নদী,পাহাড়,জঙ্গল,সমুদ্র,ম্যানগ্রোভ আর ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্রের মহামিলনের অপরূপ মিশেলের আর এক নাম ওড়িশা। বেশ কয়েকটি সার্কিটকেকেন্দ্র করে ঘুরে নেওয়া যায় ওড়িশার নানান নিসর্গে। ছোট্ট বা লম্বা ছুটিতে বেড়িয়ে পড়ুন। আজ দ্বিতীয় পর্ব।

গোপালপুর অন সি

ওড়িশার আরও এক সোনালি বালুকাবেলা। অতীতের ‘পোর্ট অফ পালোর’ আজকের গোপালপুর অন সি। পর্যটকদের কাছে অতি জনপ্রিয় সাগর সৈকত। বিরামহীন ঢেঊ, শান্তনীল সাগর পাড়,সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মুগ্ধতা। এই নিয়েই স্নানবিলাসীদের স্বর্গরাজ্য গোপালপুর। তবে গোপালপুর থেকে ঘুরে আসতে পারেন নানা গন্তব্যে। ৩০কিমি দূরে পতি সোনাপুর এক নির্জন সাগরবেলা।পুরুষোত্তমপুরের কাছে রুশিকুল্যা নদীর পাড়ে তারাতারিণীতে চলে আসুন। সামনেই পাহাড়চুড়োয় তারাতারিণী মন্দির। ১০০০ সিঁড়ি ভেঙে পৌঁছে যান ওড়িশার শক্তিপীঠে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেক্ষাপটে, সবুজ আঁচলেমোড়া অসাধারণ রূপে বুঁদ হয়ে থাকুন। ২০কিমি দূরের বঙ্গোপসাগর ও রুশিকুল্যা নদীর মোহনাটি চমৎকার। ১৬ কিমি দূরের প্রাচীন গোপালপুর বন্দর,১৮ কিমি দূরের ধবলেশ্বর মন্দির ও সৈকতটি চমৎকার। গোপুরম শোভিত দ্রাবিড়ীয় শৈলীর গোপালকৃষ্ণ মন্দির দেখে নিতে ভুলবেন না। পাখির চোখে গোপালপুরকে দেখতে হলে অনুমতি নিয়ে উঠে পড়ুন লাইটহাউসের মাথায়। অপার সৌন্দর্যের বৈভবে ধরা দেয় বঙ্গোপসাগর। নির্জন সাগরপাড়, সোনালি বালুকাবেলা, বিরামহীন ঢেউয়ের মায়াময় সাগরপাড় গোপালপুর মনভুলিয়ে দেয়।

কী ভাবে যাবেন

নামতে হবে বেরহামপুর। হাওড়া থেকে ১২৭০৩ ফলকনামা এক্সপ্রেস,১২৮৬৩ হাওড়া-যশোবন্তপুর এক্সপ্রেস। ১২৮৩৯ চেন্নাই মেল। পুরী থেকে ১৮৪০১ পুরী-ওখা এক্সপ্রেস। ১২৮৪৩পুরী-আমদাবাদ এক্স বেরহামপুর আসছে। বেরহামপুর থেকে গোপালপুর ১৬ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন। ৫০০ টাকা ভাড়া পড়বে।

পর্যটকদের কাছে অতি জনপ্রিয় গোপালপুর সৈকত। ছবি: শান্তনু চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন: চিরচেনা পুরী-সাতপাড়া-কোনারক​

গোপালপুরে কোথায় থাকবেন

ওটিডিসি-র পান্থনিবাস (০৬৮০-২৩৪৩৯০১), ভাড়া ৭৫০-২,৮৫০ টাকা। হোটেল সি-সাইড ব্রিজ (২৩৪০৩০৭৫), ভাড়া ৮০০-১,৫০০ টাকা। হোটেল সি-পারশ (২৩৪৩৫৫৬/ ২৩৪৩৫৫৭) ভাড়া ৭৫০-১,৭৫০ টাকা।

