বাড়ি ভাড়া দিলে থানায় ভাড়াটের পরিচয় সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার কথা প্রশাসনের তরফে জানানো হলেও বাস্তবে যে হয় না, তা ফের প্রমাণিত হল বনগাঁয় ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দাদের ঘর ভাড়া দেওয়া ঘটনায়। পুলিশের তদন্তের মুখে পড়লেন বনগাঁ শহরের এক গৃহকর্তা। সীমান্তবর্তী বনগাঁ মহকুমায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠল ভাড়াটে যাচাই নিয়ে।
ঘটনাটি বনগাঁ পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের। স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিস বিশ্বাস ভিন্ রাজ্যের কয়েক জন বাসিন্দাকে তাঁর বাড়িতে ভাড়া দিলেও তাঁদের পরিচয়, নথিপত্র এবং থাকার বিষয়টি থানায় আগাম জানাননি। এই কারণেই দেবাশিসের বিরুদ্ধে ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। বনগাঁ থানার আইসি শিবু ঘোষ বলেন, “ভিন্ রাজ্য বা ভিন্ দেশের কাউকে বাড়িতে ভাড়া দিলে তাঁদের পরিচয়পত্র-সহ থানায় জানানো বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিয়ম। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে দেবাশিসের বাড়িতে এক দল ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দা ভাড়া থাকছিলেন। তাঁদের কথাবার্তা, আচার-আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। শুক্রবার গ্রামবাসীরা বনগাঁ থানায় খবর দেন। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে মোট ১৬ জন ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দাকে আটক করে থানায় আনে। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, রঙিন মাছের ব্যবসার সূত্রে এখানে এসেছিলেন। পরে তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে দেখা যায়, বসিরহাট মহকুমার মালঞ্চ এলাকায় রঙিন মাছের ব্যবসার সঙ্গে সকলে যুক্ত। পুলিশ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পরে মুচলেকা লিখিয়ে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে দেবাশিস বলেন, ‘‘অন্য রাজ্যের লোককে নথিপত্র ছাড়া ভাড়া দেওয়া যায় না— এমন কোনও নিয়ম আমার জানা ছিল না। উত্তরপ্রদেশ থেকে ৮-১০ জন এসে সপ্তাহখানেক থাকবেন বলেছিলেন। চারামাছের ব্যবসা করেন তাঁরা। দশ হাজার টাকায় ভাড়া ঠিক হয়েছিল। এমন ঘটনা ঘটতে পারে বুঝতে পারিনি। যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে, আর ভবিষ্যতে এ ভাবে ভাড়া দেব না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি বনগাঁর পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদারকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে শহরের কেউ যাতে ভিন্ রাজ্যের বা ভিন্ দেশের কাউকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে পুলিশ ও পুরসভাকে জানায়, সে জন্য মাইকে প্রচার চালানো হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ছাড় দেওয়া যাবে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী বনগাঁ মহকুমা এলাকায় অতীতে একাধিক বার ভাড়া বাড়িতে থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে এসেছে। আবার বাংলাদেশে অপরাধ করে এ পারে এসে গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনাও অতীতে প্রশাসনের নজরে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে অপিরিচিত লোকজন এলাকায় এসে থাকলে তাঁদের গতিবিধির উপরে নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)