বিয়ের তিন মাসের মধ্যে শ্বশুর বাড়িতে বধূর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম রাজকুমার বাগদি ও দশরথ বাগদি। খণ্ডঘোষ থানার উখরিদ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় ধৃতদের বাড়ি। বৃহস্পতিবার সকালে খণ্ডঘোষ থানার বেড়ুগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বৃহস্পতিবারই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে রাজকুমারকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন সিজেএম। বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে দশরথকে ৫ অক্টোবর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, মাস তিনেক আগে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার রোল গ্রামের মহাদেব সাঁতরার মেয়ে মঙ্গলির সঙ্গে ভাব-ভালবাসা করে বিয়ে হয়েছিল রাজকুমারের। বিয়েতে সায় ছিল না মঙ্গলির বাপেরবাড়ির। তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মঙ্গলির বাপেরবাড়ির লোকজন বিয়ে মেনে নেন। বিয়ের দিন দশেক পর বাপেরবাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য মঙ্গলির উপর চাপ সৃষ্টি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনি তা বাপেরবাড়িতে জানান। তাঁর বাবা টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করছিলেন। টাকা না পাওয়ায় মঙ্গলির উপর শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। দিনের পর দিন তা বাড়তে থাকে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ বৃহস্পতিবার ভোরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন মঙ্গলি। ঘটনার দিনই তাঁর বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে বধূ নির্যাতন ও পণের কারণে মৃত্যুর ধারায় মামলা রুজু করেছে থানা।