ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নের প্রথম দু’দিনে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে জেলার কোথাও মনোনয়ন জমা পড়েনি। বিরোধীরা বিভিন্ন ব্লকে পঞ্চায়েত স্তরে মনোনয়ন জমা দিচ্ছে। সাধারণত শাসক দল আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করে ভোটের মাঠে নামে। সেখানে পূর্ব বর্ধমানে মনোনয়ন জমার নিরিখে তৃণমূলের ‘পিছিয়ে’ থাকার কারণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
জেলায় পঞ্চায়েত স্তরে ৪,০১০টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৪০ ও জেলা পরিষদে ৬৬টি আসন রয়েছে। গত বারের চেয়ে এ বার আসন অনেকটা বেড়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, সে কারণে এক-তৃতীয়াংশ আসনে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া, গলসি, জামালপুর, মেমারি, আউশগ্রাম, ভাতার, রায়না, মঙ্গলকোটের মতো বেশ কয়েকটি ব্লকে প্রার্থী নিয়ে দলে ‘দ্বন্দ্ব’ রয়েছে। দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে ওই সব এলাকা থেকে পাল্টা তালিকা দলীয় নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে। রাজ্য তৃণমূল সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি আঁচ করে রাজ্যের কোনও বরিষ্ঠ নেতাকে পূর্ব বর্ধমানে পাঠানো হতে পারে।
তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, ‘নবজোয়ার যাত্রায়’ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে নতুন মুখ তুলে আনার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরভোটের সময়েও অনেক জায়গায় নতুনদের তুলে আনা হয়। এ বার মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ আসনে নতুনদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভেবেছে জেলা তৃণমূল। যুবদের পাশাপাশি সমাজের নানা স্তরে প্রতিষ্ঠিত, এমন লোকজনকেও এ বার প্রার্থী করতে চাইছে দল। আবার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন লোকজনকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল। বিদায়ী পঞ্চায়েতের তিন স্তরে দায়িত্বে থাকা পদাধিকারীদের একটা বড় অংশ বাদ যেতে পারেন বলে দলের একাংশের ধারণা। এই কৌশলেই পঞ্চায়েতে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা কাটাতে চাইছেন নেতৃত্ব, মনে করছেন তাঁরা।
বাছাই প্রক্রিয়া কী ভাবে চলছে? জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ব্লক সভাপতি, বিধায়কেরা যৌথ ভাবে প্রার্থীদের নাম পাঠিয়েছেন। জেলা সভাপতিও একটি তালিকা জমা দিয়েছেন। সেই তালিকা ধরে দলীয় স্তরে আলোচনা হয়েছে। পুরনোদের একাংশকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যখাও দলীয় স্তরে বিধায়ক, ব্লক সভাপতিদের দিতে হচ্ছে। একই পদ্ধতি পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও। পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে অঞ্চল সভাপতি, বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিরা নাম জমা দিয়েছেন। তা থেকে দু’টি করে নাম রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। তিনটি স্তরে প্রতিটি নাম ধরে দলের ভোটকুশলী সংস্থা এলাকায় খোঁজ নিচ্ছে। এ ছাড়া, ‘নবজোয়ার যাত্রায়’ ভোটাভুটিতে উঠে আসা নাম নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
পাঁচ দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সারা যাবে? জেলা তৃণমূলের এক নেতার দাবি, ‘‘জেলা পরিষদ আর পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। পঞ্চায়েত স্তরে গ্রাম ধরে প্রার্থী-সমীক্ষা চলছে। আশা করা যায়, রবিবার রাত থেকে পর্যায় ক্রমে প্রার্থী ঘোষণা হবে।’’ এর মধ্যে আউশগ্রাম ও কালনায় দলের অনেকে ফর্ম তুলেছেন। তাঁদের নাম প্রার্থিতালিকায় না থাকলে ‘গোঁজ’ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)