আলমারির মাথা থেকে ট্রাভেল ব্যাগটা নামিয়ে ধুলো ঝাড়তে শুরু করা মানেই যাত্রা শুরু! তবে নিজের পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে অচেনা জায়গায় বেরিয়ে পড়ার সঙ্গে থাকে অনিশ্চয়তা। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে বেড়াতে গেলে স্বাধীনতা থাকে না। তাদের সময় মতো ঘুম থেকে ওঠা, তাদের ইচ্ছে মতো খাওয়া অনেকেরই না-পসন্দ। ক’দিন আগেই টুর প্ল্যান ছকে নিলে, ইচ্ছে মতো ঘোরা যাবে।

 

জায়গা: প্রথমেই স্থির করতে হবে, কোথায় যেতে চান। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, না কি রোমাঞ্চের জন্যই বাড়ি থেকে বেরোতে চান? সে ভাবেই বাছুন গন্তব্য। বিদেশ হলে কয়েক মাস আগেই পরিকল্পনা করুন।

 

সময়: কোন সময়ে বেড়াতে যাচ্ছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে দুর্গাপুজোর পর থেকে দীপাবলি পর্যন্ত এবং বিদেশে ক্রিসমাসের সময়ে সব জায়গায় পর্যটকের ভিড় থাকে। তার সঙ্গেই হোটেল ও ফ্লাইটের রেট আকাশছোঁয়া। অফ সিজ়নে ঘুরতে গেলে হোটেলে বেশি ছাড় পেতে পারেন।

 

পরিচয়পত্র: প্যান, আধার, ভোটার কার্ড সঙ্গে রাখবেন। বিদেশে গেলে ছুটির দিনের সংখ্যা ঠিক করে সেই মতো ভিসা করান। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, মলদ্বীপ, মরিশাসের মতো দেশে ভিসার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আমেরিকা বা ইউরোপে গেলে ভিসা আগে দরকার। কিছু দেশে আগে ভিসা করাতে হয়, তবেই এয়ার টিকিট বুক করা যায়। সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে রাখতে হবে।

 

হোটেল: টিকিট কাটা হয়ে গেলেই বুক করে নিন হোটেল। ইন্টারনেট থেকে হোটেল বাছতে পারেন। জেনে নিন, সেখানে স্পটবুকিং হয় কি না। সে ক্ষেত্রে অনলাইন বুকিং না করলেও চলবে। হোটেলের রিভিউ পড়ে জেনে নিতে পারেন। বিদেশে হোটেল বুকিংয়ের সময়ে লোকেশন দেখে নিন। প্রপার লোকেশনে হোটেলে থাকলে খরচ বাড়বে ঠিকই। শহরের বাইরে থাকলে যাতায়াতের খরচও বাড়বে।

 

যাতায়াত: ট্রেনে গেলে আগে টিকিট কেটে নিন। কারণ নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে ট্রেনে সিট না-ও পেতে পারেন। এয়ার টিকিট কাটার আগে কয়েক দিন চোখ রাখুন টিকিট বুকিং সাইটগুলোয়। মাঝেমাঝে কিছু সাইটে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। বেড়ানোর দিন যদি সপ্তাহের মাঝে পড়ে, তা হলে টিকিটের দাম কম পেতে পারেন। বিদেশে গেলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ভরসা রাখুন। প্রয়োজনে পাস কিনে নিন। কিছু দিনের পাস একসঙ্গে কিনে নিতে পারেন। এমন পাসও পাওয়া যায় যা মেট্রো, ট্রাম, বাস... সবেতেই ব্যবহারযোগ্য।

 

বাজেট: কত দিনের জন্য ঘুরতে যাচ্ছেন, তা গুনে নিন। প্রত্যেক দিনের আনুমানিক হোটেলের খরচ, যাতায়াতের খরচ, খাবারের খরচের হিসেব করে নিন। তা হলে বুঝতে পারবেন, কত খরচ হতে পারে। ঘুরতে গিয়ে বাজেট ক্রস করে গেলে সেটা টেরও পাবেন। প্রয়োজনে রাশ টানতে পারবেন। বিদেশে গেলে যেখানে থাকবেন, সেখানেই ব্রেকফাস্ট-সহ বুকিং করুন।

 

খবর নিন: সোশ্যাল সাইটের শরণাপন্ন হতে পারেন। গুগল ম্যাপ দেখে গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা পাবেন। স্টেশন বা এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের দূরত্ব কত, তার ধারণাও পাবেন। হোটেলের লোকেশন কেমন, তা-ও জানতে পারবেন।

 

ইনশিয়োরেন্স: বিদেশে বেড়ানোর ট্রাভেল ইনশিয়োর করিয়ে রাখা যায়। কোনও কারণে ট্রিপ বাতিল হলে বা মাঝপথে সমস্যায় পড়লে ইনশিয়োরেন্স থেকে সাহায্য পেতে পারেন।