Advertisement
২২ জুন ২০২৪

সমস্যা মেটেনি, সুরঞ্জন আবার সায়েন্স কলেজে

রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বহিরাগতদের বার করে দিয়ে বৃহস্পতিবারের মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে ফের কলেজ-চত্বরে যেতে হল তাঁকে। কারণ, সায়েন্স কলেজের সঙ্কট কাটেনি। শিক্ষক ও পড়ুয়াদের অনেকেরই অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-এর রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সভা হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:৫৫
Share: Save:

রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বহিরাগতদের বার করে দিয়ে বৃহস্পতিবারের মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে ফের কলেজ-চত্বরে যেতে হল তাঁকে। কারণ, সায়েন্স কলেজের সঙ্কট কাটেনি।

শিক্ষক ও পড়ুয়াদের অনেকেরই অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-এর রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সভা হয়েছিল। তার পরেই শুরু হয় হাঙ্গামা। শারীরবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের কয়েক জন ছাত্রছাত্রীর উপরে হামলা হয়। তখনই মূল ফটক আটকে দেয় কিছু ছাত্র ও বহিরাগত যুবক। সুরঞ্জনবাবু নিজে গিয়ে সেই ফটক খুলে সায়েন্স কলেজে ঢোকেন। ভিড় করে থাকা যুবকদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেন। যাদের পরিচয়পত্র ছিল না, তাদের বার করে দিয়ে পরিস্থিতি সামলান।

কিন্তু শুক্রবারেও শাসক দলের ছাত্র সংগঠন ওই কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান-বিক্ষোভ করে। তাই এ দিন বিকেলে ফের কলেজ-চত্বরে যেতে হয় উপাচার্যকে। বিক্ষোভের জেরে এ দিন অনেক ছাত্রছাত্রীই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। কোনও পড়ুয়াই আসেননি শারীরবিদ্যা বিভাগে। উদ্বিগ্ন উপাচার্য ফের হাজির হন ওই ক্যাম্পাসে।

বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সায়েন্স কলেজের সচিব অমিত রায়ও। তিনি বলেন, “এটা খুবই দুশ্চিন্তার যে, সবে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদেরও কেউ আসেনি!” যে-সব পড়ুয়া নিগ্রহের অভিযোগ করেছেন, রাজদেব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের এক জন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অনেকেরই ক্লাস করতে আসার সাহস নেই। মার খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করা যায় না!” এই পরিস্থিতিতে ওই বিভাগের শিক্ষকেরা এ দিন নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেন। আর সুরঞ্জনবাবু বলেন, “ফের শিক্ষক ও ছাত্র সকলের সঙ্গে কথা বলে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।”

এ দিন কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শারীরবিদ্যা বিভাগের শিক্ষিকা রোশেনারা মিশ্রের ‘কালো হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া’র দাবিতে পোস্টার পড়েছে। সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের মেয়ে রোশেনারা কলেজে বাম রাজনীতিতে প্ররোচনা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে জুলাইয়ে সরব হয়েছিলেন টিএমসিপি-র নেতারা। তখনও শারীরবিদ্যার অনেক ছাত্রছাত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ। তার জেরে পড়ুয়ারা কয়েক দিন ক্লাস বয়কট করেন। পরে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে।

অভিযোগ, বৃহস্পতিবার নবীন-বরণের অনুষ্ঠানের মহড়ার সময় ফের শারীরবিদ্যা বিভাগের কয়েক জন ছাত্রছাত্রীকে নিগৃহীত করে টিএমসিপি-র সদস্য-সমর্থকেরা। তারই জেরে পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে যেতে হয় উপাচার্যকে। কিন্তু পরপর দু’দিন তাঁর হাজিরা সত্ত্বেও সায়েন্স কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE