মাস খানেকের মধ্যেই স্কুলে স্কুলে শুরু হবে ফাইনাল পরীক্ষা। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের ভিড় নেই বই দেখা বা কেনায়। এর জেরে আসানসোলের শিশু বইমেলা চত্বর কার্যত খাঁ খাঁ করছে। তেমন বিক্রিবাটা না হওয়ায় মাথায় হাত বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীদেরও।
চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে আসানসোল স্টেডিয়ামের পাশেই বসেছে শিশু বইমেলার আসর। চলবে ২৯ তারিখ পর্যন্ত। মোট ২৩টা স্টল বসেছে এ বারের মেলায়। মেলার আয়োজন করেছে ‘অবকাশ’ নামে একটি সংগঠন। মেলা শুরুর দিন থেকেই খুদে ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় তেমন চোখে পড়ছে না বলে জানান সাংস্কৃতিক কর্মীদের একাংশ। বছর পাঁচেক আগে রবীন্দ্র ভবণ চত্বরে শিশু বইমেলা প্রথম শুরু হয়।
শুরুর দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মেলায় বই বিক্রির হারও তেমন ভাল নয় বলে জানালেন মেলায় যোগ দেওয়া একাধিক প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা। শেখ ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি জানান, মেলায় খুদে ও তাদের অভিভাবকদের ভিড় একেবারেই নেই। আরও এক প্রকাশনা সংস্থার কর্মী হরিপদ শীলের মতে, ‘‘শিশু বইমেলা ঠিক ভাবে প্রচার না হওয়াতেই এমন হাল হয়েছে।’’
বেশ কয়েকজন প্রকাশনা সংস্থার কর্মী জানান, তাঁরা প্রতিবারই মেলায় আসেন, তবে এ বারে হাল খারাপ। তাঁদের মতে, সামনেই বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষা। তাই পড়াশোনা কামাই করে অনেকেই মেলায় আসতে চায়নি।
লোকসান সামলাতে অনেকে আবার ভাবছেন, হয়তো স্টল ভাড়া এ বার বেশ কম দিতে হবে।
তবে মেলা চত্বরেই ঘুরতে দেখা গেল দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া শৌমিক চট্টোপাধ্যায়ের মতো দু’-এক জনকে। মায়ের হাত ধরে বই দেখতে দেখতেই তার মন্তব্য, ‘‘মেলায় এসে খুব ভাল লাগছে।” আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক সুমন দাসের যদিও বলেন, ‘‘আশা করছি মেলার শেষ দু’দিনে কিছুটা হলেও ভিড় জমাবে এলাকার খুদেরা।’’