উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভায় নথি চুরির অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড। পুরসভা চত্বরেই রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হল প্রাক্তন পুরপ্রধানের ভাইকে। চড়-থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি— বাদ গেল না কিছুই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হল পুলিশকে।
হালিশহর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষের ভাই পাপন ঘোষ পুরসভায় ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি সরানোর চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। মুখে মুখে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরসভা চত্বরে জড়ো হন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক। প্রাক্তন পুরপ্রধানের ভাই পাপনকে পুরসভার একটি ঘরের মধ্যে পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে পুরসভার মধ্যেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার পর সেখান থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পুরসভার বাইরে নিয়ে আসা হয়। চলে আরও মারধর।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছুটে যান পুরসভার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। শেষমেশ স্থানীয়দের সহায়তায় পাপনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর জেলায় জেলায় সরকারি ও পুরপ্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, নথি গায়েব-সহ নানা অভিযোগ সামনে আনছে বর্তমান শাসক বিজেপি। হালিশহর পুরসভাতেও এমন অভিযোগ এবং বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। তার সঙ্গে পুরসভার কর্মচারীদের বেতন না-দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তার মধ্যে প্রাক্তন পুরপ্রধানের ভাইয়ের পুরসভায় উপস্থিতি নিয়ে চাপানউতর শুরু হয়েছিল। তবে পাপন বা তাঁর দাদা কিংবা তাঁদের দল তৃণমূল, কারও তরফেই এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, সোমবার মালদহে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পিঙ্কি মণ্ডলের ছবিতে কাঁচা ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিজেপি। ব্লক প্রশাসনিক দফতরেই এমন ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপির ডেপুটেশন কর্মসূচি ছিল মালদহ মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে। কিন্তু তিনি দফতরে ছিলেন না। তখন বিজেপির নেতা থেকে কর্মী-সমর্থকেরা সভাপতির ছবিতে ডিম ছোড়া শুরু করেন।