চাঁদিপুর

সমুদ্র এখানে গুটি গুটি পায়ে ফেনার নূপুর পরিয়ে যায়। সেই সাগরবেলায় ঝিনুক খোঁজার ছলে আরও একবার নিজের শৈশবে হারিয়ে যাওয়ার সেরা ঠিকানা ওড়িশার চাঁদিপুর। সমুদ্রের সঙ্গে সখ্যের পর এবার বেরিয়ে পরুন চাঁদিপুরের আশেপাশে। মাত্র ২ কিমি দূরে বুড়িবালাম নদীর তীরে। স্থানীয় মানুষেরা চষাখণ্ড বলে থাকেন। এখানেই বুড়িবালাম মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। কিছুটা দূরেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। তাই চলে আসুন নদীর পাড়ে। এখানেই অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী বাঘাযতীন, অস্ত্রবোঝাই মেভারিক জাহাজ ধরা পড়বার পরেও চার্লস টেগার্টের ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে এক অসম লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন এই বুড়িবালামের তীরে। ভারাক্রান্ত মন নিয়েএবার চলে আসুন নীলগিরি রাজবাড়ি। জগন্নাথ মন্দিরটিও দেখে নিন। এবার চলে আসুনপঞ্চলিঙ্গেশ্বর। চাঁদিপুর থেকে ৪৫ কিমি দূ্রে। প্রায় ২৪০টি সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়চুড়োর খাঁজে বয়ে আসা ঝর্নার জলপূর্ণ কুণ্ডে হাত ডুবিয়ে পঞ্চ শিবলিঙ্গ। এখান থেকে নীচের আসবুজ প্রকৃতি অসাধারণ।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে ১২৮২১ ফলকনামা এক্সপ্রেস। ১৮৬৪৫ ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস। ১২৮৪১ করমণ্ডল এক্সপ্রেস। ১৮৪০৯ পুরী এক্সপ্রেস। ১২০৭৩ জনশতাব্দীএক্সপ্রেস। বালেশ্বর থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব ১৬ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন।

চাঁদিপুর সৈকত।—ফাইল চিত্র।

চাঁদিপুরে কোথায় থাকবেন

ওটিডিসি-র পান্থনিবাস (০৬৭৮২-২৭০০৫১/৬৫), ভাড়া ১,১০০-২,৮৫০ টাকা। প্রাইভেট হোটেলের মধ্যে হোটেল আনন্দময়ী (৯৮৩১৮৩৮৯৩৬), ৯৫০- ২,২৭০০ টাকা। হোটেল চাঁদিপুর (০৬৭৮২-২৭০০৩০), ভাড়া ৬৫০-১,২৫০ টাকা।

তপ্তপানি

সবুজে আঁকা পাহাড়পুর।ওড়িশার গঞ্জাম জেলায়,পূর্বঘাট পাহাড়ের কোলে বসানো শীতমোড়া শহর। শীতের শহরের প্রধাণ আকর্ষণ উষ্ণ জলের কুণ্ড। তাই এই পাহাড়ি শহরের নাম তপ্তপানি। এখানেই পূজিতা হন দেবী কান্দিমাতা। উষ্ণ কুণ্ডেস্নান করলে পুণ্য ছাড়াওনানা রোগমুক্তি ঘটে। এটাই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। তপ্তপানি থেকে ৩২ কিমি দূরে চলে আসুনচন্দ্রগিরি। শাল-মহুয়ার ঠাসবুনোটে মোড়া এক তিব্বতি কলোনি। ১৯৫৯ সালে চিনা অধিকৃত তিব্বত থেকে দলাই লামার নেতৃত্বে তিব্বতি শরণার্থীরা চন্দ্রগিরিতে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। এখানকার চমৎকার গুম্ফাটি দেখতে ভুলবেন না।

তপ্তপানি। ছবি: ওড়িশা পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

আরও পড়ুন: আবার আসার নিমন্ত্রণ পাঠাল ঘালেটর​

কী ভাবে যাবেন

নামতে হবে বেরহামপুর। এখান থেকে ৫০কিমি গাড়িতে গেলেই তপ্তপানি।

তপ্তপানিতে কোথায় থাকবেন

ওটিডিসি-র পান্থনিবাস(০৬৮১৬-২৫৫০৩১), ভাড়া ১,০৫০-৩,৫৫০ টাকা।