E-Paper

কালো জলে ঢেকেছে কালনাগিনী খাল, উদ্বেগ

এই খালে ট্যাংরা, চিংড়ি, পার্শে প্রভৃতি মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে মাছের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৩
কালো হয়ে গিয়েছে কালনাগিনী খালের জল।

কালো হয়ে গিয়েছে কালনাগিনী খালের জল। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

এক সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত ছিল কালনাগিনী খাল। বর্তমানে কাকদ্বীপের পাকা পোল থেকে কাকদ্বীপ মৎস্য বন্দর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত এই খাল গুরুতর দূষণের কবলে। গত প্রায় দু’মাস ধরে এই খালের জল অস্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে রয়েছে। উপরিভাগে তেলের আস্তরণ এবং তার সঙ্গে অজ্ঞাত সাদা গুঁড়ো পদার্থ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকা জুড়ে।

স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, শহরের আবর্জনা এবং খালের ধার ঘেঁষে থাকা একাধিক শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি খালে এসে পড়ছে। এর পশ্চিম প্রান্ত মুড়িগঙ্গা নদী ও পূর্ব প্রান্ত গোবদিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় দু’দিক থেকেই জোয়ারের জল ঢোকে। তবে শহরের মাঝখানে জমে থাকা পচা ও দূষিত জল দ্রুত বেরোতে না পারায় জোয়ারের সময় দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। ভাটার সময় তলায় জমে থাকা প্লাস্টিক ও বর্জ্যের স্তূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে মুড়িগঙ্গা নদীতেও।

এক সময় এই খালে ট্যাংরা, চিংড়ি, পার্শে প্রভৃতি মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে মাছের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারিয়েছেন। অনেকেই বিকল্প জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন। খালের জলে ভাসমান সাদা গুঁড়ো শিল্পজাত বর্জ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, স্কুলপড়ুয়া শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।

খালের পাশে থাকা এক দোকানদারদের অভিযোগ, ‘‘দুর্গন্ধের চোটে নাকে রুমাল না চেপে দোকানে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে। পথচলতি মানুষেরও অস্বস্তি বাড়ছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে।’’

এই পরিস্থিতিতে কাকদ্বীপের সমাজসেবী ও শিক্ষক সৌম্যকান্তি জানা পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে খালের দূষিত জল, তেলজাতীয় আস্তরণ, তীব্র দুর্গন্ধ এবং অজ্ঞাত সাদা গুঁড়ো পদার্থের উল্লেখ করে অবিলম্বে জল পরীক্ষা, দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত।’’

স্থানীয় বাসিন্দা তপন দাস বলেন, ‘‘দু’মাসের বেশি সময় ধরে এই দূষণ ও দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও সমাধান মেলেনি।’’

কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘‘জোয়ারের সময়েও এখন জল স্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে না। নদীর জল এরকম কালো হতে আগে কখনও দেখা যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’’

কাকদ্বীপের বিডিও অভিষেক মিশ্র বলেন, ‘‘প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’ মহকুমাশাসক প্রীতম সাহা বলেন, ‘‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খাল সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দূষণের ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা যাতে না বাড়ে তা দেখা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kakdwip

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy