Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

মদ্যপ ছেলেকে পিছমোড়া করে বেঁধে থানায় আনলেন বাবা

সীমান্ত মৈত্র
অশোকনগর ১৩ অক্টোবর ২০১৮ ০২:০৮
পাকড়াও: ভ্যানে বাঁধা ছেলে

পাকড়াও: ভ্যানে বাঁধা ছেলে

অনেক বুঝিয়েছিলেন ছেলেকে। কিন্তু তার বেয়া়ড়াপনা থামেনি। নেশা করে বাড়ি ফিরে হুজ্জুত ছিল রোজকার ঘটনা। অশান্তি, ভাঙচুর, গালিগালাজ— বাবা-মা অস্থির হয়ে উঠেছিলেন মদ্যপ ছেলের অত্যাচারে।

শেষমেশ ছেলেকে উচিত শিক্ষা দিতে ঠিক করেন, পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। সেই মতো ছেলেকে পিছমোড়া করে বেঁধে ভ্যানে তুলে তাঁরা রওনা দেন অশোকনগর থানার দিকে।

শুক্রবার বেলা তখন প্রায় ৩টে। দেখা গেল, বৃদ্ধ ভ্যান চালিয়ে আসছেন। ভ্যানে বসে এক বয়স্ক মহিলা। পিছমোড়া করে বাঁধা এক যুবককে শোয়ানো আছে ভ্যানে। আর সেই যুবক তারস্বরে চিৎকার করছে। বলছে, ‘‘বাবা, হাত খুলে দাও। খুব লাগছে।’’ একটা সময়ে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল জল। কিন্তু বৃদ্ধের মুখ ভাবলেশহীন। একবার শুধু বললেন, ‘‘লাগে লাগুক। আগে মদ খাওয়া ছাড়বি, তারপরে বাঁধন খুলব।’’ মায়ের মুখেও হেলদোল নেই।

Advertisement

থানায় ঢোকার মুখে বৃদ্ধ কী যেন ভাবলেন। তারপরে ফিরে এলেন ভ্যানের কাছে। খুলে দিলেন বাঁধন। বললেন, ‘‘এ বার যদি কখনও মাতলামো করিস, সোজা এসে হাজতে ঢুকিয়ে দিয়ে যাব।’’

নবজীবন পল্লি এলাকায় বাড়ি বৃদ্ধের। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ছেলে আলাদা থাকে। বছর সাতাশের ছোট ছেলেকে নিয়ে বাবা-মা থাকেন। ছেলে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করে। নিয়মিত কাজে যায় না। বৃদ্ধ বাবা ভ্যান চালিয়ে কোনও রকমে সংসার টানেন। যে ক’টা আয় করে ছেলে, তা-ও উড়িয়ে দেয় নেশার পিছনে।

পরিবার সূত্রে জানা গেল, সম্প্রতি রোজই ছেলে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় মাতলামো করে। লোকজনকে গালিগালাজ করে। বাড়িতে বাবা-মাকেও গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করলে গায়ে হাত তোলে। ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুরও শুরু করেছিল ইদানীং। বাবা-মায়ের কাছে জোর করে মদ খাওয়ার টাকা চায়। ছেলের জন্য পরিবারে অশান্তি তো ছিলই, পড়শিদের কাছেও মুখ দেখাতে পারছিলেন না বা বয়স্ক দম্পতি। পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘‘ছেলেটাকে বিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম আমরা। কিন্তু পরে ভাবলাম, এমন মদ্যপ ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে কোনও মেয়ের সর্বনাশ করা উচিত হবে না।’’

বৃহস্পতিবার সকালেও ফের মদ খেয়ে বাড়িতে এসে গালিগালাজ করছিল ওই যুবক। টিভি, শোকেস ভাঙচুর করে। তাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে বাবা-মায়ের।

দড়ি দিয়ে ছেলেকে বেঁধে তাঁরা পুলিশের হাতে তুলে দেবেন বলে রওনা দেন। যুবকের মায়ের কথায়, ‘‘ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছি। উল্টে আমাদের মারধর করে।’’ বাবার কথায়, ‘‘ছেলেটাকে নিয়ে আর পারছি না। ওকে সুস্থ করতে চাই।’’

থানা চত্বর থেকে বেরোনোর সময়ে ছেলে কথা দিয়েছে, আর ঝামেলা পাকাবে না। নেশা ছাড়বে। আপাতত সেই কথাটুকুর ভরসাতেই বাড়ি ফিরলেন দম্পতি।

আরও পড়ুন

Advertisement