বনগাঁ শহরে যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। পথে বেরিয়ে নাকাল হওয়া এক রকম অভ্যাস হয়ে গিয়েছে শহরবাসীর।
এ বার শহরের যানজট সমস্যা কমাতে এবং দুর্ঘটনা রুখতে পদক্ষেপ করল পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মধ্যে কয়েকটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ট্রাক পার্কিং আছে। পুলিশের দাবি, ওই সব পার্কিংয়ে ট্রাক ঢোকা বেরোনোর সময়ে যানজট তৈরি হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ইতিমধ্যে পুলিশ ব্যক্তি মালিকানায় থাকা পাঁচটি পার্কিং বন্ধ করে দিয়েছে। বনগাঁর পুলিশ সুপার তরুণ হালদার বলেন, ‘‘যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ব্যক্তিগত পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার উপর বেআইনি ট্রাক দাঁড় করানো চলবে না।’’
ব্যক্তিগত একটি পার্কিংয়ের মালিক দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘‘বনগাঁর প্রধান ব্যবসা পণ্য আমদানি-রফদানি ও ট্রান্সপোর্ট। বাইরে থেকে অনেক ট্রাক শহরে আসে। সেই সব ট্রাক আমরা পার্কিংয়ে রাখি। তাতে যানজট কমে। পঞ্চায়েত এলাকায় থাকা ব্যক্তিগত পার্কিং মালিকদের জন্য আমাদের পার্কিং বন্ধ করা হল।’’
শহরে যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে কয়েকটি সমস্যার সমাধান দ্রুত জরুরি বলেই মনে করছেন শহরবাসী। তাঁরা জানিয়েছেন, দিনের বেলায় শহরের রাস্তায় ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি, শহরের রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে থাকা ইমারতি মালপত্র সরাতে হবে। অতীতে সড়কের উপর বা সড়কের পাশে ইমারতি মালপত্র ডাঁই করে রাখার ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যশোর রোড, বনগাঁ-চাকদা সড়ক, বনগাঁ-বাগদা সড়ক, রামনগর রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তায় বাইক, সাইকেল, ভ্যান, ছোট-বড় গাড়ি দীর্ঘক্ষণ বেআইনি ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এই সব যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে রাস্তা সরু হয়ে যায়। তৈরি হয় যানজট।
চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে শহরের মতিগঞ্জ এলাকায় একটি পথ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়। কয়েকজন জখম হন। ওই ঘটনার পর শহরে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সরব হন শহরবাসী। সড়কে থাকা অস্থায়ী তোরণ খুলে ফেলার দাবিও তোলা হয়েছিল। নড়েচড়ে বসেছিল পুলিশ প্রশাসন। তোরণ খুলে দেওয়া হয়। দিনের বেলায় শহরে ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাস্তাগুলির উপর অস্থায়ী ড্রপগেট তৈরি করা হয়েছে। বাইরে থেকে কোনও ট্রাক শহরের মধ্যে আসতে চাইলে নিয়ম মেনে আসতে হচ্ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ট্রাক ঢোকা আটকে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছিল, সকাল ৭টা থেকে ১২টা এবং দুপুর ২টো থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের রাস্তায় ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। দুপুর ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত ট্রাক চলাচল করবে। কিছু দিন সব নিয়ম মেনে চলেছিল। অভিযোগ, পড়ে নজরদারির অভাবে সেই নিয়ম শিথিল হয়ে গিয়েছে। শহরের রাস্তায় চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, দিনের বেলাতেও ট্রাক চলাচল করছে। ইমারতি মালপত্র পড়ে আছে। তোরণ রয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘ট্রাক ও ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইমারতি মালপত্র, বেআইনি পার্কিং সহ অন্য সমস্যাগুলি সমাধান করা হচ্ছে।’’
দিনের বেলায় যশোর রোডে এমন যানজট হয়, যেখানে মানুষকে নাজেহাল হতে হয়। অনেকেই যানজটে আটকে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেন না। ট্রেন মিস করেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণহীন ভ্যান, টোটোর দাপটেও যানজট বাড়ছে। যশোর রোডে ফুটপাত বলে কিছু নেই।