
কী ভাবে যাবেন: সাংলা থেকে ছিটকুল গাড়িতে চলে আসা যায়। দূরত্ব ২৭ কিমি।
কোথায় থাকবেন: ছিটকুলে থাকার সরকারি কোনও হোটেল নেই। বেসরকারি হোটেলই ভরসা। রয়েছে মাস্তারঙ্গ-এর কাছে আইবাক্স ক্যাম্প (৯৮৭৪৩৭৩৩৮০, ৯৪৩৩১২০৯৯৭, ৮৫৮৪৮৫২৭০১) ভাড়া ২৫০০ টাকা। হোটেল অ্যালপাইন ভিউ (০৯৮১৬৪০৪৭৯৩), ভাড়া ১,০০০-১,২০০ টাকা। শাহেনশা রিসর্ট (০৯৪৩৩৪৮৩৪১১), ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা। ছিটকুল- কিন্নর ক্যাম্প (০৯৮০৫৪৭৮৩২৪), রকছাম- হোটেল অ্যাপল পাই (৮৮৬০৮৬৮৪৯৬), ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকা।


(লেখক পরিচিতি: ক্লাস নাইনে পড়াকালীন পাড়াতুতো মামার সঙ্গে মাত্র ৭০০ টাকা পকেটে নিয়ে সান্দাকফু ট্রেক। সুযোগ পেলেই প্রিয় পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়া। বছরে বার কয়েক উত্তরবঙ্গের অল্পচেনা ডেস্টিনেশনে যাওয়া চাই। কুয়াশামাখা খরস্রোতা নদী কিংবা চলমান জীবনছবিতে ক্লিক, ক্লিক। চলতি পথে মেঠো গানের সুর শুনলেই ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়া। লাদাখে গর্তে সেঁধিয়ে যাওয়া মারমটের ছবি তুলতে ভিজে মাটিতে সটান শুয়ে অপেক্ষায় থাকা— এই নিয়েই ক্যামেরা আর কলম সঙ্গী করে ২২টা বছর। প্রকৃতির টানে ছুটে বেড়ানোটা থামেনি।)