Advertisement
১৯ জুন ২০২৪

রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ

বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় ডবল লাইন-এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেই কাজ চলাকালীন ‘অপ্রয়োজনীয়’ রেলগেট হিসেবে বেলিয়াঘাটা ও লেবুতলা রেল স্টেশনের মাঝের একটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উধাও: এখানেই ছিল রেলগেট। গেট তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে পড়েছে পোস্টার।—নিজস্ব চিত্র

উধাও: এখানেই ছিল রেলগেট। গেট তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে পড়েছে পোস্টার।—নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা
বারাসত শেষ আপডেট: ২০ মে ২০১৭ ০১:৫৭
Share: Save:

বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় ডবল লাইন-এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেই কাজ চলাকালীন ‘অপ্রয়োজনীয়’ রেলগেট হিসেবে বেলিয়াঘাটা ও লেবুতলা রেল স্টেশনের মাঝের একটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কেন গেট তুলে দেওয়া হল, তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষজনের দাবি, তাঁদের মতামত না নিয়েই গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাঠের ফসল নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে স্কুলের পড়ুয়ারা এত দিন এই গেট দিয়ে পারাপার করছিল। গেটটি চালুর দাবিতে রেলের বিভিন্ন দফতরে গণস্বাক্ষর দিয়েছেন বাসিন্দারা। বন্ধ গেট চালুর দাবিতে এলাকায় ব্যানারও ঝুলিয়েছেন।

মমতা বন্দোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখা ডবল লাইন করার ঘোষণা করেছিলেন। দেরিতে হলেও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে সেই কাজ। কিছু জায়গা বাদ দিয়ে ডবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরুও হয়েছে।

দেগঙ্গার উপর দিয়ে গিয়েছে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার লাইন। বেলিয়াঘাটা ছেড়ে লেবুতলা স্টেশনের আগে ওই রেলগেট দিয়ে যাতায়াত করেন ৬-৭টি গ্রামের মানুষ। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বারাসত থেকে হাসনাবাদ শাখার বেলিয়াঘাটা ও লেবুতলা স্টেশনের মাঝে প্রহরীবিহীন ১৩ নম্বর ওই রেল গেটটি প্রায় ৫০ বছর ধরে রয়েছে। যার এক দিকে রয়েছে খোদ্দ শিশুশিক্ষাকেন্দ্র, অন্য দিকে সুসংহত শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। ওই শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিপদ বেড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের হাত ধরে পার করিয়ে দিতে হচ্ছে আমাদের। ভয়ে পাশের গ্রামের স্কুলে চলে যাচ্ছে পড়ুয়ারা।’’ রেল লাইনের দু’ধারে বসতির পাশাপাশি রয়েছে চাষের জমি। কৃষক ইসরাফিল বিশ্বাস বলেন, ‘‘ওই গেট দিয়ে রিকশা বা মাথায় করে মাঠের ফসল নিয়ে ফিরতাম আমরা। গেট বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরপথে ফিরতে হচ্ছে।’’ আরশাদ আলি নামে এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘‘বছর চারেক আগে ডবল লাইন পরিদর্শনে এসেছিলেন রেলের আধিকারিকেরা। আমাদের সঙ্গে কথা না বলে গেট বন্ধ করে করে দেওয়া হয়েছে।’’ বাসিন্দারা জানালেন, গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীর পরিবারকে।

রেলের দাবি, ওই শাখার ডবল লাইনের কাজ চলাকালীন পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই গেটটি অপ্রয়োজনীয়। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

Rail Gate
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE