সারা জীবন ধরে একটিই ইচ্ছা লালনপালন করে গিয়েছিলেন বিহারের বাসিন্দা। প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়েও ছেলেবেলার সেই সাধ ত্যাগ করতে পারেননি। সন্তানের কাছেও অজানা ছিল না বাবার সেই অপূর্ণ সাধের কথা। তাই নিজের পায়ে দাঁড়ানো মাত্র বৃদ্ধ পিতার মনোস্কামনা পূর্ণ করলেন ছেলে। সরকারি চাকরি পেয়েই পূরণ করলেন বাবার দীর্ঘ দিনের সেই ইচ্ছা। বাবার জন্য যে উপহার আনলেন, তা দেখে তাক লেগে গেল প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের মোদনগঞ্জ ব্লকের আরাহিত গ্রামের বাসিন্দা অবধেশ প্রসাদ ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ায় চড়ার স্বপ্ন দেখতেন। ৫৫ বছর বয়সে এসেও কৈশোরের আবেগ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অবধেশের বয়স যত বাড়তে থাকে ততই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাঁর অশ্বপ্রীতিও। ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় নিজে কখনও ঘোড়া কিনতে পারেননি তিনি। ফলে প্রায়ই তিনি গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের থেকে ধার নিয়ে ঘোড়ায় চড়তেন। তবে বিহার পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর অবধেশের অপূর্ণ ইচ্ছাপূরণ করলেন তাঁর পুত্র।
অবধেশ-পুত্রের সরকারি চাকরি তাঁদের সংসারে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য— উভয়ই এনে দিয়েছিল। বাকি ছিল বাবার সাধপূরণ। পিতা-পুত্র দু’জনেই রাজস্থানে বে়ড়াতে গিয়ে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ১৬ মাস বয়সি একটি ঘোড়া কিনে আনেন। সংবাদমাধ্যমে অবধেশের পুত্র জানান, তাঁর বাবার এই একটিই সাধ ছিল— ঘোড়ায় চড়া। প্রতিবেশীদের থেকে চেয়েচিন্তে ঘোড়ায় চড়তে দেখে তিনি ঠিক করেছিলেন, চাকরি পেয়েই বাবার হাতে এই উপহার তুলে দেবেন।
অবধেশ এখন নিজেই তাঁর প্রিয় ঘোড়াটির যত্ন নেন। আদর করে পোষ্যের নাম রেখেছেন বাদল। প্রতি দিন বাদলের খাবার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ৫০০ টাকা খরচ করেন। কোনও প্রতিযোগিতা হলেই গর্বের সঙ্গে বাদলকে নিয়ে পৌঁছে যান ৫৫ বছরের প্রৌঢ়।